যাহা করিবার এখনই করিতে হইবে
১১ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
বিশ্বপ্রকৃতির ভাঙা-গড়া সর্বকালেই ছিল। ভৌগোলিক ইতিহাসের দিকে তাকাইলে দেখিতে পাওয়া যাইবে—পৃথিবীর জলবায়ুর পরিবর্তন অতি স্বাভাবিক একটি প্রাকৃতিক ঘটনা। লক্ষ লক্ষ বত্সরের ব্যবধানে পৃথিবীতে বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারণে পর্যায়ক্রমে বরফ যুগ ও উষ্ণযুগ আসিয়াছে। কিন্তু আমরা এখন এমন এক নূতন ভূতাত্ত্বিক যুগে প্রবেশ করিতেছি— যেইখানে এই নীলগ্রহের তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখিতেছে মনুষ্যজাতি। এইদিকে গত সোমবার জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক প্যানেলের (আইপিসিসি) এক প্রতিবেদনে বলা হইয়াছে—বিশ্বের উপরিভাগের উষ্ণায়ন এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়িয়া গিয়াছে। গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন সাম্প্রতিক সময়ে যেই মাত্রায় পৌঁছাইয়াছে, তাহাতে ২০৩০ সালের শুরুতে কিংবা মধ্য শতাব্দীর মধ্যেই তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়াইয়া যাইবে। এইক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করিতেছেন যে, সাগরের স্তর বৃদ্ধি পাওয়া ও প্রাণঘাতী ঝড়, বন্যা ও খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ডাকিয়া আনিবার জন্য ইহার চাইতে আর বেশি কিছুর দরকার পড়িবে না। দুঃখের ব্যাপার হইল, ইতোমধ্যে বিশ্ব সম্প্রদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল যে, পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখিতে হইবে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় এখন সেই লক্ষ্যমাত্রা বাড়িতে বাড়িতে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পথে যাইতেছে। জাতিসংঘ প্যানেলের আন্তর্জাতিক পরিবেশ বিজ্ঞানীরা গত সোমবার বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ব্যাপারে এই মর্মে সতর্ক করিয়াছেন যে, বিশ্বে উষ্ণায়ন যেইভাবে বাড়িতেছে, তাহাতে বিপর্যয় এড়াইতে আর বেশি সময় বাকি নাই মানুষের হাতে।

বিশ্বের উষ্ণায়ন এখন এতোখানিই বহুল আলোচিত বিষয় যে, উষ্ণায়নের ফলে কত ধরনের পরিবর্তন ঘটিতে পারে তাহা সচেতন মানুষ মাত্রই জানেন। উত্তর মেরুর বরফ গলিয়া যাইবে। সেইখানকার প্রাণীজগত্ ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়িবে। সমুদ্রে পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পাইবে—সেই পানি বেশি বেশি সূর্যকিরণ শোষণ করিবে এবং ইহার ফলে আরো কমিয়া যাইবে বরফ। সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো ইটের মধ্যে একটি ইটের পতন ঘটিলে যেমন পর্যায়ক্রমে সকল ইটের পতন ঘটিতে থাকে, উষ্ণায়ন তেমনই একটি ক্রমধাবমান বিপর্যয় চক্রের মধ্যে ফেলিয়া দিতেছে পৃথিবীকে। তথ্য-উপাত্তে দেখা যাইতেছে, গত আড়াই শত বত্সরের তাপমাত্রার সব রেকর্ড ভাঙিয়া গিয়াছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বনভূমি ধ্বংসের ফলে বৃষ্টিপাত অনিশ্চিত হইয়া পড়িবে। যখন-তখন বৃষ্টি আবার যখন-তখন তীব্র রৌদ্র কাতর করিয়া ফেলিবে মানুষকে। সার্বিকভাবে বাস্তুসংস্থানের উপর গুরুতর প্রভাব ফেলিবে, বিলুপ্তির মুখে পড়িবে অসংখ্য প্রজাতি। ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচার নামে দাতব্য সংস্থা ইতোমধ্যে জানাইয়াছে যে, জলবায়ু ও পরিবেশের পরিবর্তনের ফলে বেশিরভাগ প্রাণীই খাপ খাওয়াইতে ব্যর্থ হইবে। কেবল তাহাই নহে, বিলুপ্ত হইয়া যাইবে অনেক প্রয়োজনীয় উদ্ভিদও।

আমরা যেই ডালে বসিয়া আছি তাহারই গোড়া কর্তন করিতেছি। আমরা বুঝিতে পারিতেছি, এই বিপর্যয়ের ফল  ভোগ করিতে হইবে সবাইকেই, কিন্তু তাহার পরও বেশিরভাগ দেশ আত্মকেন্দ্রিক পরিকল্পনায় কেবল সময় ক্ষেপণ করিতেছে। আগামীকাল নহে, যাহা করিবার এখনই করিতে হইবে। সময় চলিয়া গেলে সাধন মিলিবে না।

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১১ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৯
যোহর১১:৪৬
আসর৩:৫৮
মাগরিব৫:৪০
এশা৬:৫১
সূর্যোদয় - ৫:৫৪সূর্যাস্ত - ০৫:৩৫
পড়ুন