অসমাপ্ত সেতুগুলি সমাপ্ত হইবে কবে?
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
এক দশক ধরিয়া শতাধিক সেতুর কাজ অসমাপ্ত। ইহার মধ্যে কোনোটির পিলার বসানো শেষ হইলেও মূল সেতুর কাজ শুরু করা হয় নাই। কোনোটির কাজ আবার অর্ধেক বাকি। কোনো কোনোটির মূল কাজ শেষ হইয়াছে বটে, কিন্তু অ্যাপ্রোচ বা সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয় নাই। এই কারণে সেতুটি হয় নাই ব্যবহার উপযোগী। যেমন—পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার নৌবাড়িয়া নতুনপাড়া ঘাটে গোমানী নদীর ওপর সেতুটির জন্য ১১ বত্সরে আটবার দরপত্র আহ্বান ও চারবার ঠিকাদার পরিবর্তন করা হইয়াছে। তথাপি ইহার অর্ধেক কাজও শেষ হয় নাই। গত ১২ বত্সরেও শেষ হয় নাই পঞ্চগড়ের মাগুরা ইউনিয়নের ঘুমটি-ধনীপাড়া সড়কে টাঙ্গন নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ। আবার চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বৈলতলী ইউনিয়নে শঙ্খ নদীর ওপর খোদার হাট সেতুর নির্মাণকাজ ১৯৯৫ সালে শুরু হইলেও গত দুই দশকেও তাহা শেষ হয় নাই।

আমাদের দেশে অসমাপ্ত সেতুগুলি পুরাপুরি চালু করিতে একসময় গ্রহণ করা হয় ‘অসমাপ্ত সেতুসমূহ সমাপ্তকরণ’ প্রকল্প। দুঃখজনক ব্যাপার হইল, এই প্রকল্পের মেয়াদ একবার সংশোধনের পর ২০১৫ সালে সমাপ্ত হইলেও খোদ এই প্রকল্পের অধীন অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের কাজ শেষ হয় নাই। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে অন্তত তাহাই বলা হইয়াছে। যথাসময়ে এইসব সেতুর কাজ সমাপ্ত না হইবার পিছনে রহিয়াছে রাজনৈতিক বিবেচনাসহ বিবিধ কারণ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর হইতে চেষ্টা করিয়াও কাজটি শেষ করিতে না পারায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানত বাজেয়াপ্ত করিবার ঘটনাও ঘটিয়াছে। অর্থ সংকটের কারণেও অনেক সেতুর কাজ বন্ধ হইয়া গিয়াছে। ইহা ছাড়াও এই ধরনের অধিকাংশ সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয় পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন, জনগুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ যোগাযোগ, হাট-বাজার উন্নয়ন ও পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায়। কিন্তু গত বত্সর তথা ২০১৬ সালে এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হইয়া গিয়াছে। ফলে দেখা দিয়াছে জটিলতাও। আবার অসততা ও অনিয়ম এবং কিছু টেকনিকাল সমস্যার কারণেও এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হইতে পারে।

একটি সেতু নির্মাণের সহিত সংশ্লিষ্ট এলাকার হাজার হাজার মানুষের স্বপ্ন জড়িত। এই সেতু তাহাদের জীবন চলার পথে গতি বাড়াইয়া দিবে এবং জীবনমানে ইতিবাচক পরিবর্তন আনিবে—ইহাই প্রত্যাশিত। কিন্তু বত্সরের পর বত্সর ধরিয়া পূর্ণাঙ্গ সেতুর বদলে কেবল কিছু পিলার দাঁড়াইয়া থাকিতে দেখিয়া ভুক্তভোগী জনগণের দীর্ঘশ্বাসই কেবল বাড়িতেছে। এইভাবে সেতুর কাজ ফেলিয়া রাখায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে অর্থেরও অপচয় হইতেছে। অথচ অনেকে দিনের পর দিন বাঁশের সেতু দিয়া বহু কষ্টে নদী বা খাল পার হইতেছেন। এমতাবস্থায় অসমাপ্ত সেতুসমূহ সমাপ্তকরণের নূতন উদ্যোগ নেওয়া আবশ্যক। জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ অসমাপ্ত সেতুসমূহ নির্মিত হইলে এইসব এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন, সহজ ও সময় সাশ্রয়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়িয়া উঠিবে। সেই সাথে ইতিবাচক প্রভাব পড়িবে তাহাদের জীবনমানেও।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:২৯
যোহর১১:৫৫
আসর৪:২০
মাগরিব৬:০৭
এশা৭:২০
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০২
পড়ুন