অশান্তি দুর্ভোগ দুর্ভিক্ষের নেপথ্যে
১৪ নভেম্বর, ২০১৭ ইং

স্মরণকালের ভয়াবহতম দুর্ভিক্ষের মুখে পড়িয়াছে ইয়েমেন—এই মর্মে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করিয়াছেন জাতিসংঘের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে আকাশ, নৌ ও স্থলপথে অবরোধের কারণে দ্রুত সাহায্য পৌঁছানো সম্ভবপর হইতেছে না বলিয়া অভিযোগ করিয়াছে জাতিসংঘ। অবরোধের কারণে ইয়েমেন এখন পরিণত হইয়াছে মৃত্যুকূপে। রেডক্রিসেন্ট বলিতেছে, কলেরা মহামারির ঝুঁকিতে থাকা প্রায় ৯ লাখ ইয়েমেনির জন্য তাহাদের ক্লোরিন ট্যাবলেটের একটি চালান অবরোধে আটকাইয়া গিয়াছে। অন্যদিকে জাতিসংঘ বলিতেছে, অবরোধের কারণে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রহিয়াছেন অন্তত ৭০ লক্ষ ইয়েমেনি। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির সিংহভাগ নাগরিকই বাহিরের সাহায্যের উপর নির্ভরশীল। আশঙ্কা করা হইতেছে, গত কয়েক দশকে বিশ্বের সবচাইতে বড় দুর্ভিক্ষের মুখে পড়িতে যাইতেছে ইয়েমেন।

মধ্যপ্রাচ্যের নানা দেশে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হইয়াছে—তাহা কি এক অর্থে জিঘাংসা নহে? যাহারা ছিলেন অর্থে বিত্তে যাপিতজীবনে সচ্ছল, স্বাবলম্বী ও সামাজিকভাবে বিকশিত—তাহাদের একটি অংশকে আজ পথের ভিখারী বানানো হইয়াছে। সিরিয়া, ইরাক, লিবিয়া, মিসর প্রভৃতি দেশে কথিত গণতন্ত্র রফতানির নামে যে অরাজকতার বীজ বপন করা হইয়াছে, তাহার চড়া মাশুল গুনিতে হইতেছে সাধারণ নাগরিকদের। অন্যদিকে ইহার নেপথ্যে রহিয়াছে পরাশক্তিদের গভীর পরিকল্পনা। পরিতাপের কথা হইল, এইসকল বিষবৃক্ষ রোপণের দোসর হইয়াছেন ওই সকল দেশেরই ক্ষমতাবিলাসী একটি অংশ।

পরাশক্তিদের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী যুগ যুগ ধরিয়া পরিবর্তন ঘটিয়া চলিতেছে বিশ্বের ভূরাজনৈতিক মানচিত্রের। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দেখা যায়, পরাশক্তিরা নিজস্বার্থ এবং অনুগত রাষ্ট্র ছাড়া আর কিছুই বোঝে না। যুক্তরাষ্ট্রের পর শক্তির বিচারে বর্তমানে দ্বিতীয় সারিতে থাকা রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, জাপান, ভারত, ব্রাজিল প্রভৃতি দেশ পদক্ষেপ ফেলিতেছে নিজ নিজ প্রভাববলয় বৃদ্ধির সূক্ষ্ম হিসাবনিকাশের ভিতর দিয়া। পরাশক্তিদের এই ভূরাজনৈতিক কূটকৌশল তাহাদের প্রভাববলয় সমুন্নত রাখিবার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এইক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক পরাশক্তিও প্রয়োজন অনুযায়ী স্বৈরতান্ত্রিক বা নৃশংস আচরণ করিতে দ্বিধা করে না। বর্তমানে এক মেরুর বিশ্ব হইতে বহু মেরুর বিশ্বে রূপান্তর এবং নূতন নূতন শক্তির বিকাশের মধ্য দিয়া পরিবর্তন ঘটিয়া চলিয়াছে বিশ্বের ভূরাজনৈতিক মানচিত্রের। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, নূতন পরাশক্তির প্রভাববলয়ে থাকা একটি জনপদ কখনো পূর্বের পরাশক্তি নির্দেশিত নিয়মে আর পরিচালিত হইতে পারে না। স্বাভাবিকভাবেই পরাশক্তির ইচ্ছায় চলে নূতন ভাঙাগড়া। এই ভাঙাগড়ায় কত জনপদ ধ্বংস হইল, কত মানুষ প্রাণ হারাইল, কত মানুষ ছিটকাইয়া পড়িল তাহার উন্নত জীবন হইতে, গায়ে গাঁথিল শরণার্থীর তকমা—পরাশক্তিদের তাহাতে কিছুই আসে যায় না।

বিশ্বব্যাপী বর্তমানে যত যুদ্ধ, যত অশান্তি, যত দুর্ভোগ-দুর্ভিক্ষ—সবই ঘটিয়া চলিতেছে কোনো না কোনো পরাশক্তির অঙুলি হেলনে। এক বিষম পুতুল খেলা চলিতেছে বিশ্বব্যাপী, সেই অনুযায়ী নাচিতেছে সকল পুতুল। আমরা দর্শক মাত্র। কেবল এই আশা প্রকাশ করিতে পারি যে, পরাশক্তিরা যেন ভুলিয়া না যায়—সবার উপরে মানুষ সত্য।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৫৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পড়ুন