কে থামাইবে যুদ্ধের উন্মাদনা?
১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ইং

বর্তমানে আমরা এমন একটি বিশ্বে বসবাস করিতেছি, যেখানে প্রতিনিয়ত বাড়িতেছে টেনশন ও উত্তেজনা। ঘুম হইতে জাগিয়া প্রতিদিন কোনো না কোনো হুমকি বা পাল্টা হুমকির সংবাদ পাইতেছি আমরা। মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ নিয়া গত সাত-আট বত্সর ধরিয়া যে খেলা চলিতেছে, তাহা এক কথায় নির্মম ও নিষ্ঠুর। আরব বসন্তের হাত ধরিয়া সরকার পতনে ব্যর্থ হইলে বাজিয়া ওঠে গৃহযুদ্ধের দামামা। কিছুদিন না যাইতেই এই বিশ্বের বুঝিতে বাকি রহিল না—এইসব যুদ্ধের পিছনে কাহারা কাহারা কলকাঠি নাড়িতেছেন। গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত দেশটি বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলির লড়াইয়ের ক্ষেত্রে পরিণত হইল। সমপ্রতি সেই দেশটিতে রাসায়নিক হামলাকে কেন্দ্র করিয়া গত কয়েকদিন ধরিয়া বিশ্বে যে উত্তাপ ছড়াইতেছিল, তাহা তিনটি শক্তিধর দেশের যুগপত্ হামলার পর কোথায় গিয়া শেষ হয়, তাহা কেহ জানেন না। স্নায়ুযুদ্ধের আলামতের পাশাপাশি অনেকে আবার ইহার ভিতরে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের গন্ধ খুঁজিয়া পাইতেছেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ-বিগ্রহ থামাইতে গড়িয়া উঠিয়াছিল জাতিসংঘ। কিন্তু পৃথিবীতে এই প্রতিষ্ঠান কতটা শান্তি প্রতিষ্ঠা করিতে পারিয়াছে তাহা অনেকেরই অজানা নহে। সমপ্রতি পক্ষত্যাগী একটি গোয়েন্দা পরিবারের ওপর রাসায়নিক হামলার পরও পশ্চিমা বিশ্বের সহিত সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের ছায়াশক্তির বিবাদ-বিরোধ বাড়িতেই থাকে। এই টালমাটাল পরিস্থিতিতেই এশিয়ার একটি উদীয়মান শক্তি বিরোধপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরে ৪৮টি যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন ও বিমানবাহী রণতরী নিয়া শুরু করিয়াছে সবচাইতে বৃহত্ নৌ মহড়া। সর্বোপরি কোরিয়া অঞ্চলে এক তরুণ নেতার একের পর এক হুমকি প্রদান তো আছেই। বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতিতে প্রতীয়মান হয় যে, শান্তিকামী বিশ্ববাসী আজ বড় বড় ও শক্তিশালী দেশের নিকট অনেকটাই জিম্মি হইয়া পড়িয়াছে। তাহারা আজ একে অপরকে আক্রমণে যে ভাষা ব্যবহার করিতেছেন তাহা কোনো সভ্য পৃথিবীর ভাষা হইতে পারে না। ইহা পরিমিতি ও শালীনতাবোধকেও হার মানাইতেছে। ‘ম্যাডম্যান’, ‘রকেটম্যান’সহ এমন সব উদ্ভট উপাধি জুড়িয়া দেওয়া হইতেছে যাহা শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিবন্ধক। মিসাইলকে বলা হইতেছে ‘সুন্দর, নূতন ও বুদ্ধিমান’। একশ্রেণির জাতীয়তাবাদী নেতার আচরণে বিশ্ববাসী তটস্থ, হতাশ ও হতভম্ব। যেখানেই সম্পদ ও সম্ভাবনা আছে, সেখানেই অশুভ শক্তির পদধ্বনি শোনা যাইতেছে। তৈরি হইতেছে অশান্তি ও অনাচার। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে যাহারা শোষণমুক্ত ও ন্যায়ের সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বলিতেন, তাহারাও আজ নীরব ও নিশ্চুপ। ফলে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত ও বাস্তুচ্যুত লক্ষ লক্ষ মানুষের আহাজারি বন্ধ হইতেছে না।

নানা অজুহাতে সাত সাগর তের নদী পার হইয়া যাহারা একটি দেশ বা জনপদ আক্রমণ করিতেছেন, তাহাদের এই ঔদ্ধত্যের অবসান না হওয়া পর্যন্ত বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা সুদূরপরাহত।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
ফজর৪:১৯
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩১
মাগরিব৬:২৩
এশা৭:৩৯
সূর্যোদয় - ৫:৩৭সূর্যাস্ত - ০৬:১৮
পড়ুন