বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু ও গডফাদারদের দৌরাত্ম্য
১০ আগষ্ট, ২০১৮ ইং
বঙ্গোপসাগরের জেলেদের অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা নূতন কিছু নহে। গত ২৮ জুলাই শনিবার অপহরণ ও মুক্তিপণের ঘটনা ঘটিয়াছে বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পশ্চিমে দুবলারচর এলাকায়। অত্রাঞ্চলের জেলে বহরে গণডাকাতির পর মুক্তিপণের দাবিতে দুইটি ট্রলারসহ ২০ জেলেকে অপহরণ করিয়া লইয়া যায় দস্যু ‘ছোট ভাই’ বাহিনীর সদস্যরা। অপহূত জেলেদের মধ্যে ১৩ জেলেকে গত বুধবার উদ্ধার করিতে সক্ষম হয় র্যাব। উদ্ধার হওয়া জেলেদের একটি সূত্র জানাইয়াছে, তাহাদের মুক্ত করিতে মহাজন ও অভিভাবকরা দস্যুদের মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ পরিশোধ করিয়াছে বিকাশের মাধ্যমে।

জলদস্যুদের হাত হইতে নৌকা, জেলে ও মাছ ধরিবার সরঞ্জাম ছাড়াইতে অথবা নূতন করিয়া নৌকা, জাল ও মাছ ধরিবার সরঞ্জাম ক্রয় করিতে বিপুল অঙ্কের টাকা গুনিতে হয় মত্স্য ব্যবসায়ীদের। অতীতে দেখা গিয়াছে যে, জলদস্যুদের শিকারে পরিণত অসহায় ব্যবসায়ীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারস্থ হইতে চাহেন না। তাহাদের অতীত অভিজ্ঞতা এইরূপ ছিল যে, প্রশাসনকে জানাইলে বরং নৌকা ফেরত পাইবার সম্ভাবনা কমিয়া যায়। আমরা অবশ্য সম্প্রতি দেখিয়াছি যে, সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়িয়া যাইবার পর সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করিয়াছে। জলদস্যুদের স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনে ফিরিয়া আসিবার সুযোগ প্রদানের পাশাপাশি এই ব্যাপারে তাহাদের সর্বপ্রকার সহায়তা করা হইতেছে। এই কারণে বিগত কয়েক বত্সরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করিয়াছে অনেকগুলি জলদস্যু বাহিনী।

বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবনের অর্থনৈতিক তাত্পর্য সীমাহীন। এই অঞ্চলটি লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন-জীবিকার সহিত জড়িত। তাই সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগর গুটিকয়েক জলদস্যুর হাতে জিম্মি থাকিতে পারে না। উল্লেখ করা যাইতে পারে যে, আন্তর্জাতিক আদালতে আইনি লড়াই চালাইয়া বঙ্গোপসাগরে সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত সমস্যা মিটমাটের পর আমরা বর্তমান বাংলাদেশের প্রায় সমপরিমাণ সমুদ্র অঞ্চলের মালিকানা লাভ করিয়াছি। ফলে দেশে রাতারাতি ব্লু-ইকোনমি তথা সমুদ্রকেন্দ্রিক অর্থনীতির গুরুত্ব বাড়িয়া গিয়াছে। সুতরাং আমাদের এই জলজসম্পদকে দেশের অভ্যন্তরের দস্যুদের হইতে নিরাপদ রাখিতে হইবে। তাহা ছাড়া, এই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বের কারণেও ইহার নিরাপত্তা বিধান করা অত্যাবশ্যক।

জলদস্যুবৃত্তি হইতে ইতোমধ্যে যাহারা আত্মসমর্পণ করিয়াছে, তাহাদের যথাযথভাবে পুনর্বাসনেরও দৃষ্টান্ত স্থাপন প্রয়োজন, যাহাতে বর্তমান জলদস্যুরাও ইহাতে উদ্বুদ্ধ হয়। তবে আমরা আরো একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি ইতিপূর্বে দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়াছি, তাহা হইল—এই অঞ্চলে স্থায়ীভাবে জলদস্যুবৃত্তি বন্ধ করিতে হইলে সর্বাগ্রে প্রয়োজন জলদস্যুদের গডফাদারদের চিহ্নিত করা এবং তাহাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কারণ, আড়ালে তাহারাই সকল কিছুর কলকাঠি নাড়ে। সুতরাং তাহাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে না পারিলে এই সমস্যার কার্যকর সমাধান অনিশ্চিতই থাকিয়া যাইবে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১০ আগষ্ট, ২০১৮ ইং
ফজর৪:১১
যোহর১২:০৪
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৩৯
এশা৭:৫৭
সূর্যোদয় - ৫:৩২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৪
পড়ুন