রংপুরে যাহা ঘটিয়া গেল
১২ জুলাই, ২০১৮ ইং
রংপুর শহরের মুন্সিপাড়ার মরিয়ম নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে যাহা ঘটিয়া গেল তাহাতে আতঙ্কে রক্ত হিম হইয়া আসে। গত সোমবার দুপুর ১২টায় বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ছাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের বৃহদাকার কংক্রীটের পলেস্তারা যখন খসিয়া পড়ে, তখন নবম শ্রেণির ছাত্রীদের পরীক্ষা চলিতেছিল এবং ওই কক্ষেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিতেছিল ৩০ জন শিক্ষার্থী। ভাগ্যক্রমে শিক্ষার্থীদের বড় অংশ রক্ষা পাইলেও দুই শিক্ষার্থী আহত হইয়াছে। তাহাদের দ্রুত রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাণে বাঁচিয়া গেলেও শিক্ষার্থীদের ট্রমা বা আতঙ্ক সহজে কাটিবে বলিয়া মনে হয় না। সংগতকারণেই অভিভাবকসহ জনমনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হইয়াছে। দেখা দিয়াছে নানা প্রশ্ন। সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালে নির্মিত ওই একাডেমিক ভবনটি সংস্কার করা হইয়াছিল মাত্র এক বত্সর আগে। অন্যদিকে, রংপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক বলিয়াছেন যে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হইতেছে, রডের টেম্পার নষ্ট হইয়া যাওয়ার কারণেই ভবনটির ছাদের প্রায় ৮০-১০০ বর্গফুট আয়তনের একটি অংশ ধসিয়া পড়িয়াছে। কক্ষটি সিলগালা করিয়া দিয়াছে ফায়ার সার্ভিস। স্কুল কমিটির জরুরি সভা করিয়াছেন প্রধান শিক্ষক। যথারীতি তদন্তও হয়ত হইবে। কিন্তু দেশব্যাপী অনুরূপ ঝুঁকিতে থাকা হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মাথার উপর হইতে যেকোনো মুহূর্তে ছাদ ধসিয়া পড়ার আতঙ্ক যে দূর হইবে না— তাহা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।

সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৩ সহস্রাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ২০ হাজারই জরাজীর্ণ। রংপুরের মরিয়ম নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে অভিযোগ হইল, দীর্ঘদিন ধরিয়া সংস্কার না হওয়ায় বৃষ্টির পানিতে ওই ভবনের ছাদের বড় অংশই নষ্ট হইয়া গিয়াছিল। তাহা জানা সত্ত্বেও ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা না করিয়া সংস্কার করা হইল কাহার স্বার্থে, সেই প্রশ্ন উঠিতেই পারে। পুরাতন ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও কেন ভবনটিতে ক্লাস-পরীক্ষা চালানো হইতেছিল, সেই প্রশ্নও এড়াইয়া যাওয়া কঠিন। বিদ্যালয় ভবনের জরাজীর্ণতার কারণ হিসাবে আছে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার, নির্মাণকাজে অনিয়মসহ এন্তার অভিযোগ। আবার প্রয়োজনীয় ও সময়োচিত সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হইয়া পড়া বিদ্যালয় ভবনের সংখ্যাও কম নহে।  অভিযোগের ধরন ভিন্ন হইলেও পরিণতি সর্বত্রই অভিন্ন। আমাদের দেশে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার পথে যত ধরনের বাধা রহিয়াছে, তন্মধ্যে অবকাঠামোগত সমস্যাই যে মুখ্য তাহা অস্বীকার করিবার উপায় নাই। দেশ যখন দ্রুত আগাইয়া চলিয়াছে এবং নিজস্ব অর্থে বাস্তবায়িত হইতেছে পদ্মাসেতুর মতো মেগা প্রকল্প, তখন শিক্ষাখাতের এই উদ্বেগজনক চিত্র মানিয়া লওয়া কঠিন বৈকি।

আমরা বরাবরই বলিয়া আসিতেছি যে, অর্থাভাব নহে, মূলত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের দায়িত্বহীনতা এবং উদ্যোগ ও আন্তরিকতার অভাবই ইহার জন্য দায়ী। কারণ প্রতিটি উপজেলাতেই এই সকল বিষয় দেখভাল করিবার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা আছেন, আছেন স্থানীয় প্রশাসনসহ শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাও। সর্বোপরি, শিক্ষার প্রতি সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক মহলের বিশেষ অনুরাগ ও অগ্রাধিকারের বিষয়টিও সুবিদিত। এতদসত্ত্বেও কেন আমাদের শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি লইয়া জরাজীর্ণ ভবনে শিক্ষা গ্রহণ করিতে হইবে—তাহা আমাদের বোধগম্য নহে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১২ জুলাই, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৫২
যোহর১২:০৪
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৫২
এশা৮:১৫
সূর্যোদয় - ৫:১৯সূর্যাস্ত - ০৬:৪৭
পড়ুন