এই মৃত্যু দুর্ভাগ্যজনক ও অনভিপ্রেত
১৬ মে, ২০১৮ ইং
অর্থনৈতিক অগ্রগতি সত্ত্বেও বাংলাদেশে বহু মানুষ এখনও হতদরিদ্র ও অসহায় রহিয়া গিয়াছে। অল্প কিছু শুকনা ইফতারি অথবা জাকাতের জন্য হাজার হাজার মানুষ দূরদূরান্ত হইতে চলিয়া আসে, তীব্র রৌদ্রে-তাপদাহে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে, এমনকি হুড়াহুড়ি করিতে গিয়া মৃত্যুর ঝুঁকিতেও পড়ে। যেমন হইয়াছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়। একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের বিলিকৃত ইফতার ও জাকাত সামগ্রী গ্রহণ করিতে গিয়া কমপক্ষে ৯ জন নারী মৃত্যুবরণ করিয়াছেন। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটি প্রত্যেক বত্সরই এইরূপ ইফতারসামগ্রী বিতরণ করিয়া থাকে। রমজান মাস শুরু হইবার পূর্বেই তাহারা দরিদ্রদের মধ্যে শুকনা ইফতারসামগ্রী বিতরণ করিয়া থাকেন। সেই ইফতারসামগ্রী সংগ্রহের জন্য গত সোমবার হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয় স্থানীয় মসজিদের মাঠে। লোকসমাবেশ ছিল ধারণক্ষমতার চাহিতে কয়েক গুণ বেশি। অতিরিক্ত গরমে এক পর্যায়ে হিট-স্ট্রোক হইয়া ৯ জন নারী মৃত্যুবরণ করেন। আরেকটি সূত্রে জানা যায়, হঠাত্ হুড়াহুড়ি শুরু হইলে ভিড়ের চাপে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যেক বত্সরই জাকাতের কাপড় কিংবা অনুরূপ দান গ্রহণ করিতে গিয়া এইরূপ দুই-একটি ঘটনা ঘটিয়া থাকে। এই তো গত ডিসেম্বর মাসে চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতে গিয়া পদদলিত হইয়া ১০ জনের মৃত্যু হয়। এইরূপ দুর্ঘটনার সংবাদ দেখিলে এমন অনুভূতি হওয়া স্বাভাবিক যে এই দেশে মানুষের প্রাণের মূল্য খুবই সামান্য। একশতটি ঘটনার মধ্যে যদি একটিতেও দুর্ঘটনা ঘটিয়া যায়, তাহা হইলে প্রশ্ন উঠিতে পারে যে যদি জনগণের জীবনের নিরাপত্তাই না থাকে তাহা হইলে এইরূপ ঢাকঢোল পিটাইয়া লোক ডাকিয়া দান-খয়রাতের আনুষ্ঠানিকতার আদৌ কি প্রয়োজন রহিয়াছে? ইহাও ঠিক, অনেক ধনিকের দরিদ্রের জন্য আন্তরিক ভালোবাসা রহিয়াছে। একদিনের আয়োজনে যদি দরিদ্রের ১০ দিনের ইফতারির সংস্থান হয়, তবে তাহা তো সত্যিকারের পরোপকার। অন্যদিকে জাকাতের একটি কাপড় গ্রহীতার পুরা বত্সরের অবলম্বন হইতে পারে। যদি ধরা হয়, আয়োজকদের আন্তরিকতার অভাব নাই, কিন্তু দুর্ঘটনা এড়াইবার যথেষ্ট প্রস্তুতি কি তাহাদের ছিল? স্বেচ্ছাসেবীরা কি তাহাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করিয়াছে? নাকি প্রত্যাশার চাহিতে অতিরিক্ত জনসমাবেশই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। হয়ত তাই। সেইক্ষেত্রে সমবেত জনগণেরও কিছু দায়িত্ব রহিয়াছে বৈকি।

জনবহুল একটি দেশে যেকোনো জনসমাবেশে জনতাকে সুশৃঙ্খল মনোভাবের পরিচয় দিতে হইবে। তাহা না হইলে এইরূপ পদদলনের ঘটনা ঘটিতেই থাকিবে। জাতি হিসাবে আমরা খুব সুশৃঙ্খল নহি। বাসের টিকিট হাতে, ব্যাংকের বুথে কিংবা স্টেডিয়ামের গেটে মানুষ আজকাল সারিবদ্ধভাবেই দাঁড়াইয়া থাকেন। দুই-তিন দশক পূর্বেও এইরূপ ছিল না, সেই হিসাবে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হইয়াছে। কিন্তু আজও রাস্তায় যানবাহনের মাঝে, কিংবা এইরূপ দান-খয়রাত কিংবা কুলখানিতে মানুষের মাঝে শৃঙ্খলার তীব্র অভাব পরিলক্ষিত হয়। পূর্বে এইসকল কাজে নিজ দায়িত্বে অনেকে স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হইত, আজকাল সেই প্রবণতাও অনেকটাই কমিয়া আসিয়াছে। তাই যেকোনো জনসমাগমের ক্ষেত্রে আয়োজকদের শৃঙ্খলার জন্য যেমন দক্ষ লোকবল নিয়োগ করিতে হইবে, তেমনি জনগণকেও নিজ নিজ নিরাপত্তার তাগিদেই নিজেদের সুশৃঙ্খল আচরণে অভ্যস্ত করিয়া তুলিতে হইবে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৬ মে, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৫২
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:৩৭
এশা৭:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:১৫সূর্যাস্ত - ০৬:৩২
পড়ুন