সুরক্ষার দিকটি যেন অবহেলিত না থাকে
১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
বাংলাদেশ ডিজিটাল হইবার পথে জোর কদমে অগ্রসর হইতেছে। সরকারি সেবা জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত করিবার ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকরী। তবে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়িবার ক্ষেত্রে ইহার সুরক্ষার দিকটির প্রতিও বিশেষভাবে নজর দেওয়া প্রয়োজন। গত অর্ধযুগ ধরিয়া আমরা দেখিয়াছি, বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করিয়া এক ধরনের সাইবার আক্রমণ হইয়াছে, যাহার বেশিরভাগের আক্রমণের শিকার হইয়াছে সরকারি ওয়েবসাইটসমূহ। ২০১৩ সালের মে মাসে রীতিমতো ঘোষণা দিয়া বাংলাদেশের ১৩টি সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাক করিয়াছিল একটি আন্তর্জাতিক হ্যাকার সংগঠন। ইহার পূর্বে ২০১০ সালে একযোগে আক্রমণের শিকার হইয়াছিল জেলা তথ্য বাতায়নের সাইটসমূহ। বড় কোনো ক্ষতি না করিয়া কেবল হ্যাকিং করিবার ঘটনাই সাধারণত বেশি ঘটে। কিন্তু ২০১৬ সালে ঘটে বড়সড় সাইবার জালিয়াতির ঘটনা। ওই সময় হাতাইয়া নেওয়া হয় নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভে গচ্ছিত বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লক্ষ ডলার। ইহার পূর্বে জানা যায়, ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সোনালী ব্যাংকের ওয়েবসাইট হ্যাকারের দখলে ছিল কয়েক ঘণ্টা। এমনকী ২০১৩ সালে সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবের পাসওয়ার্ড হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে আড়াই লক্ষ ডলার লোপাটও হইয়াছিল। নানা ধরনের হ্যাকিংয়ের লম্বা তালিকা রহিয়াছে। সর্বশেষ গত ১১ এপ্রিল সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দপ্তরের ওয়েবসাইট হ্যাকিংয়ের শিকার হয়। হ্যাকাররা হোম-পেইজের উপরে আরেকটি লেয়ার তৈরি করিয়াছিল। তাহারা অবশ্য ওয়েবসাইটগুলিতে কনটেন্টের কোনো ক্ষতি করে নাই।

দেখা যাইতেছে সরকারি সাইটগুলি সবসময়ই হ্যাকারদের পছন্দের টার্গেট হইয়া থাকে। তাহার কারণ হিসাবে প্রযুক্তিবিদরা মনে করেন, সরকারি সাইটগুলি অনেক ক্ষেত্রেই সিকিউরিটি আপডেট করিবার যে প্রক্রিয়া তাহা বহু ক্ষেত্রেই ঠিকঠাক থাকে না। ওয়েবসাইট কোন ল্যাংগুয়েজে তৈরি হইয়াছে, কোন ফ্রেমওয়ার্কে করা হইয়াছে, কোন সার্ভারে রহিয়াছে—এইসব তথ্য হইতে একজন হ্যাকার নিরাপত্তার সম্ভাব্য খুঁত খুঁজিয়া দেখিতে পারেন এবং হানা দিতে পারেন সেই খুঁত ধরিয়া। তথ্যপ্রযুক্তিবিদদের অনেকে মনে করেন, বাংলাদেশে সাইবার নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতার দুইটি বড় কারণ হইল জনবল ও বাজেটের অভাব। বাজেট সমস্যার কারণে অনেক সময় নিরাপত্তার দিকটি নিয়মিত পরীক্ষা করা হয় না। অন্যদিকে সিকিউরিটি সেলের প্রয়োজনীয় কাঠামো থাকিলেও তাহার জন্য যে জনবল প্রয়োজন তাহার অভাব রহিয়াছে। কিছুদিন পূর্বে কিছু হ্যাকার নিজের পরিচয় প্রকাশ করিয়াই ডট বিডি ডোমেইনে আঘাত হানিয়া বিটিসিএল-এর নিরাপত্তা দুর্বলতা চোখে আঙুল দিয়া দেখাইয়া দেয়। এই হ্যাকাররা ইহাও প্রমাণ করিয়াছে যে, বড় কোনো হ্যাকিং ছাড়াই কেবল ইউআরএল রিডাইরেক্ট করিয়া দেশের হাজার হাজার ওয়েবসাইট অচল করিয়া দেওয়া সম্ভব।

হ্যাকাররা আমাদের দেখাইয়া দেন, কোথায় আমাদের ডিজিটাল নিরাপত্তা অসুরক্ষিত রহিয়াছে। তাহারা একঅর্থে হিতাকাঙ্ক্ষীর মতোই এই সতর্কবার্তা জ্ঞাপন করেন, সাইবার নিরাপত্তায় সরকারি সাইটগুলির কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। ডিজিটাল বাংলাদেশ আগাইয়া যাইতেছে, তবে সুরক্ষার দিকটি যেন অবহেলিত না থাকে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
ফজর৪:১৮
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩১
মাগরিব৬:২৪
এশা৭:৩৯
সূর্যোদয় - ৫:৩৬সূর্যাস্ত - ০৬:১৯
পড়ুন