প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নের সদুত্তর কি মিলিবে?
১১ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
উপজেলা হাসপাতালগুলিতে চিকিত্সকদের নূতন পদ সৃষ্টি এবং সেই পদে চিকিত্সক নিয়োগ দেওয়ার পরও সেইখানে চিকিত্সক থাকেন না। ফলে জরুরি মুহূর্তে চিকিত্সাবঞ্চিত হইয়া চরম দুর্ভোগে পড়িতেছেন গ্রামগঞ্জের মানুষ। সংবাদপত্রের পাতায় প্রায়শ এই ধরনের খবর প্রকাশিত হয়। ইহা লইয়া ভুক্তভোগীদের অসন্তোষ ও অভিযোগের অন্ত নাই। এমনকী জাতীয় সংসদেও ক্ষোভ প্রকাশ করিতে দেখা যায় জনপ্রতিনিধিদের। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুনির্দিষ্টভাবে সতর্কবার্তাও উচ্চারণ করিয়াছেন একাধিকবার। কিন্তু কাজ হয় নাই। কাজ যে হয় নাই— খোদ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেও সেই হতাশার জোরালো প্রতিফলন ঘটিয়াছে সম্প্রতি। গত রবিবার বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের চিকিত্সক সম্মেলনে তিনি খোলাখুলিই তাঁহার সেই ‘দুঃখের কথা’ বলিয়াছেন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, যেখানে ৫০ বেডের একটা হাসপাতালে কমপক্ষে ১০ জন ডাক্তার থাকার কথা, কোথাও কোথাও আছেন মাত্র একজন,  কোথাও-বা খুব বেশি হইলে চারজন। এই বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে চিকিত্সকদের উদ্দেশে তিনি সরাসরি প্রশ্ন করিয়াছেন, মানুষ তাহা হইলে সেবা পাইবে কীভাবে? মানুষের প্রতি কেন এই অবহেলা— তাহা ভাবিয়া দেখিবার দায়িত্ব তিনি চিকিত্সকদের বিবেকের উপরই ছাড়িয়া দিয়াছেন। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি না বলিলেও বুঝিতে অসুবিধা হওয়ার কথা নহে যে, উপেক্ষিত এই মানুষগুলিই সরকারি চিকিত্সকদের বেতন-ভাতার অর্থ জোগাইতেছেন। স্মর্তব্য যে, বঙ্গবন্ধু তাঁহার এক ঐতিহাসিক বক্তৃতায় কোনো প্রকার রাখঢাক ছাড়াই সেই কথা স্মরণ করাইয়া দিয়াছিলেন চিকিত্সক সমাজকে।

আমরা জানি, রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী হিসাবে কোনো কিছুই প্রধানমন্ত্রীর অজানা নহে। সরকারের সর্বোচ্চ সদিচ্ছা সত্ত্বেও তৃণমূল পর্যায়ে পরিস্থিতি বাস্তবিকই অত্যন্ত শোচনীয়। মাসের পর মাস চিকিত্সক সংকটে ভুগিতেছে উপজেলা পর্যায়ের বহু হাসপাতাল। সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য বলিতেছে, ঢাকায় চিকিত্সকের ছড়াছড়ি। তন্মধ্যে কাজ না থাকায় অলস সময় পার করিতেছেন অনেকেই। শুধু ঢাকা বিভাগেই অনুমোদিত পদের চাইতে অতিরিক্ত চিকিত্সকের সংখ্যা তিন হাজার ১৫৭ জন। অথচ উত্তরাঞ্চলের ২১ জেলা, উপকূলীয় ও হাওরাঞ্চলে চিকিত্সকের সংকট তীব্র। ভিন্ন নহে চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেটসহ বাকি সব বিভাগের চিত্রও। ইহা সুবিদিত যে, বেশিরভাগ চিকিত্সকই প্রভাব খাটাইয়া নানাভাবে ঢাকা এবং অন্যান্য বড় শহরে অবস্থান করেন। দেশের ২১টি জেলায় চিকিত্সক সংকটের ভয়াবহতার কথা স্বাস্থ্য অধিদফতরও স্বীকার করিয়াছে। এইসকল জেলার বেশিরভাগ উপজেলা হাসপাতালে ৫০ হইতে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চিকিত্সকের সংকট রহিয়াছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৭০ ভাগই গ্রামে বসবাস করেন। অথচ ভালো চিকিত্সকের সিংহভাগই শহরভিত্তিক। শুধু তাহাই নহে, বহু হাসপাতালে চিকিত্সকের দেখা পাওয়াই কঠিন হইয়া পড়িয়াছে। অবশ্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কিছু আশার বাণী শোনাইয়াছেন। তিনি বলিয়াছেন যে, উপজেলা পর্যায়ে চিকিত্সক সংকট নিরসনে কাজ চলিতেছে। নূতন করিয়া ১০ হাজার চিকিত্সক নিয়োগেরও সম্ভাবনা রহিয়াছে। তবে নূতন নিয়োগ দিলেই যে তৃণমূল পর্যায়ে চিকিত্সক সংকটের সমাধান হয় না— প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেই তাহা স্পষ্ট হইয়া গিয়াছে। তিনি স্থায়ীভাবে আবাসন সমস্যা সমাধানের ঘোষণাও দিয়াছেন। সেইটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। সংকট সমাধানে সরকারকে এখনই একটা কিছু করিতে হইবে। সরকারি বেতনভাতা গ্রহণ করিবেন, কিন্তু চাকুরীবিধি মানিবেন না— তাহা তো হইতে পারে না।

 

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১১ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৯
যোহর১১:৪৬
আসর৩:৫৮
মাগরিব৫:৪০
এশা৬:৫১
সূর্যোদয় - ৫:৫৪সূর্যাস্ত - ০৫:৩৫
পড়ুন