স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়িত হউক
১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলিয়াছেন যে, কোনো মাদক ব্যবসায়ীকেই ছাড় দেওয়া হইবে না। এমনকি নিজের দলের মধ্যেও যদি কোনো নেতা-কর্মী মাদক ব্যবসা বা সেবনের সহিত জড়িত থাকে তবে তাহার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হইবে। এই অপকর্মের জন্য প্রয়োজনে তাহাদের ছবি রাস্তায় রাস্তায় পোস্টার ব্যানার আকারে লাগাইয়া দেওয়া হইবে। কারণ সর্বনাশা মাদক দেশের যুব সমাজকে শেষ করিয়া দিতেছে বলিয়া তিনি মনে করেন। গত শনিবার ঢাকার দোহার উপজেলার মুকসুদপুরে একটি কলেজের রজত জয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথাগুলি বলেন। মন্ত্রীর এই উপলব্ধি ও বক্তব্য যথার্থ শুধু নহে, অভিনন্দনযোগ্যও বটে। কিন্তু ইতোমধ্যে পরিস্থিতি যে ভয়াবহ রূপ পরিগ্রহ করিয়াছে তাহাতে মন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারি কতোটা কার্যকর হইবে—সেই প্রশ্ন উঠিতেই পারে। বলা যায়, সকলের চোখের সম্মুখেই বেনোজলের মতো মাদকের আগ্রাসন ছড়াইয়া পড়িয়াছে দেশের আনাচে-কানাচে। হাত বাড়াইলেই পাওয়া যাইতেছে মাদক। ফলে শুধু যে স্কুল-কলেজের শিশু-কিশোররাও আশঙ্কাজনকভাবে এই সর্বনাশা ফাঁদে জড়াইয়া পড়িতেছে তাহাই নহে, ইহার সহিত পাল্লা দিয়া বাড়িতেছে অপহরণ, ধর্ষণ, গুম ও খুনের মতো ভয়ঙ্কর সব অপরাধও। অতিশয় উদ্বেগের বিষয় হইল, মাদক-সংশ্লিষ্ট এই সকল অপরাধের সহিত জড়িত ব্যক্তিদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশই হইল শিশু-কিশোর। 

গ্রাম-গঞ্জে শুধু নহে, খোদ রাজধানীর চিত্রও কম ভয়ঙ্কর নহে। এমনকি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ তিনটি স্থাপনা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনা পার্ক এবং  হাতিরঝিলে মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্যের সচিত্র প্রতিবেদন প্রায় নিয়মিতই ছাপা হইতেছে সংবাদপত্রে। গত শনিবার একটি সহযোগী দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনসূত্রে জানা যায়, হাতিরঝিলে সংঘবদ্ধভাবে মাদক সেবনের পাশাপাশি চলিতেছে রক্তারক্তিও। ইয়াবা ও ফেনসিডিলের মতো মাদকের পাশাপাশি উচ্ছৃঙ্খল এই তরুণদের হাতে শোভা পায় চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র। প্রায়শ ছিনতাইয়ের মালামাল ও ইয়াবা বিক্রির টাকার ভাগবাটোয়ারা লইয়া নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়াইয়া পড়ে তাহারা। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, গত এক বত্সরে হাতিরঝিলের পানি হইতে উদ্ধার করা হইয়াছে ১৫টি লাশ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও রমনা পার্কের রাত্রিকালীন চিত্রও খুব একটা ভিন্ন নহে। অবশ্য মাদকবিক্রেতা ও মাদকসেবীদের সন্ধানে এখন আর কোনো বিশেষ স্থানে তল্লাশি চালাইবার প্রয়োজন নাই। পুরো রাজধানীই যেন পরিণত হইয়াছে তাহাদের অভয়ারণ্যে। পাড়া-মহল্লার অলিগলির পাশাপাশি জনবহুল রাস্তায়, ফুটপাতে, ফুটওভার ব্রিজে, পার্কে, ফ্লাইওভারের নীচে—সর্বত্রই তাহারা সদর্পে দৃশ্যমান। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তাহা চোখ এড়াইয়া যাইবার কথা নহে।

দেশব্যাপী বিস্তৃত এই মাদক বাণিজ্যের লাটাই কাহাদের হাতে তাহাও কমবেশি সকলেই জানেন বলিয়াই আমাদের বিশ্বাস। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসূত্রেই বিভিন্ন সময়ে পত্র-পত্রিকায় যেইসকল নাম প্রকাশিত হইয়াছে তাহাতে ইহা স্পষ্ট যে, প্রভাবশালীরা—বিশেষ করিয়া ক্ষমতাসীন দলের কিংবা বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের পদ ও পদবি ব্যবহার করিয়া কেহ কেহ এই বাণিজ্যের সহিত জড়িত। তাহাদের বিরুদ্ধে আরো আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হইলে হয়ত পরিস্থিতির এতটা অবনতি ঘটিত না। বিলম্বে হইলেও এখন আমরা আশা করিব যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যাহা বলিয়াছেন তাহা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়িত হইবে। অন্যথায় পরিণতি কী হইতে পারে মন্ত্রীর বক্তব্যেই তাহা স্পষ্ট। 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং
ফজর৫:১৬
যোহর১২:১৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৫:৫৬
এশা৭:০৯
সূর্যোদয় - ৬:৩৩সূর্যাস্ত - ০৫:৫১
পড়ুন