বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এ কী হাল?
১৩ জুন, ২০১৮ ইং

ঢাকার উপকণ্ঠের কামরাঙ্গীরচর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হইলেও এইখানে নাই কোনো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় ১০ লক্ষরও বেশি মানুষের বসবাস। এতগুলি মানুষের ব্যবহূত বর্জ্য রাস্তাঘাট, নদী-নালায় ছড়াইয়া থাকে, দূষিত হয় এলাকা, পরিবেশ হইয়া পড়ে দুর্গন্ধময়। ২০১৩ সাল হইতেই বুড়িগঙ্গার ওপারের এই জনপদ সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত, এইখানে বিদ্যমান তিনটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রহিয়াছে, সরকার এই অঞ্চলের উন্নয়নে কিছু বরাদ্দও দিয়াছে, কিছু উন্নয়ন হয় নাই তাহাও নহে, কিন্তু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা রহিয়া গিয়াছে সনাতনী পর্যায়ে। তিনটি ওয়ার্ডের রাস্তা পরিষ্কার করিবার জন্য ডিএসসিসির নাই কোনো নিজস্ব পরিচ্ছন্নতাকর্মী, মাত্র চার মাস পূর্ব হইতে তিনটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হইয়াছে। কিন্তু এইসকল পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়মিত বেতনভাতা পাইতেছেন না। আবার তাহাদের সংগৃহীত বর্জ্য রাখিবার নির্দিষ্ট কোনো স্থান (এসটিএস) নাই। ফলে তাহারা রাস্তাঘাট এবং বুড়িগঙ্গা নদী ও নদীর আদি চ্যানেলে বর্জ্য ফেলিতেছেন। সেইসকল আবর্জনা নদীকে ক্রমেই গ্রাস করিয়া ফেলিতেছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এই অব্যবস্থা দেশের সর্বত্রই দেখা যাইবে। ছোট হইতে বড় জনপদ, উপজেলা হইতে ছোট জেলাশহর— খুব কম স্থানই রহিয়াছে যেই স্থানের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করা যাইবে। রাস্তার ধারে, নদী-খালসহ যত্রতত্র এইসকল বর্জ্য নিক্ষেপ করা হইয়া থাকে।  এইভাবে আমরা আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশকে দূষিত করিয়া ফেলিতেছি। একেকটি খাল ও নদীকে মারিয়া ফেলিতেছি। এই সকল খাল ও নদী  বাংলাদেশকে বরাবরই জীবনীশক্তি জোগাইয়া আসিয়াছে। এহেন উপকারী নদীকে পরিচর্যা ও যত্ন না করিয়া আমরা ক্রমাগতভাবেই দূষিত করিয়া চলিয়াছি। কেবল ইহার প্রাণবৈচিত্র্য নহে, খোদ নদীকেই আমরা হত্যা করিতে উদ্যত হইয়াছি। দূষণে ও দখলে নদীগুলির প্রাণ ওষ্ঠাগত, নাব্য হারাইয়া অনেক নদীই মৃত্যুবরণ করিয়াছে। নদী যেমন আমাদের বাঁচিয়া থাকার রসদ জোগায়, তেমনি নদীকে নিয়মিত পরিচর্যা করিবার দায়িত্ব আমাদেরই। ফলে জনসচেতনতার বিকল্প নাই। সিটি করপোরেশন কিংবা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলির সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে যদি এলাকার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে তাহা দুর্ভাগ্যজনকই বলিতে হইবে। বুড়িগঙ্গা নদী এমনিতেই দখলদার লোভী মানুষের দখলে ধুঁকিতেছে, কলকারখানার নির্গত দূষিত বর্জ্যে মরিয়া যাইতেছে, তাহার উপর যদি এইভাবে বর্জ্য নিক্ষেপ চলিতে থাকে, তাহা হইলে এই নদীকে আর কিছুতেই বাঁচাইয়া রাখা যাইবে না।

তাই অবিলম্বে কামরাঙ্গীরচরসহ দেশের সর্বত্র যেমন ময়লা ফেলিবার সুনির্দিষ্ট স্থান (এসটিএস) নির্ধারণসহ পরিবেশসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করিতে হইবে, তেমনি সাধারণ মানুষকেও পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন ও দায়িত্বশীল হইতে হইবে। পরিবার হইতে, বিদ্যালয় হইতে শিশুকালেই যেন পরিচ্ছন্নতার ধারণা দেওয়া হয় সেই সংস্কৃতি চালু করিতে হইবে। যেইসকল দেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য খ্যাত, যেমন জাপান, ঐসকল দেশে শিশুমনেই পরিচ্ছন্নতার ধারণার বীজ রোপিত হইয়া যায়। কারণ বিদ্যালয় ও পরিবারে এবিষয়ে খুব সচেতনভাবে শিশুদের ধারণা দেওয়া হয়, চর্চায় উত্সাহিত করা হয়। কেবল জনসচেতনতা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়াই দেশকে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন করিয়া গড়িয়া তোলা সম্ভব।

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৩ জুন, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন