পরিপত্র কি শিশুদের পিঠ ভারমুক্ত করিবে?
১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ইং
অবশেষে বিদ্যালয়গামী শিশুদের ব্যাগে সরকার অনুমোদিত বই ও উপকরণ ছাড়া অন্য কিছু না দিতে অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি নির্দেশনা দিয়া পরিপত্র জারি করিয়াছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। গত ৫ অক্টোবর জারিকৃত এই পরিপত্রে বলা হয়, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রাথমিক বিদ্যালয়গামী শিশুদের জন্য যেইসকল বই অনুমোদন করিয়াছে, তাহা পরিবহনে কোনো ছেলেমেয়ের সমস্যা হইবার কথা নহে। আদালতের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করিয়া বলা হয়, ভারী ব্যাগ বহনের কারণে যাহাতে পিঠে ব্যথা বা সোজা হইয়া দাঁড়ানোর মতো সমস্যা দেখা না দেয়, সেই জন্য অনুমোদিত বই ও উপকরণ ছাড়া অন্য কিছু ব্যাগে করিয়া বিদ্যালয়ে বহিয়া আনা নিরুত্সাহিত করিতে হইবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সকল শিক্ষক, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি ও অভিভাবকদের এ বিষয়টি নিশ্চিত করিতে বলা হইয়াছে। উল্লেখ্য যে, উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের শরীরের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি ভারী স্কুলব্যাগ বহন নিষেধ। গত বত্সরের ডিসেম্বরে হাইকোর্ট এই সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি ছয় মাসের মধ্যে সুনির্দিষ্ট একটি আইন প্রণয়ন করারও নির্দেশ জারি করিয়াছিলেন আইনসচিব, শিক্ষাসচিব, গণশিক্ষাসচিবসহ বিবাদীদের প্রতি। আইন হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শরীরের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি ওজনের ব্যাগ বহন করা যাইবে না— এই মর্মে নূতন করিয়া একটি সার্কুলার জারি করিতেও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হইয়াছিল। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের জারিকৃত পরিপত্রটি সেই নির্দেশনারই ফলশ্রুতি।

পরিতাপের বিষয় হইল, উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশের পরও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয় নাই। অনির্ধারিত বইয়ের বোঝা হইতে মুক্তি মিলে নাই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। প্রমাণের অভাব নাই। জানা যায়, সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলি সাধারণত সরকার-নির্ধারিত বই পড়াইলেও শহরকেন্দ্রিক বিদ্যালয়গুলি, বিশেষ করিয়া বেসরকারি বিদ্যালয়গুলি নির্ধারিত বইয়ের পাশাপাশি আরও কিছু বাড়তি বই পড়িতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করে। বইয়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত খাতাসহ আরো কিছু উপকরণও চাপাইয়া দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের উপর। ইংরেজিমাধ্যম বিদ্যালয়গুলিও ইহার ব্যতিক্রম নহে। প্রকাশ্যে এই চর্চা দীর্ঘদিন ধরিয়া চলিয়া আসিলেও দেখিবার কেহ নাই। নাই কোনো প্রকার নজরদারি। প্রসঙ্গত স্মরণ করা যাইতে পারে যে, আদালতের নির্দেশনা জারির আগে ২০১৪ সালের ১১ ডিসেম্বর সরকারও একটি সার্কুলার জারি করিয়াছিল। কিন্তু তাহা কার্যকর হয় নাই। কেন হয় নাই তাহা যেমন ভুক্তভোগীদের অজানা নহে, তেমনি শিক্ষার্থীদের ঘাড়ে অতিরিক্ত বই-খাতা চাপাইয়া দেওয়ার রহস্যটিও সুবিদিতই বলা চলে। অথচ আদালতের রায়েই স্পষ্টভাবে বলা হইয়াছিল যে, ভারী ব্যাগ বহনের কারণে শিশুদের মেরুদণ্ডের হাড় বাঁকা হইয়া যায়। স্বাস্থ্যগত জটিলতার পাশাপাশি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ে শিশুরা। যাহাদের আমরা প্রায়শ জাতির ভবিষ্যত্ বলিয়া সম্বোধন করিয়া থাকি গর্বভরে, তাহাদের এই অপূরণীয় স্বাস্থ্যঝুঁকি সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, স্কুল কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয়ের এই উদাসীনতা দুর্ভাগ্যজনকই বলিতে হইবে। তাহারা তাহাদের দায়িত্ব পালনে আন্তরিক না হইলে কেবল পরিপত্র জারি করিয়া যে পরিস্থিতি পাল্টানো যাইবে না তাহা বলার অপেক্ষা রাখে না।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৩৯
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৫৬
মাগরিব৫:৩৮
এশা৬:৪৯
সূর্যোদয় - ৫:৫৫সূর্যাস্ত - ০৫:৩৩
পড়ুন