পুলিশের আবাসন সংকট
১৩ জুলাই, ২০১৮ ইং
ইত্তেফাকের খবরে প্রকাশ, পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়া বসবাস করিতেছে গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানার পুলিশ কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ। দীর্ঘদিন ধরিয়া তাহারা এই আবাসন সংকটে ভুগিতেছেন। বর্তমানে থানা কম্পাউন্ডে যে তিনটি ভবন রহিয়াছে তাহার দুইটিই পরিত্যক্ত। বত্সর তিনেক আগে এই দুইটি ভবনকে ব্যবহারের অনুপযোগী ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এতদিনেও ইহার কোনো সমাধান করা হয় নাই। বিশেষ করিয়া থানা কম্পাউন্ডে পুলিশগণ যে মেসে থাকেন, সেই ভবনটির অবস্থা খুবই শোচনীয়। একটু বৃষ্টি হইলেই ছাদের ফাটল দিয়া পড়ে পানি। এইজন্য রাত্রে অনেকেই ঠিকমত ঘুমাইতে পারেন না। এই ভবন দুইটি সংস্কার করা বা তদস্থলে নূতন করিয়া আবাসিক ভবন তৈরি করা অপরিহার্য হইয়া পড়িয়াছে।

গত বত্সর ইত্তেফাকে পুলিশের আবাসন ব্যবস্থা নিয়া একটি সরেজমিন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। তাহাতে দেখা যায়, বহুক্ষেত্রেই মাঠপর্যায়ের থানা-পুলিশের অবস্থা মোটেও ভালো নহে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুলিশের জন্য মনোরম থানা ভবন ও তাহাদের থাকিবার সুব্যবস্থা রহিয়াছে। আবার কোনো কোনো স্থানের পুলিশের থাকিবার ঘরকে গ্রামের গোয়ালঘর কিংবা মুরগির খামারের সহিত তুলনা করা হয়। সেখানকার পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা, দুর্গন্ধময় ও অস্বাস্থ্যকর। বিশেষ করিয়া থানা ফাঁড়ির ৯০ শতাংশ পুলিশ-সদস্যের আবাসনের সংকট প্রকট। অনেকে এমন আধাপাকা ঘরে থাকিতেছেন, যেখানে নাই পয়ঃনিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও। পুলিশ সদস্যগণ আমাদের জান-মাল রক্ষা তথা নিরাপত্তার কাজে সর্বদা নিয়োজিত। সেইখানে তাহাদের নিজেদের জীবনের নিরাপত্তাই যদি না থাকে এবং তাহারা যদি সঠিক আবাসনের অভাবে ঠিকমতো ঘুমাইতে না পারেন, তাহলে তাহারা কীভাবে দেশ ও জাতির নিরাপত্তার বিধান করিবেন? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত বত্সর লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার নবনির্মিত ভবন উদ্বোধনকালে বলিয়াছিলেন যে, পুলিশের আবাসন সমস্যার সমাধানের জন্য দেশে ১০১টি উপজেলায় নূতন করিয়া থানা ভবন নির্মাণ করা হইবে। ইহাতে বহুলাংশে দূর হইবে তাহাদের দীর্ঘদিনের কষ্ট ও বঞ্চনা। আমরা পুলিশের আধুনিক যানবাহন ও অস্ত্রশস্ত্রের পাশাপাশি আবাসন সংকটের সমাধানের বিষয়টিকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলিয়া মনে করি।

ষোলো কোটি মানুষের দেশে জনসংখ্যার আধিক্য সত্ত্বেও আমাদের পুলিশ বাহিনী দক্ষতার সহিত দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করিয়া চলিয়াছেন। আমরা জানি, শুধু বাংলাদেশে নহে, গোটা ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষ সহজে নিয়ম-কানুন মানিয়া চলিতে চাহেন না। অনেকে এই ব্যাপারে গ্রাহ্যই করেন না। এখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা বরাবরই একটি কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং কাজ। পুলিশ সদস্যরা জীবনবাজি রাখিয়া দেশের জন্য কাজ করিয়া থাকেন। এই কঠিন কাজটি যাহাতে আমাদের পুলিশ-সদস্যরা সুচারুভাবে করিতে পারেন, তাহার জন্য তাহাদের আবাসন সংকটের টেকসই সমাধানের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন। সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যে পুলিশের ব্যারাক ও রেশন সমস্যা এবং পদোন্নতি জটিলতা দূর হইয়াছে। নূতন নূতন বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট, তদন্ত কেন্দ্র ও ফাঁড়ি গড়িয়া উঠিতেছে, যাহা আশাব্যঞ্জক। এখন পুলিশের কর্মস্থল ও আবাসস্থলের কাঙ্খিত উন্নয়ন দরকার।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ জুলাই, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৫৩
যোহর১২:০৪
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৫২
এশা৮:১৫
সূর্যোদয় - ৫:১৯সূর্যাস্ত - ০৬:৪৭
পড়ুন