বহু প্রত্যাশিত ট্রাম্প-কিম বৈঠক
১৩ জুন, ২০১৮ ইং

যাবতীয় অনিশ্চয়তার সমাপ্তি ঘটাইয়া অবশেষে বৈঠকে বসিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জন-উন। দুই নেতার পক্ষ হইতে মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত বৈঠকটিকে ‘ঐতিহাসিক’, ‘বিস্তারিত’, ‘আশু ফলদায়ী’, ‘অতীত বিদ্বেষ পরিত্যাগী’সহ ইত্যাদি নানাবিধ বিশেষণে আখ্যায়িত করা হইয়াছে। উল্লেখ্য, ১৯৪৫ সালে এক কোরিয়া ভাঙিয়া দুই কোরিয়ার জন্মের পর হইতে, উত্তর কোরিয়ার সহিত কোনোদিনও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় নাই। গত কয়েক দশক ধরিয়া উত্তর কোরিয়ার পরমাণু প্রকল্প লইয়া যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্বের কঠোর অবস্থানের মুখে এই দূরত্ব মহাসমুদ্রপ্রমাণ হইয়া উঠিয়াছিল। এই বিবাদে দুইপক্ষের মধ্যে এমনকি যুদ্ধ বাধিয়া যাইবার উপক্রম হইয়াছিল বিগত বত্সরটিতে। উগ্রমূর্তি দুই নেতা পরস্পরের বিপক্ষে ন্যূনতম কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত অনেক উক্তিই করিয়াছিলেন তত্কালে।

উভয়পক্ষের প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সমীকরণের বরাতে চলতি বত্সরটি কিছুটা আশার ফুল ফুটাইয়া শুরু হইয়াছিল। দুইপক্ষই গত কয়েকমাস ধরিয়া বাক-সংযম করিয়াছে। গত কিছুদিন ধরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের দিক হইতে ‘শূন্য-সহনশীলতার’ মতো হুমকি আসা থামিয়াছে। পক্ষান্তরে, সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য উত্তর কোরিয়ার দিক হইতে শীতকালীন অলিম্পিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সহিত যৌথভাবে অংশগ্রহণ কিংবা দক্ষিণ কোরিয়ার সহিত শীর্ষ বৈঠকের কথা উল্লেখ করা যাইতে পারে। মঙ্গলবারের বৈঠকটি যে সূচনামাত্র তাহা দুইপক্ষ হইতেই স্বীকার করা হইয়াছে। পরমাণু অস্ত্র পরিত্যাগ করিবার বিনিময়ে উত্তর কোরিয়া কী পাইবে, উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্র ত্যাগ করিলে দক্ষিণ কোরিয়াতে থাকা মার্কিন সেনা ও অস্ত্রগুলির কী হইবে, এইসবের মীমাংসা নিশ্চয় সামান্য-সময়ে হইয়া যাইবার নহে। এইখানে শেষ নহে। পরমাণু অস্ত্রহীন অবস্থাতে নিজেদের নিরাপত্তা লইয়াও উত্তর কোরিয়া ভাবিবে বৈকি। বিশেষ করিয়া, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন কর্তৃক লিবিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণের হুমকি এইক্ষেত্রে ভাবনার কারণ হইতে পারে বলিয়া মনে করা হইতেছে। উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে ক্ষমতায় টিকিয়া থাকিবার মানসে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে পরমাণু প্রকল্প পরিত্যাগ করেন লিবিয়ার একনায়ক মুহাম্মদ গাদ্দাফি। কিন্তু পরে পশ্চিমা দুনিয়ার সমর্থনপুষ্ট বিরোধীদের সাথে গৃহযুদ্ধ চলাকালে প্রাণ হারাইতে হয় তাহাকে।

মঙ্গলবারের বৈঠকের পরিণতি যাহাই হউক না কেন, দুই নেতা যে ইহা হইতে কিছু তাত্ক্ষণিক ফায়দা তুলিতে পারিয়াছেন তাহাতে সন্দেহ নাই। একদিকে, এতদিন ধরিয়া পশ্চিমা দুনিয়ার চাপে অপাঙেক্তয় হইয়া থাকা কিম জন-উন অবশেষে এই বৈঠকের মধ্য দিয়া বৈশ্বিক পর্যায়ের নেতার স্বীকৃতি আদায় করিয়া লইয়াছেন। একইসাথে তিনি ‘শর্তহীনভাবে’ পরমাণু প্রকল্প ত্যাগের চাপ হইতেও যুক্তরাষ্ট্রকে সরাইতে পারিয়াছেন। পক্ষান্তরে, দেশের ভিতরে অজস্র সমালোচনাতে জেরবার ডোনাল্ড ট্রাম্প, সাময়িকভাবে হইলেও দেশের জনগণ ও দলের মধ্যকার সমালোচনাকারীদের মুখ বন্ধ রাখিতে পারিয়াছেন। ট্রাম্প-কিম নিজের মতো করিয়া ফায়দা তুলুন তাহাতে সমস্যা নাই, আমরা শুধু প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী জন লেননের সহিত কণ্ঠ মিলাইয়া দাবি করিতে পারি, ‘গিভ পিস আ চান্স’—শান্তিকে একটি সুযোগ দিন।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ জুন, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন