উত্তর কোরিয়ার সহিত যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠক প্রসঙ্গে
১৩ মার্চ, ২০১৮ ইং

শীর্ষবৈঠক অনুষ্ঠানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আমন্ত্রণ জানাইয়া সারাবিশ্বকে আরেক দফা চমকাইয়া দিয়াছে উত্তর কোরিয়া। এইদিকে উক্ত আমন্ত্রণ গ্রহণ করিয়া যুক্তরাষ্ট্রও যে সবিশেষ  বিস্ময়ের জন্ম দিয়াছে তাহা বলাই বাহুল্য। উভয় দেশ ও বৈঠক প্রসঙ্গে দূতিয়ালিতে অবতীর্ণ থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার সূত্রগুলির মতে আগামী মে মাসের মধ্যে কোনো এক সময়ে কোনো এক স্থলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হইবে। উল্লেখ্য, বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হইলে তাহা হইবে দুই দেশের মধ্যকার প্রথম শীর্ষ বৈঠক। বৈঠকটি শেষাবধি অনুষ্ঠিত হইলে তাহা যে বিশ্ব কূটনীতির ইতিহাসে স্মরণীয় হইয়া থাকিবে তাহাতে কোনো সন্দেহ নাই। তবে বৈঠক অনুষ্ঠিত হইলেই তাহা হইতে কাঙ্ক্ষিত ফল আসিবার ব্যাপারে সন্দিহান থাকা বিশেষজ্ঞের সংখ্যা কিন্তু একেবারে কম নহে।

বিশেষজ্ঞদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়ার বৈঠকের সাফল্য লইয়া সন্দেহ পোষণের পিছনে একাধিক কারণ লক্ষণীয়। প্রথম কথা হইতেছে, দুই নেতাই যদি এই বৈঠককে তাঁহাদের একক সাফল্যের স্মারক হিসাবে চিহ্নিত করিয়া রাখিবার তাড়না দ্বারা পরিচালিত হইতে থাকেন তাহা হইলে প্রতিপক্ষকে প্রয়োজনীয় ছাড় দেওয়ার ব্যাপারে তাঁহাদের মধ্যে অনমনীয়তাই প্রধান হইয়া উঠিবে। তেমন পরিস্থিতিতে জটিল এই সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে ব্যক্তির অহম প্রধান হইয়া উঠিবে। উভয়পক্ষ কিভাবে পরমাণু অস্ত্র সমস্যাটিকে ব্যাখ্যা করিতেছে তাহাও একটি বড় বিবেচ্য হইবে এই বৈঠকে। যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার যাবতীয় পরমাণু অস্ত্র প্রকল্প বিনা শর্তে বন্ধ করিতে আগ্রহী। পক্ষান্তরে, প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়াকে কেন্দ্র করিয়া যুক্তরাষ্ট্রের যে পরমাণু নিরাপত্তা বলয় রহিয়াছে তাহা বন্ধ করা ব্যতীত নিজ-কর্মসূচি বন্ধের কথা ভাবিবে না উত্তর কোরিয়া। আগাম অনুমান-অযোগ্য উত্তর কোরিয়াকে লইয়া যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয় ও প্রস্তুতির ব্যাপারটি লইয়াও ভাবিতেছেন কেহ কেহ। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক বৈঠকের আমন্ত্রণ গ্রহণ করিবার ঘোষণার সময় সেক্রেটারি অফ স্টেট রেক্স টিলারসন দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থান করিতেছিলেন। পক্ষান্তরে, ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স প্রকাশ্যেই জানাইয়া দেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এককভাবেই সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করিয়াছেন। তদুপরি, এতদিন অবধি দেশটি উত্তর কোরিয়ার উপরে অবরোধ কঠোর হইতে কঠোরতর করিবার ব্যাপারেই যাবতীয় চেষ্টা-চরিত্র চালাইয়াছে। কিন্তু শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের জন্য মাসের পর মাস ধরিয়া দুইপক্ষের মধ্যে পর্দার আড়ালের কূটনীতিক আলাপচারিতার কোনো প্রচেষ্টার কথা এতদিন পর্যন্ত একেবারেই শুনিতে পাওয়া যায় নাই। এমতাবস্থায় আচমকা অনুষ্ঠিত শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক হইতে কতদূর ফল আসিবে তাহাই চিন্তার বিষয়।

দুই দেশের মধ্যে নানাদিক হইতেই ব্যবধান দুস্তর; সন্দেহ-অবিশ্বাসের দেওয়ালও যথাসম্ভব উঁচু। দুই নেতার নেতৃত্বের ধরন লইয়াই সারাবিশ্ব জুড়িয়াই অস্বস্তি বিরাজমান। এতদসত্ত্বেও দুই কোরিয়ার স্বার্থে, বিশ্বশান্তির স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার প্রথম শীর্ষ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়া একান্তই আবশ্যক।

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৩ মার্চ, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৫৪
যোহর১২:০৯
আসর৪:২৭
মাগরিব৬:১০
এশা৭:২২
সূর্যোদয় - ৬:০৯সূর্যাস্ত - ০৬:০৫
পড়ুন