ময়মনসিংহের গৌরীপুরবাসীর অবর্ণনীয় দুর্ভোগ
১৬ মে, ২০১৮ ইং

ঘটনাটি ময়মনসিংহের গৌরীপুরের। এই উপজেলার সঙ্গে বিভিন্ন ইউনিয়নের যোগাযোগ রক্ষাকারী সড়কগুলির অবস্থা এখন শোচনীয়। সড়কগুলি পাকা করার লক্ষ্যে বক্স কাটিয়া ফেলিয়া রাখা হইয়াছে। অনেক স্থানে প্রায় আড়াই ফুট গর্ত করা হইয়াছে। ইহার পর কয়েক মাস ধরিয়া আর কোনো কাজ হইতেছে না। অফিসিয়াল ও মৌখিকভাবে বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও কোনো সাড়া পাওয়া যাইতেছে না। এখন এই কাজের ঠিকাদারই লাপাত্তা। ফলে দেখা দিয়াছে অনিশ্চয়তা। জনগণের মাঝে বাড়িয়া গিয়াছে উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠা। খননকৃত সড়কগুলিতে বৃষ্টির পানি জমিয়া তাহা পুকুর বা জলাশয়ের আকার ধারণ করিয়াছে। সম্প্রতি ইত্তেফাকে এই সম্পর্কিত যে ছবি ছাপা হইয়াছে তাহা না দেখিলে ইহা বিশ্বাস করা কঠিন হইবে। এই পরিস্থিতিতে অত্র এলাকার হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগের অন্ত নাই। কৃষকরা ধান বিক্রয় করিতে পারিতেছেন না। সেই ধান এখন ঘরে পচিয়া নষ্ট হইতেছে। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করিতে পারিতেছেন না। শিক্ষার্থীরা স্কুল-মাদরাসায় যাইতে পারিতেছে না। এই সড়কে শতাধিক অটোরিকশাসহ যানবাহন চলাচল বন্ধ হইয়া যাইবার কারণে ইহার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহকারীরাও পড়িয়াছেন চরম বিপাকে। এমনকি মুসল্লিরা শুক্রবারে জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়া হইতে বঞ্চিত হইতেছেন। অর্থাত্ যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হইয়া পড়ায় এলাকাবাসীর বহুমুখি দুর্ভোগ এখন নিত্যসঙ্গী হইয়া দাঁড়াইয়াছে।

উপরে একটি এলাকার যে চিত্র তুলিয়া ধরা হইল, খোঁজ নিলে দেখা যাইবে এমন চিত্র দেশের আরও অনেক এলাকায় রহিয়াছে। এইক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কী করিতেছেন, এই প্রশ্ন উঠা অস্বাভাবিক নহে। আলোচ্য প্রকল্পে অর্থবরাদ্দসহ নানা কাজে স্থানীয় এমপির ভূমিকা আছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ এই ব্যাপারে তত্পর বলিয়া জানা যায়। তাহারা কাজ শেষ করিবার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে একের পর এক তাগাদা দিয়া যাইতেছে। তাহার পরও কোন দুঃসাহসে ঠিকাদার কাজ ফেলিয়া রাখিয়া নিরুদ্দেশ হইলেন তাহা আমাদের বোধগম্য নহে। আমরা মনে করি, বিষয়টি তদন্ত করিয়া দেখা উচিত। ইহাতে যদি ঠিকাদারের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহা হইলে তাহার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক। আমাদের দেশে কাজ না করিয়াই বিল উঠাইয়া নেওয়ার দৃষ্টান্ত আছে। আবার দায়সারাগোছের কাজ করিবার প্রবণতাও লক্ষ করা যায়। ফলে সেই কাজ টেকসই হয় না। আবার সব দোষ নন্দঘোষের ন্যায় কেবল ঠিকাদারের, এমনটি ভাবিবারও অবকাশ কম। কেননা প্রকল্পের কাজে অনিয়মে অনেক রাঘব বোয়ালই জড়িত থাকে এবং তাহাদের নির্দিষ্ট পরিমাণে টাকার ভাগ দিতে হয়। আমরা মনে করি, যেকোনো সরকারি কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করিতে নিবিড় নজরদারি প্রয়োজন। অনেক সময় অর্থ ঠিকমতো ছাড় না দিবার কারণে কিংবা কাজের মাঝপথে ব্যয় বৃদ্ধি পাইবার কারণে এমন হতাশাজনক পরিস্থিতি তৈরি হইতে পারে। এই ব্যাপারেও স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সজাগ থাকিয়া দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হইবে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৬ মে, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৫২
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:৩৭
এশা৭:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:১৫সূর্যাস্ত - ০৬:৩২
পড়ুন