মাইক্রোপ্লাস্টিক হইতে সাবধান
১৪ জুন, ২০১৮ ইং
প্লাস্টিক দূষণের এক ভয়াবহ রূপ দেখা যাইতেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার দূষণের মধ্য দিয়া। বিজ্ঞানীরা জানাইতেছেন, সূর্য কিরণের প্রভাব ও দিনের পর দিন নদী-সমুদ্রে পতিত প্লাস্টিক বর্জ্য ঢেউয়ের ধাক্কায় ভাঙিয়া ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়। এইসকল প্লাস্টিকের অধিকাংশই মাইক্রোপ্লাস্টিক যাহা ৫ মিলিমিটার হইতেও ক্ষুদ্র। মাইক্রোপ্লাস্টিক ছড়াইয়া পড়িবার আরও এক কারণ হিসাবে মাটিতে ব্যবহূত সারকেও চিহ্নিত করিতেছেন বিজ্ঞানীরা। মাইক্রোপ্লাস্টিকযুক্ত পানি শোধনের পর যেই বর্জ্য তৈরি হয় তাহা সার হিসাবে জমিতে ব্যবহূত হয়। এইভাবে মাটির সহিত মাইক্রোপ্লাস্টিক মিশিয়া যাইতেছে প্রতিনিয়ত।

আয়ারল্যান্ডের গ্যালওয়ে-মায়ো ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির অধ্যাপক অ্যানি মেরি মাহন এই মর্মে উদ্বেগ প্রকাশ করিয়াছেন যে, মাটিতে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিক নদীনালায় পতিত হইবার পাশাপাশি যদি কোনোভাবে ভূগর্ভস্থ পানিতেও প্রবিষ্ট হয় তাহা হইলে ইহা নূতন এক বিপজ্জনক ব্যাপার হইবে। লন্ডনের কিংস কলেজের পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা দলের অধ্যাপক ফ্র্যাংক কেলি দাবি করিয়াছেন, বাতাসেও মিশিয়া যাইতেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। সারে ব্যবহূত মাইক্রোপ্লাস্টিক শুকাইয়া গিয়া বাতাসের সাথে মিশিতেছে। অধ্যাপক কেলি ও মাহন আশঙ্কা করিতেছেন, যদি বাতাসের এই মাইক্রোপ্লাস্টিক নিঃশ্বাসের মাধ্যমে আমাদের শ্বসনযন্ত্রে প্রবেশ করে তাহা হইলে ইহা শরীরের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গেও পৌঁছাইতে পারে। মাইক্রোপ্লাস্টিকের রাসায়নিক পদার্থ জায়গা করিয়া লইতে পারে আমাদের কোষের ভিতরে—যাহা কোষ ধ্বংসের কারণ হইতে পারে। এইসকল আশঙ্কা সত্য প্রমাণিত হইলে মানবসভ্যতার জন্য ইহা হইবে এক ভয়াবহ অশনিসংকেত।

পৃথিবী গত কয়েক দশকে ৮৩০ কোটি টন প্লাস্টিকসামগ্রী উত্পাদন করিয়াছে। ইহার মধ্যে ৬৩০ কোটি টন এক্ষণে বর্জ্য। প্রতি বত্সর বিশ্ব জুড়িয়া ৩৩ কোটি মেট্রিক টনের বেশি প্লাস্টিকজাত দ্রব্য উত্পাদিত হইতেছে। এভাবে চলিতে থাকিলে ২০৫০ সালের মধ্যে ১ হাজার ২০০ কোটি টন প্লাস্টিক বর্জ্য এই ধরিত্রীর বুকে জমিবে। সংখ্যাটা সহজে লিখা যায় বটে, কিন্তু চিন্তায় অনুমান করা কষ্টসাধ্য। পৃথিবীর সমুদ্রসমূহে এক্ষণে মত্স্যজাতীয় প্রাণীর তুলনায় প্লাস্টিকের পরিমাণ অধিক। নদী ও সমুদ্রে পতিত প্লাস্টিক মত্স্যজাতীয় প্রাণীর জীবনচক্র ও জলীয় পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিসাধনের পাশাপাশি মাছসহ অন্যান্য সামুদ্রিক খাদ্য উপকরণের মাধ্যমে মানুষের দেহেও প্রবেশ করিতেছে। সম্প্রতি প্লাস্টিকজাত বোতলের পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক খুঁজিয়া পাওয়ার ঘটনা বিশ্ব গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তুলিয়াছিল। এইভাবে বিভিন্ন উপায়ে খাদ্যচক্রে প্লাস্টিকের এই অনুপ্রবেশ তৈয়ার করিতেছে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি।

সভ্যতার বিকাশে প্লাস্টিক এক বিপ্লব আনিয়াছিল। কিন্তু এই প্লাস্টিকই এখন সভ্যতার নীরব ঘাতক হিসাবে আবির্ভূত হইয়াছে। প্লাস্টিক ব্যবহারে প্রতিটি মানুষ যদি মিতব্যয়ী না হয় অদূর ভবিষ্যতে ইহা মানবসভ্যতা ধ্বংসের কারণ হইবে কিনা এমন আশঙ্কাও বিজ্ঞানীদের তাড়িত করিতেছে। তাই নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদেই প্লাস্টিকের উত্পাদন, ব্যবহার এবং ইহার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অধিকতর সচেতন হওয়া প্রয়োজন এখনই।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ জুন, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন