সফল হউক প্রথম যুব গেমস ২০১৮
১৪ মার্চ, ২০১৮ ইং
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত শনিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ যুব গেমস ২০১৮-এর শুভ উদ্বোধন করেন। দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হইতেছে এই যুব গেমস। ইহার আয়োজক বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন। আমরা জানি, বিশ্ব অলিম্পিক হইল বিশ্বের সবচাইতে বৃহত্ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আসর। সেই হিসাবে ইহা অনেক মর্যাদার টুর্নামেন্টও। কিন্তু বিশ্ব অলিম্পিকসে বাংলাদেশ বরাবরই অনুজ্জ্বল। ইহার মূল কারণ বিশ্ব অলিম্পিকসে যেসব খেলাধূলা হয়, আমাদের দেশে তাহার চর্চা খুবই কম। কিন্তু বিশ্বে নিজেদের গৌরব-সম্মান ও মর্যাদা বাড়াইতে হইলে বৈশ্বিক খেলাগুলির অনুশীলনের গুরুত্ব অপরিসীম। আলোচ্য যুব গেমসের মাধ্যমে সেই খরা অনেকটাই ঘুচিবে বলিয়া আমরা মনে করি।  দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ও কিছু মানসম্পন্ন খেলোয়াড় তৈরি হইলে অদূর ভবিষ্যতে আমরা বিশ্ব অলিম্পিকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় নজরকাড়া সাফল্য অর্জন করিতে পারিব—ইহাতে কোনো সন্দেহ নাই।

উল্লেখ্য, গত বত্সরের ১৮ ডিসেম্বর আগামীর ক্রীড়াবিদ তৈরির মহান উদ্দেশ্য সামনে রাখিয়া মোট ২১টি খেলা নিয়া জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলিতে এই যুব গেমস শুরু হয়। ইহাতে ২৩ হাজার ২১০ জন অংশগ্রহণ করেন। তন্মধ্যে বাছাই করা হয় দুই হাজার ৬৬০ জনকে। তাহারাই এখন ঢাকায় চূড়ান্তপর্বে অংশগ্রহণ করিতেছে। ১৫৯টি ইভেন্টে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জসহ মোট এক হাজার ১১২টি পদকের জন্য এখন লড়াই চলিতেছে। যেসব খেলা অনুষ্ঠিত হইতেছে, তাহা হইল-অ্যাথলেটিকস, সাঁতার, ফুটবল, কাবাডি, বাস্কেটবল, ভলিবল, হ্যান্ডবল, হকি, টেবিল টেনিস, ভারোত্তোলন, কুস্তি, শুটিং, আরচারি, ব্যাডমিন্টন, বক্সিং, দাবা, উশু, জুডো, কারাতে, তায়কোয়ান্দো ও স্কোয়াশ। আজ যাহারা যুব গেমসে অংশগ্রহণ করিয়া সাফল্য অর্জন করিবে, এইসকল খেলায় আমরা তাহাদের মধ্য হইতেই খুঁজিয়া পাইব আগামীর জাতীয় তারকা।

সরকার প্রতি বত্সর দেশব্যাপী ছাত্রদের জন্য বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট ও ছাত্রীদের জন্য বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করিয়া আসিতেছে। ইহার মাধ্যমে নারী ফুটবলে একধরনের জাগরণের সৃষ্টি হইয়াছে। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ ও সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জন তাহারই প্রমাণ। শুধু ফুটবল নহে, তৃণমূলে কাজ করিবার দরুন প্রমীলা ক্রিকেটেও আমরা একের পর এক সাফল্যের দেখা পাইতেছি। আগামী বিশ্বকাপে জায়গা করিয়া নিয়াছে নারী ক্রিকেটাররাও। অর্থাত্ বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরির পরিকল্পনা নিয়া অগ্রসর হইলে সাফল্য ধরা দিতে বাধ্য। আগামী ১৬ মার্চ যুব গেমস শেষে কৃতিত্ব অর্জনকারী ছেলে-মেয়েদের জন্য আলাদাভাবে যত্নবান হইতে হইবে। নিশ্চিত করিতে হইবে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও নানা সুযোগ-সুবিধা। শুধু পুরষ্কার বা সুনাম অর্জনই নহে, খেলাধুলার মাধ্যমে আদর্শ সমাজ গঠনও সম্ভব। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলিয়াছেন যে, খেলাধূলার মাধ্যমে আমরা মাদক-সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলা করিব, যুব সমাজকে রক্ষা করিব। শিক্ষা বা কর্মসংস্থানের পাশাপাশি খেলাধুলায় মনোযোগী করিতে পারিলে যুব সমাজের ভুল পথে চলিবার কোনো আশঙ্কা থাকিবে না। সফল হউক প্রথম যুব গেমস-২০১৮।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ মার্চ, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৫৪
যোহর১২:০৮
আসর৪:২৭
মাগরিব৬:১০
এশা৭:২২
সূর্যোদয় - ৬:০৯সূর্যাস্ত - ০৬:০৫
পড়ুন