সময় থাকিতে নিজেদের সংশোধন করুন
১৩ জানুয়ারী, ২০১৮ ইং
সম্প্রতি দেশের শীর্ষ পর্যায়ের মোবাইল ফোন অপারেটরের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠিয়াছে। জানা যায়, কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়ন কমিটির বিবেচনায় ‘গ্রামীণ কনসোর্টিয়াম’ অযোগ্য হইয়াছিল সেই ১৯৯৬ সালেই। তবে কোম্পানির মালিকানায় থাকিবেন বাংলাদেশের গ্রামের ‘দুঃস্থ নারীরা’ এমনটিই তত্কালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে বুঝাইবার পর সরকারের বিশেষ বিবেচনায় লাইসেন্স পায় গ্রামীণ কনসোর্টিয়াম। অথচ লাইসেন্স পাওয়ার পরই ‘গ্রামীণফোন’ নাম দিয়া ব্যবসা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। ইত্তেফাকে প্রকাশিত প্রতিবেদন হইতে অনুধাবন করা যায়, গ্রামের দরিদ্র নারীদের উন্নয়নের বিষয়টিই প্রধানত গুরুত্বপূর্ণ ছিল বিধায় তদানীন্তন সরকার গ্রামীণ কনসোর্টিয়ামকে লাইসেন্স দেন, অথচ তাহারা এই ব্যাপারে প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করে। সরকারের সহিত তাহাদের চুক্তি হইয়াছিল, সেইখানে স্পষ্ট বলা হইয়াছিল ওই লাইসেন্স হস্তান্তরযোগ্য নহে। সুতরাং ১৯৯৯ সালে গ্রামীণফোনের নামে লাইসেন্স হস্তান্তর করা ছিল সম্পূর্ণই অবৈধ। জানা যায়, কেবল  প্রতারণা আর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ নহে, মূল উদ্যোক্তাকেই জোর করিয়া তাড়াইয়া দেয় গ্রামীণফোন তথা তাহাদের মূল প্রতিষ্ঠান টেলিনর। অতঃপর এই সকল বিষয়ে নানা ধরনের অনিয়ম উঠিয়া আসিয়াছে পত্র-পত্রিকায়। গ্রামীণ ব্যাংক কমিশন দাবি করিয়াছে যে, পুরাতন দলিল ও কাগজপত্র পরীক্ষা করিয়া তাহারা টেলিনরের নানা ধরনের প্রতারণা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রমাণ পাইয়াছে।

বাঁকা পথে আরম্ভ করিয়াও যাহারা ভালোমতোই টিকিয়া থাকেন, তাহাদের নিশ্চয়ই খুঁটির জোর রহিয়াছে। তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলি প্রায়শ উন্নত দেশগুলির দ্বারা পাণ্ডারিং তথা প্রতারণার শিকার হইয়া থাকে। মুশকিল হইল, যেই অসত্ পথে তাহারা ব্যবসা শুরু করিয়াছিলেন, প্রয়োজনমতো সেই পথটি বারংবার ব্যবহার করিতে তাহারা কুণ্ঠিত হইতেছেন না। তাহার গ্রাহকদের বিবিধ ধরনের অফারের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগ রহিয়াছে এন্তার। গত বত্সর দেশের এই শীর্ষ বেসরকারি মোবাইল ফোন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানটিকে আড়াই লক্ষ টাকা জরিমানা করিয়াছিল জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এই দেশের গ্রাহকরা উন্নত বিশ্বের মতো সচেতন নহে বিধায় প্রতারিত হইয়াও তাহারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নীরব থাকেন। খুব বেশি হইলে উক্ত প্রতিষ্ঠানের কাস্টমার কেয়ারে ফোন করিয়া অপারেটরকে দুই-চার কথা শুনাইয়া দেন, কিন্তু তাহাতে প্রতারণা বন্ধ হয় না। মিথ্যা তথ্য বা অফার দিয়া ভোক্তাদের প্রতারিত করিবার পাশাপাশি শর্ত প্রযোজ্যের নামে ছোট ছোট অক্ষরে তাহারা এমন ভাবে শর্ত জুড়িয়া দেয়, যাহাতে সব ধরনের গ্রাহক যথাযথভাবে অনুধাবন করিতে না পারেন অথবা এড়াইয়া যান। বিভিন্ন চটকদার ও  হূদয়স্পর্শী বিজ্ঞাপন দিয়া গ্রাহকদের আকৃষ্ট করিবার ক্ষেত্রেও তাহাদের জুড়ি মেলা ভার। আমাদের মতো গরিব দেশের অধিকাংশ গ্রাহকই অসচেতন হইবেন এবং ক্ষুদ্র অক্ষরে লেখা শর্তাবলী পড়িবেনই না কখনো—ইহাই সর্বাগ্রে বিবেচনা করিতে হইবে। সংশ্লিষ্ট অপারেটররা যাহাতে প্রতারণার ফাঁদ পাতিতে না পারেন, তাহার ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে।

প্রভাবশালী অপারেটরদেরও স্মরণ রাখা উচিত, তাহাদের খুঁটির জোর থাকিতেই পারে, কিন্তু সেই খুঁটির উপর অন্য খুঁটির জোর থাকিতেই পারে। সুতরাং সময় থাকিতে নিজেদের সংশোধন করা প্রয়োজন।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ জানুয়ারী, ২০১৮ ইং
ফজর৫:২৩
যোহর১২:০৭
আসর৩:৫৬
মাগরিব৫:৩৫
এশা৬:৫১
সূর্যোদয় - ৬:৪২সূর্যাস্ত - ০৫:৩০
পড়ুন