প্রাথমিক শিক্ষার এই হাল কাম্য নহে
০৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
আমাদের স্কুলগুলিতে আজকাল পড়াশুনা কতটা হয় তাহা নিয়া অনেকেই সন্দিহান। একদিকে লেখাপড়া অনেকটাই পরীক্ষাকেন্দ্রিক হইয়া পড়িয়াছে, প্রকৃত শিক্ষা হইয়া পড়িয়াছে গৌণ, তাহার উপর সেই পরীক্ষার পড়াটাও ঠিকমত হয় না। এইজন্য কোচিং, প্রাইভেট ও টিউশনির ওপর নির্ভরতা বাড়িতেছে। ইহাতে শিক্ষার্থী যেমন, তেমনি অভিভাবকদেরও নাভিশ্বাস উঠিতেছে। আগেও কোচিং-প্রাইভেট ছিল, তবে এখন তাহা অনেকটাই বাধ্যতামূলক হইয়া উঠিয়াছে। সমপ্রতি জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়ন (এনএসএ) নামক একটি সরকারি প্রতিবেদন প্রকাশিত হইয়াছে। তাহাতে দেখা যায়, প্রাথমিক শিক্ষার অবস্থা ভালো নহে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার মাত্র ৪০ শতাংশ পূরণ হয়। বাকি ৬০ শতাংশই নির্ভর করে শিক্ষার্থীদের নিজ প্রচেষ্টার ওপর। অথচ উন্নত বিশ্বে শিক্ষার্থীদের শিখন অর্জনে স্কুলের ভূমিকাই ৭০ শতাংশ। শিক্ষার্থীদের কার্যক্রম বা উপাদানের ভূমিকা সেখানে মাত্র ৩০ শতাংশ। প্রাথমিক এই শিক্ষা অবৈতনিক। অথচ এই স্তরেও শিক্ষার ব্যয় বাড়িতেছে হু হু করিয়া। ফলে অনেকেই এই শিক্ষাব্যয়ের সহিত তাল মিলাইতে পারিতেছেন না। আমাদের লেখাপড়ার মান কেন দিন দিন পড়িয়া যাইতেছে, তাহা প্রাথমিক শিক্ষার এই হাল দেখিয়াও কিছুটা উপলব্ধি করা সম্ভব। বিশেষত বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা অর্জন কাঙ্ক্ষিত হারে হইতেছে না যাহা রীতিমত উদ্বেগজনক বৈকি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ইহার আগে বিশ্বব্যাংক ২০১৫ সালে বাংলাদেশের শিশুদের শিখন মানের ওপর একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাহাতেও দেখা যায় হতাশাজনক চিত্র। এই প্রতিবেদন অনুযায়ী পঞ্চম শ্রেণির মাত্র ২৫ শতাংশ শিশু বাংলায় এবং ৩৩ শতাংশ গণিতে প্রত্যাশিত দক্ষতা অর্জন করিতে সক্ষম হইয়াছে। তৃতীয় শ্রেণির বেশিরভাগ শিক্ষার্থী সাবলীলভাবে বাংলা পড়িতে পারে নাই। অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শিখন মানও ছিল স্তরভেদে অভিন্ন। শিক্ষার দৈন্যদশার এই চিত্র মোটেও প্রত্যাশিত নহে।  সরকার শিক্ষার উন্নয়নে একটির বদলে দুইটি মন্ত্রণালয় গঠন করিয়াছে। তাহার পরও কেন এই হতশ্রীদশা? উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখিতে হইলে মানসম্পন্ন শিক্ষার কোনো বিকল্প নাই। সুতরাং সময় থাকিতেই আমাদের সাবধান হইতে হইবে।

উপর্যুক্ত পরিস্থিতিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রমকে আরো আকর্ষণীয় করা এবং একেকটা স্কুলকে ‘চাইল্ড কেয়ার হোম’-এ পরিণত করিবার উদ্যোগ নিতেছে বলিয়া জানা যায়। এইজন্য অভিভাবকদের সচেতনতা সৃষ্টিতে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়িও যাইবেন। এমন উদ্যোগ মন্দ নহে। কিন্তু তাহার আগে অবকাঠামোগত সমস্যা দূর করিয়া সৃজনশীল পদ্ধতিসহ ইতোমধ্যে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ দরকার। বিদেশের কাঠামোগত পদ্ধতিকে আমরা সৃজনশীল পদ্ধতি বলিয়া চালাইয়া দেওয়ার কারণেই কি শিক্ষকরা এতদিন পরও অসহায়ত্ব প্রকাশ করিতেছেন? শিক্ষা নিয়া এক্সপেরিমেন্ট বেশি হওয়ায় এবং পরীক্ষা পদ্ধতিকে আধুনিক প্রযুক্তির সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ করিতে না পারায় ও মাত্রাতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণের কারণেই কি শিক্ষাখাতে তৈরি হইয়াছে এমন সংকট? এই ব্যাপারে সম্মানিত শিক্ষাবিদদের মতামত নিয়া অগ্রসর হওয়াটাই হইবে উত্তম।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৭ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৫:০৭
যোহর১১:৫০
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:২৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পড়ুন