ডিজিটাল দেশ গঠনে আরেক ধাপ অগ্রগতি
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
একবিংশ শতাব্দীতে তথ্যপ্রযুক্তির সক্ষমতার উপর বহুলাংশে নির্ভরশীল একটি দেশের জাতীয় অগ্রগতি। এই সত্যকে এখন পাশ কাটাইবার উপায় নাই। অত্যন্ত আনন্দের ব্যাপার হইল, সম্প্রতি উদ্বোধন হইয়াছে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন ‘সি-মি-ইউ-ফাইভ’। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ভারত হইয়া ইউরোপের ফ্রান্স পর্যন্ত বিস্তৃত হইয়াছে ইহার সংযোগ লাইন। দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে কনসোর্টিয়ামের সহিত চুক্তি করে বাংলাদেশ। গত রবিবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে ইহার বাণিজ্যিক ব্যবহারের পথ উন্মুক্ত হইবার বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে দেশের টেলিযোগাযোগের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কারণ নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা প্রদানের নিমিত্ত আরো একটি সাবমেরিন ক্যাবলের সহিত যুক্ত হওয়াটা অত্যন্ত জরুরি হইয়া পড়িয়াছিল।

এতদিন ধরিয়া বহির্বিশ্বের সহিত বাংলাদেশের যোগাযোগের একটি মাত্র সাবমেরিন ক্যাবল ছিল। কিন্তু ইহার কোথাও কখনো কোনো ত্রুটি দেখা দিলে তথ্যপ্রযুক্তিগত যোগাযোগে বাংলাদেশ পরিণত হইয়া পড়িত প্রায় বিচ্ছিন্ন দ্বীপে। কারণ আমাদের সামান্য স্যাটেলাইট ব্যান্ডউইথ ব্যাকআপ হিসাবে রহিয়াছে। স্মর্তব্য যে, বিনা খরচে ১৯৯১ ও ১৯৯৪ সালে দুইবার আইআইজি বা আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবল নেটওয়ার্কের সহিত যুক্ত হইবার সুযোগ পাইয়াছিল বাংলাদেশ। কিন্তু তত্কালীন সরকারের পক্ষ হইতে দেশের তথ্য ফাঁস হইয়া যাইবে মর্মে কল্পিত জুজুর ভয়ে সেই প্রস্তাব ফিরাইয়া দেওয়া হয়। সরকারের সেই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত দেশকে তথ্যপ্রযুক্তির বিশাল জগতে প্রবেশের সুযোগ হইতে বঞ্চিত করে। পরবর্তীকালে দেশের নিজস্ব তহবিল হইতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করিয়া ২০০৬ সালে প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল স্টেশন স্থাপন করা হয়। জানা যায়, কক্সবাজার দিয়া আসা প্রথম সাবমেরিন ক্যাবলের তুলনায় দ্বিতীয় এই ক্যাবল প্রায় পাঁচগুণ ক্ষমতাসমপন্ন। স্বাভাবিকভাবেই ইহার ফলে বৃদ্ধি পাইবে ইন্টারনেটের গতি। স্বল্পমূল্যে উন্নতমানের নিরবচ্ছিন্ন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা প্রদানের সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাইবে। আশা করা যাইতেছে, দেশের টেলিকম কোম্পানিগুলিকে বিদেশ হইতে আর ব্যান্ডউইথ ক্রয় করিতে হইবে না। মনে রাখিতে হইবে, ইন্টারনেটের প্রাণশক্তি হইল ‘ব্যান্ডউইথ’, যাহার উচ্চগতির জোগান সম্ভব হইবে নূতন এই সাবমেরিন ক্যাবল দিয়া। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেটের এই ব্যান্ডউইথ শক্তি ছাড়া অচল। আর প্রতিষ্ঠান হইতে ব্যক্তিপর্যায় পর্যন্ত সকল ক্ষেত্রেই আজ এই প্রযুক্তিশক্তির ব্যবহার অপরিহার্য হইয়া উঠিয়াছে। সুতরাং এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিপণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে জোগান দেওয়ার বিষয়টি ডিজিটাল দেশ গঠনে অন্যতম প্রধান শর্ত বলা যায়।

আমরা দেখিতে পাইয়াছি, প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল স্টেশনের কল্যাণে বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে এক ধরনের বিপ্লব সাধিত হইয়াছে। আউটসোর্সিং খাতে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যতম নেতৃস্থানীয় দেশ। অতএব দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের বাণিজ্যিক যাত্রার পর আশা করা যায়, আউটসোর্সিং খাতে এবং ডিজিটাল দেশ গঠনে ইহা তাত্পর্যপূর্ণ অবদান রাখিতে সক্ষম হইবে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:২৯
যোহর১১:৫৫
আসর৪:২০
মাগরিব৬:০৭
এশা৭:২০
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০২
পড়ুন