ফ্লাইওভারের সুরক্ষা ও যানবাহনের গতিসীমা
১২ অক্টোবর, ২০১৮ ইং

সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনের শৃঙ্খলা বিধান ও দুর্ঘটনা এড়াইবার জন্য থাকে বিভিন্ন সাইন-সিম্বল। যদিও আমাদের অনেক সড়কে ইহার অস্তিত্ব খুঁজিয়া পাওয়া যায় না। বিশেষত সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হইল দ্রুতগতির যানবাহন। এই যানবাহনগুলি কোন সড়কের কোন স্থানে ঘণ্টায় কত বেগে চলিবে, তাহার জন্য সড়কের নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর অন্তর বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্ধারণ করিয়া দেওয়া হয় গতি। উন্নত-অনুন্নত সকল দেশেই সড়কে যানবাহনের সুষ্ঠু চলাচলের জন্য এইরকম নিয়ম-কানুন রহিয়াছে। রহিয়াছে ট্রাফিক আইন। ফ্লাইওভার বা উড়াল সড়কের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হইবার কথা। কিন্তু এই ব্যাপারে আমাদের ট্রাফিক সার্জেন্টরাও কিছু বলিতে পারিতেছেন না।  অথচ সেখানে এইরকম সাইন-সিম্বল থাকাটা সবচাইতে জরুরি। সমপ্রতি রাজধানী ঢাকা, বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহর ও স্থানে বেশ কিছু ফ্লাইওভার নির্মিত হইয়াছে। বর্তমান সরকারের আমলেই এইক্ষেত্রে সবচাইতে বেশি অগ্রগতি সাধিত হইয়াছে। আমরা যে উন্নয়নের মহাসড়কে রহিয়াছি, এই ফ্লাইওভারগুলি তাহার জ্বলন্ত প্রতীক। কিন্তু অন্যান্য সড়ক-মহাসড়ক ও সেতুর মতো প্রতিটি উড়ালসড়কেও কেন প্রয়োজনীয় সব সাইন-সিম্বল থাকিবে না তাহা আমাদের বোধগম্য নহে।

গত বুধবার ইত্তেফাকে প্রকাশিত এক খবরে বলা হইয়াছে যে, চট্টগ্রাম মহানগরীর সদ্যনির্মিত আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভারের ওপর চলাচলকারী যানবাহনগুলির বেপরোয়া গতির কারণে প্রায়শ সেখানে দুর্ঘটনা ঘটিতেছে। এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত এক বত্সরে নিয়ন্ত্রণহীন গতির কারণে ফ্লাইওভারের ওপর অন্তত ২০টি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটিয়াছে। হতাহতও হইয়াছেন অনেকে। এইজন্য মহানগরীর ফ্লাইওভারসমূহে চলাচলকারী যানবাহনগুলির সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন গতি কত হইবে এই ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া জরুরি হইয়া পড়িয়াছে। শুধু গতি কত হইবে তাহার নির্দেশনা দেওয়াই যথেষ্ট নহে, কত ওজনের গাড়ি চলাচল করিতে পারিবে— তাহাও সুস্পষ্ট করা প্রয়োজন। আমরা জানি, বেইলি ব্রিজগুলির ওপর দিয়া পাঁচ টনের বেশি ওজনের যানবাহন চলাচল করা নিষিদ্ধ। এই নিষেধাজ্ঞা না মানিবার ফল কী হইতে পারে, তাহার নজির আমরা অহরহই দেখিতে পাইতেছি। প্রায়শ মাত্রাতিরিক্ত ওজনের যানবাহন চলিবার কারণে একের পর এক বেইলি ব্রিজ ভাঙিয়া পড়িতেছে। কিন্তু আমরা ইহা হইতে কোনো শিক্ষা গ্রহণ করিতেছি না।

ফ্লাইওভারের ওপর এলোপাতাড়িভাবে যানবাহন চলাচল খুবই বিপজ্জনক। ইহার ওপর যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করাও সমূহ বিপদের কারণ হইতে পারে। কিন্তু এই ব্যাপারে কোনো নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা করা হইতেছে না।  চট্টগ্রাম নগরীর সর্ববৃহত্ ও দৃষ্টিনন্দন আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারেই সবচাইতে বেশি অনিয়ম হইতেছে বলিয়া জানা যায়। শুধু চট্টগ্রাম নহে, ঢাকার ফ্লাইওভারগুলিতেও নানা অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা বিদ্যমান যাহা বন্ধ করা দরকার। এইসব ফ্লাইওভারে বঙ্গবন্ধু সেতুর মতো যানবাহনের ওজন মাপিবার বিশেষ যন্ত্র সংযুক্ত করা যাইতে পারে। ইহাছাড়া ফ্লাইওভারে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে শুধু সাইন দেওয়াই যথেষ্ট নহে, সার্বিক শৃঙ্খলা ও নজরদারির জন্য নির্দিষ্ট মোড় ও দূরত্বে  সিসিটিভি থাকাও বাঞ্ছনীয়। মোটকথা, ফ্লাইওভারের ব্যবস্থাপনা নিয়া আমাদের নূতন করিয়া ভাবিতে হইবে। ইহার সংরক্ষণের প্রতি দিতে হইবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১২ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৪০
যোহর১১:৪৬
আসর৩:৫৭
মাগরিব৫:৩৯
এশা৬:৫০
সূর্যোদয় - ৫:৫৫সূর্যাস্ত - ০৫:৩৪
পড়ুন