পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ইতিবাচক অঙ্গীকার
১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
পরিবহন খাতে বেশ কিছু অগ্রহণযোগ্য ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে প্রবণতা হিসাবে দৃষ্ট হইতেছে। তন্মধ্যে বাসশ্রমিক কর্তৃক নারী যাত্রীকে যৌন হয়রানি ও গণধর্ষণ অন্যতম। রাজধানীতে প্রতিযোগিতার কারণে দুই বাসের মাঝখানে চাপা পড়িয়া যাত্রীর অঙ্গহানি হইতেছে। আর পূর্বেকার সমস্যাগুলি বলবত্ রহিয়াছে—মেয়াদোত্তীর্ণ বাস রাজধানীসহ সারাদেশে চলিতেছে, ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন লোকেরা চালকের আসনে, চালকদের অনেকেই নাবালক ও মাদকসেবী। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের যৌথ সভায় সকলেই এই অভিযোগগুলি মানিয়া লইয়াছেন এবং সমস্যা সমাধানে ইতিবাচক মনোভাব প্রদর্শন করিয়াছেন। তাহারা স্বীকার করিয়াছেন যে, শাস্তি প্রদান করা হয় না বলিয়াই চালকেরা বেপরোয়া থাকিয়া যান। এমনকি তাহারা ধর্ষণের সহিত জড়িতদের মৃত্যুদণ্ডও দাবি করিয়াছেন। সভায় গৃহীত প্রস্তাবে বলা হইয়াছে যে, এইরূপ অপরাধের সহিত যাহারা জড়িত হইবে মালিকপক্ষ নিজে তাহাদের থানায় সোপর্দ করিবেন এবং অন্য কোনো মালিক তাহাকে নিয়োগ দিতে পারিবে না। লাইসেন্স ছাড়া কাহাকেও গাড়ি চালাইবার অনুমতি দেওয়া যাইবে না। প্রত্যেক চালকের একটি পরিচয়পত্র থাকিতে হইবে। চালক মাদকাসক্ত কিনা তাহা মালিকপক্ষকে বিশেষভাবে নিশ্চিত হইতে হইবে।

মালিক-শ্রমিকদের যৌথ সভা হইতে যেই প্রস্তাবগুলি উঠিয়া আসিয়াছে তাহা নূতন এবং আশাপ্রদ। মালিকরা তাহাদের অসহায়ত্বও প্রকাশ করিয়াছেন। বলিয়াছেন যে, শ্রমিকদের উপর তাহাদের নিয়ন্ত্রণ নাই। আবার এক মালিক কাহাকেও বহিষ্কার করিলে আরেক মালিক তাহাকে নিয়োগ দিয়া ফেলে। কিন্তু মালিকদের দায়িত্বহীনতাও নিঃসন্দেহে বহু সমস্যার জন্ম দিয়া চলিতেছে। মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি রাস্তায় নামানো তাহাদের একটি প্রবণতা। আবার স্বল্প বেতনে চালক নিয়োগ দিবার জন্য তাহারা চালকের লাইসেন্স আছে কি নাই, সাবালকত্ব অর্জিত হইয়াছে কি হয় নাই তাহাও বিবেচনা করেন না। বহু গণপরিবহনই লক্কড়ঝক্কড়। গাড়ির কাগজপত্র হালনাগাদ করা নাই অনেক পরিবহনের।

তাহা সত্ত্বেও মালিক-শ্রমিকদের সচেতনতা ও অঙ্গীকার আমাদের আশাবাদী করিয়া তোলে। এই অঙ্গীকারগুলি বাস্তবায়িত হইলে সড়ক দুর্ঘটনা কমিবে, যাত্রীদের চলাচল নিরাপদ ও অপেক্ষাকৃত আরামপ্রদ হইবে এবং যৌন হয়রানির মতো জঘন্য অপরাধ বন্ধ হইবে। এই সচেতনতা ও অঙ্গীকারের প্রয়োজন রহিয়াছে। কারণ আইন ও তাহার প্রয়োগের চাহিতে আত্ম-অঙ্গীকার অনেক বেশি ফলপ্রদ। এতকাল দেখা গিয়াছে, শক্তিশালী পরিবহন সমিতির কারণে অনেক অপরাধের বিচার হয় নাই, শাস্তিপ্রদানের পর অনেক ক্ষেত্রে তাহারা ধর্মঘট বা অন্যান্য উপায়ে যাত্রীদের জিম্মি করিয়া ফেলেন। তবে মৌলিক সমস্যাগুলির একপ্রকার সুরাহা করা গেলে, আমাদের সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে নজর দিতে হইবে। উন্নত দেশগুলিতে গণপরিবহন ব্যবস্থা সরকারই দেখভাল করে। একই রঙের যানবাহন নির্দিষ্ট সময় পরপর আসিতে থাকে এবং যাত্রীকে উঠাইয়া লইয়া যায়। কোনো প্রতিযোগিতা নাই, যেহেতু বাসগুলি একই কোম্পানির। আমাদের দেশে রাতারাতি এইরূপ করা না গেলেও, সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে সকল মালিকানাকে একটি কনসোর্টিয়ামের আওতায় আত্মীকৃত করিতে পারিলে, সকল গণপরিবহনকে একটি রঙ ও কেন্দ্রীয় একটি ব্যবস্থাপনায় আনিতে পারিলে বিশৃঙ্খলা অনেকটা কমিয়া আসিবে। দুর্ঘটনা, ধর্ষণ, দুর্ব্যবহারের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়গুলি অনেক কমিয়া আসিবে এবং যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকৃত আরামপ্রদ ও নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত হইবে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
ফজর৪:১৯
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩১
মাগরিব৬:২৩
এশা৭:৩৯
সূর্যোদয় - ৫:৩৭সূর্যাস্ত - ০৬:১৮
পড়ুন