আমাদের আরো সতর্ক হওয়া প্রয়োজন
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
মহান জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন যে, এত বড় আন্দোলন হইল, তাহার পরও আমাদের সচেতনতা নাই। সড়কে যানবাহন ও পথচারীর চলাচলে নিয়ম-শৃঙ্খলা ফিরাইয়া আনিতে হইলে সর্বাগ্রে দরকার নাগরিক সচেতনতা। ফিটনেসযুক্ত যানবাহন, দক্ষ ও লাইসেন্সধারী চালক, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, পর্যাপ্ত ফুটপাত-ফুটওভারব্রিজ, হাইওয়ে বিশ্রামাগার স্থাপনসহ প্রধানমন্ত্রীর সামপ্রতিক কয়েকটি নির্দেশনার বাস্তবায়ন ইত্যাদি অবশ্যই দরকার। কিন্তু চালকের পাশাপাশি পথচারীদের বেপরোয়া মনোভাবও যদি দূর না হয়, তাহা হইলে সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধ হইবে কীভাবে? প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে সেই আক্ষেপের কথাই ফুটিয়া উঠিয়াছে। ট্রাফিক পুলিশ, বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের সমন্বয়ে ট্রাফিক সচেতনতা কার্যক্রম চলিতেছে। অথচ তাহার মধ্যেও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটিতেছে অহরহ।

গত জুলাই মাসে বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর আন্দোলনে নামেন ছাত্র-ছাত্রীরা। পরে এই আন্দোলন ছড়াইয়া পড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে। টানা ১০ দিনের সেই আন্দোলনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় যান চলাচলে শৃঙ্খলা আনিবার চেষ্টা করে। কিন্তু এই আন্দোলনের পর ঢাকার রাস্তায় আইন অমান্য করিবার সেই পুরাতন চিত্র আবার পরিলক্ষিত হইতেছে। অন্যদিকে সড়ক দুর্ঘটনার খবরও পাওয়া যাইতেছে প্রতিদিনই। গত বুধবার কক্সবাজারের চকোরিয়ায় একটি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে যাত্রীবাহী টমটম গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে এক নারীসহ চারজন নিহত হন। ঠিক তাহারই আগের দিন মঙ্গলবারে এই স্থান হইতে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে আরেকটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। সেই দুর্ঘটনায় তিন নারীসহ প্রাণ হারান সাতজন। প্রায় একই স্থানে বারবার সড়ক দুর্ঘটনা কেন ঘটিতেছে, তাহাও চিন্তার বিষয়।

মোদ্দাকথা, সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস করিতে হইলে আমাদের প্রত্যেকেরই সচেতন ও দায়িত্ববান হইতে হইবে। বাবা-মা যেমন নিজে কিংবা সন্তানদের লইয়া ঝুঁকিপূর্ণভাবে রাস্তা পার হইতে পারেন না, তেমনি চালকদেরও নিয়ম মানিয়া নির্দিষ্ট গতিতে গাড়ি চালাইতে হইবে। পথচারীদের ভাবিয়া দেখিতে হইবে যে, শুধু হাত দেখাইয়াই যখন-তখন রাস্তা পার হওয়া যায় না, কেননা অনেক সময় হুট করিয়া দ্রুতগতির যান থামানো সম্ভব হয় না। আবার কোনো একটি সামান্য অ্যাক্সিডেন্ট হইবার পর বা গাড়িতে ধাক্কা লাগিবার সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায়, ড্রাইভার প্রাণের ভয়ে তাহাকে চাপা দিয়াই চলিয়া যাইবার চেষ্টা করে। ফলে যাহার বাঁচার কথা ছিল, সে বাঁচে না। আমরা আইন নিজের হস্তে তুলিয়া নিয়া ড্রাইভারকে মারধর করি বলিয়াই এমনটি হয়। প্রধানমন্ত্রী এই ব্যাপারেও দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়াছেন। অনেক সময় অনেকেই দৌড় দিয়া রাস্তা পার হন, গাড়িতে বসিবার সময় জানালায় হাত ঝুলাইয়া রাখেন, মাথা বাহির করিয়া রাখেন। আমাদের মনে রাখিতে হইবে, সময়ের চাইতে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। আবার এক একটি দুর্ঘটনা সারাজীবনের জন্য কান্নায় রূপান্তরিত হইতে পারে। তাই সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস বা বন্ধ করিতে হইলে আমাদের সার্বিকভাবে সচেতন হইবার কোনো বিকল্প নাই। বিশেষ করিয়া জেব্রা ক্রসিং, আন্ডারপাস, ফুটওভারব্রিজ ইত্যাদি ব্যবহারে আমাদের আরো সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:২৯
যোহর১১:৫৫
আসর৪:২০
মাগরিব৬:০৭
এশা৭:২০
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০২
পড়ুন