কিশোররা কেন ভয়ঙ্কর হইয়া উঠিতেছে?
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

দক্ষিণখান চেয়ারম্যানবাড়ি নগরিয়া এলাকার কিশোর মেহেদী হাসান শুভকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় গত ৩১ আগস্ট। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত শনিবার গোয়েন্দা পুলিশ আট কিশোরকে গ্রেপ্তার করিয়াছে। তাহাদের জিজ্ঞাসাবাদে যাহা বাহির হইয়া আসিয়াছে, তথ্য হিসাবে তাহা ভয়ঙ্কর হইলেও একেবারে অপ্রত্যাশিত বলা যাইবে না। তদন্তের সহিত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, মূলত এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, বড়-ছোট দ্বন্দ্ব এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করিয়া দুই গ্রুপের চলমান সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে মেহেদী খুন হয়। লোমহর্ষক তথ্যটি হইল, শুধু দক্ষিণখানের চেয়ারম্যানবাড়ি এলাকায় কিশোরদের কমপক্ষে পাঁচটি গ্রুপ সক্রিয় আছে। এই গ্রুপগুলি ওই এলাকায় চাঁদাবাজি, ইভ টিজিং, ছিনতাই, হত্যাকাণ্ডসহ নানা ধরনের অপরাধের সাথে জড়িত—যাহা আতঙ্কজনক শুধু নহে, অবিশ্বাস্যও মনে হইতে পারে। মাত্র ১৪ বত্সর বয়সী নিহত কিশোর মেহেদীও ইহার ব্যতিক্রম নহে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে গত কয়েক বত্সর যাবত্ উত্তরা, তেজগাঁও ও মোহাম্মদপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কথিত কিশোর গ্যাং-এর হাতে অনুরূপ একাধিক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা জনমনে উদ্বেগের সঞ্চার করিয়াছে। ঘটনার ভয়াবহতায় উদ্বিগ্ন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বিশদ তদন্তের মাধ্যমে কিশোর অপরাধীদের এলাকাভিত্তিক তালিকাও প্রকাশ করিয়াছে। সেই সাথে তুলিয়া ধরিয়াছে ইহার সহিত মাদকাসক্তি ও মাদকব্যবসাসহ স্থানীয় প্রভাবশালীদের সম্পৃক্ততার ভয়াবহ কিছু তথ্যও। কিশোর অপরাধের এই ব্যাধি যে ইতোমধ্যে ঢাকার গণ্ডি ছাড়াইয়া বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ দেশের প্রায় সর্বত্র ছড়াইয়া পড়িয়াছে—তাহাও অস্বীকার করিবার উপায় নাই। চট্টগ্রামে কিশোর সহপাঠীকে হিংস্র কুকুর লেলাইয়া দিয়া ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে হত্যার বিষয়টি এখনো মানুষকে শিহরিত করে। ইহার পর অনুরূপ আরও কয়েকটি হত্যার ঘটনা ঘটিয়াছে চট্টগ্রামে। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই কিশোরদের অবিশ্বাস্য রকম ভয়ঙ্কর হইয়া উঠিবার আলামত লক্ষ করা যাইতেছে— যাহা খুবই উদ্বেগজনক বলিয়া আমরা মনে করি।

চাঁদাবাজি, অপহরণ, ধর্ষণ হইতে শুরু করিয়া খুনাখুনি পর্যন্ত হেন অপরাধ নাই— যাহার সহিত উঠতি বয়সী এই কিশোরেরা জড়াইয়া পড়িতেছে না। কিশোর অপরাধের সর্বাপেক্ষা বড় ভিকটিমে পরিণত হইয়াছে স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীরা। তাহারা কেবল শারীরিকভাবেই আক্রান্ত হইতেছে না, তথ্যপ্রযুক্তির যথেচ্ছ অপব্যবহার করিয়াও তাহাদের হেনস্থা করা হইতেছে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে। বলা সহজ যে বেপরোয়া এই কিশোরদের লাগাম এখনই টানিয়া ধরা দরকার, কিন্তু কাজটি যে মোটেও ততটা সহজ নহে, খোদ পুলিশ প্রশাসনও তাহা স্বীকার করিয়া করিয়াছেন। কেন কিশোররা ভয়ঙ্কর হইয়া উঠিতেছে— তাহার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা না গেলে চিকিত্সাও ব্যর্থ হইতে বাধ্য। তবে যেই বিষয়টিতে সকলেই একমত তাহা হইল, পরিবার ও সমাজকে অধিকতর সক্রিয় ও দায়িত্বশীল হইতে হইবে। শুধু আইনের কঠোরতা দিয়া এই ব্যাধি সারানো যাইবে না। একইসাথে পথভ্রষ্ট এই কিশোরদের পিছনে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মদদদানের যে গুরুতর অভিযোগ রহিয়াছে, সেইটিকেও বিবেচনায় আনিতে হইবে গুরুত্বের সাথে। দল-মত-সামাজিক অবস্থাননির্বিশেষে তাহাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হইবে। কারণ কিশোরদের বখিয়া যাইবার পিছনে মাদক নামক যেই বস্তুটি বলিতে গেলে নিয়ামক ভূমিকা পালন করিতেছে—ইহার নেপথ্যে যাহারা কলকাঠি নাড়িতেছে তাহাদের ব্যাপারে আপসের কোনো সুযোগ নাই।     

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:২৮
যোহর১১:৫৫
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০৮
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৩
পড়ুন