বেদেপল্লীতে গুজবের আগুন!
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ভিত্তিহীন গুজব ছড়াইয়া রীতিমতো তাণ্ডব চালানো হইয়াছে নোয়াখালী সদর উপজেলার পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামের বেদেপল্লীতে। ভাঙচুর হইয়াছে অর্ধশতাধিক ঘর; আগুন দেওয়া হইয়াছে আরও ৩০টি ঘরে।  দরিদ্র এই বেদেপল্লীতে এখন শুধু পোড়া গন্ধ আর বিপন্ন বেদেদের হাহাকার। জানা যায়, গত রবিবার স্থানীয় করইতলা এলাকার একটি দোকানে এক বেদে কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করিয়া এক বেদে যুবকের সঙ্গে স্থানীয়দের বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। হাতাহাতির সময় আহত স্থানীয় এক কিশোরের মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করিয়া গত সোমবার বেদেপল্লীতে এই ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দিনদুপুরে শত শত মানুষ অস্ত্রশস্ত্র লইয়া তাহাদের উপর হামলা চালায়। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের পাশাপাশি মারধর করা হইয়াছে নারী-পুরুষ ও শিশুদের। ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক ও নিন্দনীয়। বিশেষ করিয়া সরকার যখন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত করার মাধ্যমে জাতি-ধর্ম-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকলের অধিকার রক্ষায় বদ্ধপরিকর, এমন একটি প্রেক্ষাপটে কোনো অজুহাতেই এই ধরনের হামলার ঘটনা গ্রহণযোগ্য হইতে পারে না।

নানা ধরনের প্ররোচনা সত্ত্বেও বাংলাদেশে যে একটি চমত্কার সম্প্রীতির পরিবেশ বিরাজমান তাহা অস্বীকার করা যাইবে না। সামগ্রিক বিচারে নোয়াখালীতে যাহা ঘটিয়াছে তাহা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলিয়াই প্রতীয়মান হয়; যদিও সংশ্লিষ্ট বেদে সর্দাররা ইহাকে তাহাদের সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা বলিয়াই মনে করেন। তাহাদের অভিযোগ, এ পল্লীতে নানা অজুহাতে এ যাবত পাঁচবার হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়াছে। আমরা আশা করি, স্থানীয় প্রশাসন অভিযোগটিকে গুরুত্বের সহিত গ্রহণ করিবেন। জনপ্রতিনিধিদেরও এখানে যথেষ্ট দায়িত্ব রহিয়াছে। স্বস্তির বিষয় হইল, স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করিয়াছেন। সংসদ সদস্য তাহার ব্যক্তিগত তহবিল হইতে ক্ষতিগ্রস্তদের কিছু আর্থিক সহায়তাও দিয়াছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ হইতেও সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হইয়াছে। থানায় পৃথক দুইটি মামলা হইয়াছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ কয়েকজনকে আটক করিয়াছেন। সংঘাত এড়াইতে এলাকায় অস্থায়ী একটি পুলিশ ক্যাম্পও স্থাপন করা হইয়াছে। অনতিবিলম্বে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনিতে হইবে—ইহাই প্রত্যাশিত। 

বলা বাহুল্য, গুজব ছড়াইয়া সহিংস হামলার এই ঘটনা আমাদের অনুরূপ আরও কিছু মর্মান্তিক ঘটনার কথা মনে করাইয়া দেয়। তন্মধ্যে কক্সবাজারের রামু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও রংপুরের গঙ্গাচড়ার ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তখনো স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা লইয়া প্রশ্ন উঠিয়াছিল। প্রমাণিত হইয়াছিল যে, তাহারা যথাসময়ে যথাযথভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করিলে এমন ঘটনা অনেকটাই এড়ানো যাইত। একই কথা এই ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলিয়া আমরা মনে করি। সম্প্রদায়গত সম্প্রীতি ও সকলের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে বর্তমান সরকারের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি সুবিদিত। আমরা আগেও বলিয়াছি, আবারও বলি, কোনো অজুহাতে কোনো কুচক্রী মহল যাহাতে বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই আবহ নস্যাত্ করিতে না পারে যেকোনো মূল্যে তাহা নিশ্চিত করিতে হইবে। আর এইক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বই যে সর্বাধিক— তাহা বলার অপেক্ষা রাখে না। 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:২৯
যোহর১১:৫৫
আসর৪:২০
মাগরিব৬:০৭
এশা৭:২০
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০২
পড়ুন