বন্দরনগরীতে গণপরিবহন সংকট
০৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং

ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনসংখ্যা দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাইতেছে চট্টগ্রাম মহানগরীতে। কিন্তু ইহার সমান্তরালে নগরীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আসে নাই। যাত্রীসংখ্যার তুলনায় গণপরিবহনের সংখ্যা কম হইবার কারণে নিত্যদিন বিড়ম্বনার শিকার হইতেছেন বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ। চট্টগ্রামে গণপরিবহনের সংখ্যা গত এক দশকে বৃদ্ধি পায় নাই তেমন একটা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্যানুযায়ী, ১৯৯০ সাল হইতে চলতি বত্সরের আগস্ট অবধি মহানগরীতে নিবন্ধিত হইয়াছে ২ লক্ষ ৯৮৫টি যানবাহন, যাহার মধ্যে গণপরিবহন রহিয়াছে মাত্র ৩ হাজার ৮৭৯টি। অর্থাত্ নিবন্ধিত যানবাহনের মাত্র ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ গণপরিবহন। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত এতদসংক্রান্ত তথ্য হইতে জানা যায়, প্রায় তিন যুগ ধরিয়া নিবন্ধন হওয়া যানবাহনের ভিত্তিতে বাস ও মিনিবাসের সংখ্যা প্রায় চার হাজার বিবেচনা করা হইলেও ইতোমধ্যে এক-তৃতীয়াংশের বেশি যানবাহন পরিত্যক্ত হইয়াছে। স্বাভাবিকভাবেই, ৬০ লক্ষ মানুষের মহানগরীতে এত কম সংখ্যক গণপরিবহন মহানগরীর যানবাহন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে নাজুক করিয়া তুলিতেছে।

ইহা ঠিক যে, বন্দরনগরীতে সড়ক সম্প্রসারণ, ফ্লাইওভার নির্মাণসহ নানাবিধ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হইয়াছে এবং হইতেছে। তাহা সত্ত্বেও যানজটের তীব্রতা বাড়িয়াই চলিতেছে। ট্রাফিক বিভাগ বিভিন্ন সময়ে তদারকির মাধ্যমে যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করিলেও একটি আধুনিক ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করিতে হইতেছে নগরবাসীকে। সম্প্রতি ১১ দফা দাবিতে চট্টগ্রাম নগরীতে গণপরিবহন মালিকেরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডাকিয়াছিল। তাহাদের দাবি ছিল— পুলিশের হয়রানি, অনিবন্ধিত ও ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধ এবং পরিবহন সেক্টরে তত্পর বিভিন্ন অবৈধ সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের। এইসকল দাবিও আমলে লইতে হইবে। চট্টগ্রাম শহরের গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা লইয়া ১০ বত্সর মেয়াদি একটি মহাপরিকল্পনা তৈরির কাজ শুরু করিয়াছে বিশ্বব্যাংক ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। খসড়া মহাপরিকল্পনায় দেখা গিয়াছে, চট্টগ্রাম শহরের ৭৫ শতাংশ যাত্রীই গণপরিবহন বা বাস সার্ভিস ব্যবহার করেন বা করিতে চাহেন, যদিও সড়কের মাত্র ১৭ শতাংশ ব্যবহার করে বাস। অন্যদিকে প্রাইভেট কার চট্টগ্রাম শহরের মাত্র ৫ শতাংশ যাত্রী পরিবহন করিলেও সড়কের ২৯ শতাংশ দখল করিয়া থাকে। ইহা ছাড়া রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা ৬ শতাংশ যাত্রী পরিবহনের বিপরীতে ২৭ শতাংশ সড়ক জুড়িয়া থাকে। ফলে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও জংশনগুলোতে প্রতিনিয়তই গাড়ির জটলা দেখা যায়। কোন গাড়ি কোথায় দাঁড়াইবে তাহার কোনো স্থান নির্দিষ্ট করিয়া দেওয়া নাই। ফলে যেখানে-সেখানে গাড়ি থামাইয়া যাত্রী ওঠা-নামা করিতে দেখা যায়। যানজট সৃষ্টিতে অযান্ত্রিক যানবাহনও বড় সমস্যা। দেখা যায় যে, নগরের মূল সড়কসমূহে গণপরিবহনের চাইতে অযান্ত্রিক যানবাহনের (রিকশা, ভ্যান ইত্যাদি) সংখ্যা বেশি। সুতরাং বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণসাপেক্ষে অযান্ত্রিক যানবাহন নিয়ন্ত্রণের অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন সার্বিক বিবেচনায়। পাশাপাশি নগরের উপর চাপ কমাইতে হইবে। গণপরিবহনে উঠিতে গিয়া নারী যাত্রীরাও বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্তের শিকার হন। ইহা প্রতিরোধেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৭ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৫:০৭
যোহর১১:৫০
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:২৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পড়ুন