শীতলক্ষ্যার এই হাল কেন?
১৪ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
রাজধানীর পার্শ্ববর্তী শীতলক্ষ্যা নদীটি দূষণ ও আবর্জনায় জর্জরিত হইয়া পড়িয়াছে। নারায়ণগঞ্জ শহর হইতে কাঁচপুর পর্যন্ত নদী তীরে গড়িয়া ওঠা অধিকাংশ কারখানার রাসায়নিক বর্জ্যই অবাধে গিয়া মিশিতেছে এই নদীতে। বন্দর খেয়াঘাট, তিন ও পাঁচ নম্বর ঘাটের উভয় পার্শ্বে জমিয়া উঠিয়াছে বিশাল আবর্জনার স্তূপ। নদী তীরের বাঁধানো রাস্তার চিত্রও ভিন্ন নহে। নকশা করা টালি বিছাইয়া জনগণের হাঁটাচলার পথ তৈরি করা হইলেও যত্রতত্র জমিয়া থাকা ময়লা-আবর্জনার কারণে তাহা ব্যবহারের অনুপযোগী হইয়া পড়িয়াছে। একই কারণে নদী তীরবর্তী স্থানে স্থাপিত বেঞ্চগুলিও এখন প্রায় পরিত্যক্ত। আবর্জনার উত্কট গন্ধে অতিষ্ঠ হইয়া উঠিয়াছে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন।

ঢাকার চারপাশ দিয়া প্রবাহিত নদীগুলিকে ঢাকার লাইফলাইন বলা যায়। কয়েকশত বত্সর ধরিয়া ঢাকাকে কেন্দ্র করিয়া সমৃদ্ধ নাগরিক সভ্যতা গড়িয়া উঠিবার মূলে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও বালু নদীর প্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখিয়াছে। অথচ গত কয়েক দশকে ঢাকার চারিপার্শ্বের নদীগুলি প্রায় মরিতে বসিয়াছে। যদিও নদী দখল রোধে উচ্চ আদালত হইতে বারবার নির্দেশনা দেওয়া হইয়াছে। নদী রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও অভিযান পরিচালনা করিতে দেখা যায় বিভিন্ন সময়ে। কিন্তু এইসকল অভিযানের কোনো সুফলই বাস্তবে লক্ষ্য করা যায় নাই। বরং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তাকে পুঁজি করিয়া অবৈধ দখল ও দূষণ বাড়িয়াই চলিয়াছে দিন দিন। সমানতালে অব্যাহত আছে অপরিকল্পিত নগরায়ন ও শিল্পায়ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন কারখানানির্গত ক্ষতিকর রাসায়নিক বর্জ্যের প্রভাবে নদীর পানি অধিকহারে দূষিত হয়। পানির রং পরিবর্তন হওয়াসহ এইসকল রাসায়নিক বর্জ্য পানিতে জীব ও প্রাণীর জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের মাত্রা কমাইয়া দেয়। ফলে ক্রমেই নদীটি পরিণত হয় একটি মৃত নদীতে। আর এইভাবেই বাংলাদেশের মানচিত্র হইতে হারাইয়া গিয়াছে অসংখ্য নদ-নদী। কাগজে-কলমে শাখা-প্রশাখাসহ দেশে প্রায় ৮০০ নদ-নদী বিপুল জলরাশি নিয়া ২৪ হাজার ১৪০ কিলোমিটার জায়গা জুড়িয়া জালের মতো ছড়াইয়া থাকিবার কথা বলা হইলেও বর্তমানে সচল নদীর সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়া আসিয়াছে। তাই নদীকেন্দ্রিক জীবন-জীবিকা এবং সংস্কৃতিও এখন বিলুপ্তপ্রায়।

শীতলক্ষ্যাসহ দেশের যেই সকল নদী জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে, ড্রেজিং করাসহ নদীর দুই পাড় সংরক্ষণ, পানির দূষণ রোধে ময়লা-আবর্জনা বিশেষত ক্ষতিকর বর্জ্য ও পলিথিন ব্যাগ উত্তোলনের মাধ্যমে এই নদীগুলির প্রাণপ্রবাহ রক্ষা করিতে হইবে। বন্ধ করিতে হইবে কারখানার ক্ষতিকর বর্জ্য নির্গমন। আধুনিক বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপন বাধ্যতামূলক করিতে হইবে। নদী সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে আরো সক্রিয় হইতে হইবে। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা রোধে সিটি করপোরেশনের আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করিবার সুযোগ রহিয়াছে। পাশাপাশি নদ-নদীকে দখল-দূষণের হাত হইতে রক্ষার ব্যাপারে জনগণকেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করিতে হইবে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৫৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পড়ুন