উদ্যোগটি কেন ব্যর্থ হইল?
১৪ মার্চ, ২০১৮ ইং

রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন রাখিতে দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রায় ১১ হাজার মিনি ডাস্টবিন স্থাপন করা হইয়াছিল। প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৬ সালে স্থাপিত এইসকল ডাস্টবিনের অধিকাংশই উধাও হইয়া গিয়াছে ইতোমধ্যে। এখানে-সেখানে অল্প কিছু ডাস্টবিন কোনোমতে টিকিয়া থাকিলেও অব্যবস্থাপনার কারণে সেইগুলিও ব্যবহারের অনুপযোগী হইয়া পড়িয়াছে। ফলে উদ্যোগটি মহত্ হইলেও তাহা তেমন কোনো কাজে আসে নাই বলিয়া মনে করেন সচেতন মহল। উদ্যোগটি কেন ব্যর্থ হইল—তাহা লইয়া যেইটুকু অনুসন্ধান হইয়াছে তাহাতে প্রধানত তিনটি বিষয় উঠিয়া আসিয়াছে। প্রথমত, গুটিকয় ব্যতিক্রম বাদ দিলে এই উপমহাদেশের মানুষ যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলিতেই অভ্যস্ত। পরিচ্ছন্নতার সহিত নাগরিক দায়িত্বশীলতার সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্যই বলা যায়। রাজধানী ঢাকাসহ অত্রাঞ্চলে যে এই ধরনের দায়িত্বশীলতার অভাব খুবই প্রকট তাহা নগর কর্তৃপক্ষের না জানিবার কথা নহে। অথচ এত ব্যয়বহুল ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগটি গ্রহণের আগে নগরবাসীকে এই ব্যাপারে সচেতন করিয়া তুলিবার তেমন কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয় নাই। ফলে মিনি বিনগুলি ব্যবহারে কিংবা সুরক্ষায় নগরবাসীর মধ্যে কোনো আগ্রহ বা তাগিদ পরিলক্ষিত হয় নাই। 

দ্বিতীয়ত, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) পরিচালিত জরিপেই দেখা গিয়াছে যে সংস্থার ৫ হাজার ৭০০টি বিনের মধ্যে ২২ শতাংশ বিনের কোনো হদিসই নাই। তবে বাস্তব চিত্র অনেকটাই ভিন্ন। সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যমতে, উভয় সিটি করপোরেশনের স্থাপিত সিংহভাগ মিনি ডাস্টবিনই চুরি হইয়া গিয়াছে। কোথাও কোথাও কেবল লোহার স্ট্যান্ডটাই কোনোমতে টিকিয়া আছে। এই ধরনের চুরির অভিজ্ঞতা সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের জন্যে মোটেও নূতন নহে। ইহা সুবিদিত যে ম্যানহোলের ঢাকনা, ফুটওভার ব্রিজ ও আন্ডারপাসের বাল্ব চুরি চলিয়া আসিতেছে দীর্ঘদিন যাবত্। অতএব, এই ব্যাপারে শুরুতেই যথাযথ সতর্কতা বা নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যাবশ্যক হইলেও, আমাদের জানা মতে, তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় নাই। বরং সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা এই অবস্থার জন্য ফুটপাতের হকারদের দায়ী করিয়াছেন। তাহাদের অভিযোগ, ফুটপাতে দোকান বসানোর জন্য হকাররাই অনেক বিন ভাঙিয়া ফেলিয়াছেন। এই ধরনের ঘটনা যে ঘটিতে পারে— তাহা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একেবারে অজানা থাকিবার কথা নহে। কিংবা যখন দেখা গেল, বিপুল অর্থব্যয়ে জনস্বার্থে গৃহীত সরকারি উদ্যোগের ক্ষতি সাধন করা হইতেছে—তখনও ব্যবস্থা নেওয়া যাইত। কিন্তু কোথাও কাহারও বিরুদ্ধে কোনো প্রকার ব্যবস্থা নেওয়া হইয়াছে বলিয়া আমাদের জানা নাই।

তৃতীয় এবং সর্বাপেক্ষা বড় গাফিলতিটি হইয়াছে ইহার ব্যবস্থাপনা বা তদারকির ক্ষেত্রেই। গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ নেওয়া হইয়াছে এবং এই উদ্যোগটির সফলতার সহিত রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা ও ভাবমূর্তির প্রশ্নও জড়িত। অথচ তাহার তত্ত্বাবধান, তদারকি এবং স্থায়িত্বশীলতার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে ভাবা হয় নাই। নগরবাসীকে সচেতন করিয়া তাহাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হইলে ফল যে ভিন্ন হইত তাহাতে কোনো সন্দেহ নাই। যত সদিচ্ছাই থাকুক, সিটি করপোরেশন কিংবা সরকারের একার পক্ষে এত জনবহুল একটি মহানগরকে পরিচ্ছন্ন রাখা কখনোই সম্ভব নহে। ইহার জন্য নাগরিকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল করিয়া গড়িয়া তোলার কাজটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

 

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৪ মার্চ, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৫৪
যোহর১২:০৮
আসর৪:২৭
মাগরিব৬:১০
এশা৭:২২
সূর্যোদয় - ৬:০৯সূর্যাস্ত - ০৬:০৫
পড়ুন