নিরাপত্তাই প্রথম
১৩ জুলাই, ২০১৮ ইং

বিশ্বের উন্নত, অনুন্নত প্রায় সকল দেশেই কর্মক্ষেত্রে কমবেশি দুর্ঘটনা ঘটিয়া থাকে। বাংলাদেশও ইহার ব্যতিক্রম নহে। কিন্তু দুর্ঘটনা যদি সচেতনতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করিবার কারণে ঘটিয়া থাকে, তবে তাহাকে দুর্ঘটনা বলাটা সমীচীন হইবে না। স্বাধীনতার পর দেশে শিল্প-কারখানা বহুগুণে বৃদ্ধি পাইয়াছে। তৈরি হইয়াছে অসংখ্য নূতন কর্মক্ষেত্র। কিন্তু আধুনিক ব্যবস্থাপনার সহিত তাল মিলাইয়া বৃদ্ধি পায় নাই কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরাপত্তা। বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ফাউন্ডেশন (ওশি) ফি বত্সর যেই সকল জরিপকৃত প্রতিবেদন প্রকাশ করিতেছে, তাহাতে অন্তত এই চিত্র প্রকাশ পাইতেছে যে, ‘সেফটি ফার্স্ট’ বা ‘নিরাপত্তাই প্রথম’—এই অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির প্রতি অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের উদাসীনতা রহিয়াছে। ওশি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বত্সর কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবে পেশাগত দুর্ঘটনায় নিহত হইয়াছেন এক হাজার ২৪২ জন শ্রমিক। গত ১০ জুলাই ইত্তেফাকে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদন হইতে জানা যায়, চলতি বত্সরের ছয় মাসে কর্মক্ষেত্রে মোট ২৮৫টি দুর্ঘটনা ঘটিয়াছে। এইসকল দুর্ঘটনায় নিহত হইয়াছেন ৩৫২ জন শ্রমিক। এই তথ্য প্রকাশ করিয়াছে শ্রমিকের অধিকার লইয়া কাজ করা বেসরকারি সংগঠন ‘সেইফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটি’। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গিয়াছে, সবচাইতে বেশি শ্রমিক নিহত হইয়াছে সড়ক দুর্ঘটনায়। ইহার পর রহিয়াছে নির্মাণ খাত। হোটেল, ওয়ার্কশপ, বিদ্যুত্ সরবরাহ প্রতিষ্ঠানের মতো সেবামূলক ও অন্যান্য উত্পাদনশীল প্রতিষ্ঠানে নিহতের সংখ্যাও কম নহে।

কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার হ্রাস পায় নাই—জরিপে ইহা স্পষ্টতই প্রকাশ পাইয়াছে। বলিবার অপেক্ষা রাখে না, দৈনিক সংবাদপত্রের ভিত্তিতে জরিপকৃত কর্মক্ষেত্র দুর্ঘটনায় মৃত্যুর এইসকল পরিসংখ্যানের চাইতে প্রকৃত চিত্র নিশ্চয় আরো খারাপ। কারণ কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার সব খবর সবসময় সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয় না। শ্রমিকের নিরাপত্তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অনেক প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ এখনো সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেন না, ইহা দুর্ভাগ্যজনক। প্রত্যেক শ্রমিককে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সরঞ্জামাদির ব্যবহার নিশ্চিত করিবার প্রথম দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের। শ্রমিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করিতে হইবে, যাহাতে তাহারা নিরাপত্তার সহিত কখনো আপস না করেন। শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের অভাব, পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাবিষয়ক জ্ঞানের অভাব এবং শিল্পকারখানায় সেইফটি কমিটি গঠনের বিধান অনেকাংশে উপেক্ষা করা হয়। মনে রাখিতে হইবে, অর্থনৈতিক অগ্রগতির সহিত কর্মপরিবেশের উন্নয়ন ও শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উন্নয়নকে টেকসই করিবার অন্যতম পূর্বশর্ত। তাই কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো প্রকার শিথিলতা কাম্য নহে। নিরাপত্তাই প্রথম—এই দুই শব্দের বাক্যটি সর্বক্ষেত্রে শিরোধার্য করিতে হইবে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ জুলাই, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৫৩
যোহর১২:০৪
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৫২
এশা৮:১৫
সূর্যোদয় - ৫:১৯সূর্যাস্ত - ০৬:৪৭
পড়ুন