কে লইবে এইসকল মর্মান্তিক মৃত্যুর দায়?
১০ আগষ্ট, ২০১৮ ইং

ট্রেনে কাটা পড়িয়া বিচ্ছিন্ন হইয়া গিয়াছে এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের দুই পা। গুরুতর আহত রবিউল আলম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের ছাত্র। বুধবার সকালে নগরীর ষোলশহর রেল স্টেশনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ষোলশহর স্টেশনের স্টেশনমাস্টার সিসি ফুটেজের বরাত দিয়া বলিয়াছেন যে, রবিউল রেললাইনের উপর দিয়া হাঁটা অবস্থায় এই দুর্ঘটনার শিকার হন। প্রত্যক্ষদর্শী ও বন্ধুরা জানাইয়াছেন যে, বটতলী হইতে ছাড়িয়া আসা বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেন ধরিবার জন্য তিনি রেললাইনের উপর দিয়া হাঁটিয়া প্লাটফর্মে যাইতেছিলেন। এই সময়ে পিছন হইতে ট্রেন তাহাকে ধাক্কা দেয়। আগামী ১২ আগস্ট হইতে রবিউলের মাস্টার্স পরীক্ষা শুরু হইবার কথা। সাধারণ পরিবারের সন্তান রবিউল। তাহাকে ঘিরিয়া কত স্বপ্ন গোটা পরিবারের। সবই এখন অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ঢাকা পড়িবার উপক্রম হইয়াছে। সঙ্গত কারণেই বেদনায়-ক্ষোভে উত্তাল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। রবিউলের চিকিত্সার ব্যয়ভার বহন ও যাতায়াত সমস্যার সমাধানসহ নানা দাবিও তুলিয়া ধরা হইয়াছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের পক্ষ হইতে। রবিউলের জন্য তবু তাহার সহপাঠীরা সোচ্চার হইয়াছেন, কিন্তু দেশের নানা স্থানে প্রায়শ ট্রেনে কাটাপড়া হতভাগ্যদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের পাশে দাঁড়াইবার মতো বলিতে গেলে কেহই থাকে না। প্রাণে বাঁচিয়া  গেলেও সারা জীবন তাহাদের পঙ্গুত্বের দুর্বহ বোঝা বহন করিয়া যাইতে হয়।  

রবিউলের দুর্ঘটনা যত মর্মান্তিকই হউক, ইহাকে বিচ্ছিন্ন করিয়া দেখিবার উপায় নাই। নানা কারণে রেলপথও যেন পরিণত হইয়াছে মৃত্যুফাঁদে। প্রসঙ্গত লক্ষণীয় যে, ২০১৭ সালে সারা দেশে ট্রেনে কাটা পড়িয়া দুই সহস্রাধিক লোকের মৃত্যু হইয়াছে। তন্মধ্যে রেলওয়ে পুলিশ হেড কোয়ার্টারের তথ্য অনুযায়ী, শুধু রাজধানীতেই মারা গিয়াছে ৫ শত জন। কেন এত মৃত্যু? এইসকল মৃত্যু কি অনিবার্য ছিল? এমন সব প্রশ্ন এড়াইয়া যাওয়া কঠিন। দেখা যায়, ট্রেন দুর্ঘটনাজনিত কারণে যত মানুষ মারা যায়, তাহার চাইতে বহুগুণ বেশি মারা যায় ব্যক্তিগত অসতর্কতার কারণে। দেখা যায়, কানে হেডফোন লাগাইয়া অথবা মোবাইল ফোনে কথা বলিতে বলিতে অসতর্কভাবে রেললাইন ধরিয়া হাঁটা ব্যক্তির সংখ্যাই অধিক। কানে হেডফোন লাগানো অবস্থায় তিন বত্সরে ৪৩০ জনের লাশ উদ্ধার করা হইয়াছে। এই তথ্য রেলওয়ে পুলিশের। তাড়াহুড়া করিয়া রেলক্রসিং পার হইতে গিয়া কিংবা চলন্ত ট্রেনের সহিত সেলফি তুলিতে গিয়াও কিছু দুঃখজনক ঘটনা ঘটিতেছে। রেলওয়ের মহাপরিচালক বলিয়াছেন, ট্রেনে কাটা পড়িয়া সম্ভবত সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায় বাংলাদেশে। তথ্যটি উদ্বেগজনক শুধু নহে, অগ্রহণযোগ্যও বটে।

এই মৃত্যু থামাইতে হইবে—এমন কথা বলা সহজ, কিন্তু কাজটি কঠিন বলিলে কমই বলা হয়। ব্রিটিশ আমলে প্রণীত বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, রেললাইন ধরিয়া হাঁটা দণ্ডনীয় অপরাধ। শুধু রেললাইন নহে, লাইনের দুই পাশে (১০ ফুট করিয়া) ১৪৪ ধারা জারি থাকে। কিন্তু কেহই এইসবের তোয়াক্কা করেন না। রেললাইনের উপর দিয়া হাঁটাচলা তো আছেই, রেললাইনের অংশ দখল করিয়া বস্তি-কাঁচাবাজার—এমনকি স্থায়ী দোকানপাটও গড়িয়া তোলা হইয়াছে বহু স্থানে। রেলওয়ে পুলিশ বলিতেছে, মানুষ সচেতন না হইলে এই মৃত্যু বন্ধ করা যাইবে না। কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্য অযথার্থ নহে। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিজেরাও সর্বাংশে এই দায় এড়াইতে পারিবেন বলিয়া মনে হয় না।  

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১০ আগষ্ট, ২০১৮ ইং
ফজর৪:১১
যোহর১২:০৪
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৩৯
এশা৭:৫৭
সূর্যোদয় - ৫:৩২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৪
পড়ুন