পাহাড়ধস রোধে চাই দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা
১৪ জুন, ২০১৮ ইং
বর্ষা সমাগত। সমুদ্রে ঘনীভূত হইয়াছে নিম্নচাপ। অতঃপর রবিবার হইতে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে অব্যাহত ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটিয়াছে যথারীতি। রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় পাহাড় ধসিয়া নিহত হইয়াছে ১১ জন। ইহা ছাড়াও চম্পক নগর, লোকনাথ আশ্রম ও ভেদভেদী, রাঙ্গাপানিসহ আশেপাশে কিছু এলাকায় ছোটখাটো দেওয়াল ও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটিয়াছে। রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, পৌর এলাকায় ৬০৯টি পরিবার এবং জেলায় ৩ হাজার ৩৭৮টি পরিবার পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে বসবাস করিতেছে। এইদিকে ভারী বর্ষণের ফলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হইয়াছে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায়। ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গারা জানান, যাহারা পাহাড়ের উপরে ঘর বাঁধিয়াছিলেন তাহারা আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছেন। অন্যদিকে যাহারা পাহাড়ের নিচে ঘর বানাইয়াছেন তাহারা এখন বন্যার কবলে পড়িয়াছে। তীব্রগতির ঝড়ো বাতাসের সহিত ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের কবলে পড়িয়াছে তিন সহস্রাধিক মানুষ। পানির নিচে তলাইয়া গিয়াছে বালুখালী ক্যাম্প এলাকার সমতলের রোহিঙ্গা ঝুপড়িসহ চার শতাধিক পরিবারের আশ্রয়স্থল। পাহাড় ধসে বিধ্বস্ত হইয়াছে ৪ শতাধিক ঝুপড়ি ঘর। সোমবার পাহাড় ধসিয়া মৃত্যু হইয়াছে একটি শিশুর। আহত হইয়াছে তিন শতাধিক।

ফি বত্সর বর্ষা আসিবার পর পাহাড় ধসের ঘটনায় নিদ্রা ভঙ্গ হয় স্থানীয় প্রশাসনের। ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে আসিবার জন্য মাইকিংসহ অস্থায়ী ক্যাম্পের ব্যবস্থা করা হয় বটে। কিন্তু পাহাড় ধসের মূল কারণের দিকে দৃষ্টিপাত করা হয় না। বিগত ১১ বত্সরে সাড়ে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হইয়াছে পাহাড় ধসিয়া। একটি পরিসংখ্যান হইতে জানা যায়, গত তিন দশকে পাহাড়ি অঞ্চলে জনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাইয়াছে। সমতল ভূমিতে বসবাস করা অনেক মানুষও পাহাড়ে গিয়া বসতি স্থাপন করিতেছে অপরিকল্পিতভাবে। বসতি স্থাপন করিবার জন্য উঁচু-নিচু পাহাড় কাটিয়া তাহারা সমান করিতেছে যথেচ্ছভাবে। ফলে ক্রমশই দুর্বল হইয়া পড়িতেছে পাহাড়ের মাটি। ইহাতে নাজুক হইয়া পড়িতেছে পাহাড়ের প্রকৃতিগত ভারসাম্যও। অতঃপর প্রবল বর্ষণে দেখা দিতেছে পাহাড়-ধস।

কিন্তু কেবল বর্ষা মৌসুম আসিলেই প্রশাসন নড়িয়া চড়িয়া বসিবে, পাহাড়ের ঢালের বসতি উচ্ছেদের নামমাত্র ব্যবস্থা করিবে— ইহাতে এই সমস্যার প্রকৃত সমাধান সম্ভবপর নহে। উন্নত বিশ্ব পাহাড়কে যথাযথভাবে শাসন করিয়া অবকাঠামোগত বিস্ময়কর সব উন্নয়ন সাধন করিয়া থাকে। যথাযথ পাহাড় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই ধরনের ধসের ঘটনা প্রতিরোধ করা যায় সহজেই। আমাদের দেশে পাহাড় ধসের কারণ অনুসন্ধানে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে একটি দীর্ঘমেয়াদি জরিপের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। আর এক পাহাড় বিবেচনায় আনিয়া অন্যসকল পাহাড় ধসের জন্যও একই ব্যবস্থাপত্র প্রদান করিলে হিতে বিপরীত হইতে পারে। কারণ, একেক পাহাড়ের গঠন একেক রকম। এইক্ষেত্রে সকল পাহাড়ের জন্য আলাদা সুপারিশ তৈরি করা প্রয়োজন। নিশ্চিত করা প্রয়োজন যথাযথ সুরক্ষামূলক ব্যবস্থাদি।

 

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৪ জুন, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন