স্কুলমাঠে অবৈধ হাটবাজার কেন?
১২ অক্টোবর, ২০১৮ ইং

শিশু-কিশোরদের খেলার উপযোগী মাঠের জন্য যখন দেশব্যাপী হাহাকার চলিতেছে, তখন রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ইজারা দিয়া নিয়মিত হাটবাজার বসানো হইতেছে। এই খবর সংবাদপত্রে প্রকাশিত হইয়াছে। প্রতিবেদনে বলা হইয়াছে, স্কুল ছুটির আগেই এইসব মাঠে হাট বসিতে শুরু করে। সেই হাটে গরু-ছাগল হইতে শুরু করিয়া কী না বিক্রি হয়! মাঠ ও বারান্দা ছাড়াইয়া হাটের পসরা ও জনতার ভিড় ঢুকিয়া পড়ে স্কুলের কক্ষেও। ফলে সপ্তাহে দুইতিনদিন দুপুরের পর পাঠদান প্রায় অসম্ভব হইয়া পড়ে। পণ্যবাহী ট্রাকের আনাগোনার ফলে ব্যবহারের অনুপযোগী হইয়া যায় স্কুলের মাঠ। হাটের আবর্জনা ঠিকমতো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না করার কারণে ভুগিতে হয় সপ্তাহজুড়িয়াই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আইনানুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাটবাজার বসাইবার নিয়ম নাই। কাজটি অবৈধ। কিন্তু আইনানুগভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব যাহাদের উপর ন্যস্ত, সেই পরিচালনা কমিটিই এই অবৈধ কাজটি করিয়া চলিয়াছে সজ্ঞানে। বিদ্যালয়ের মাঠ ইজারা দেওয়া হইতেছে মৌখিকভাবে। আছে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগও। ইহার চাইতে বড় অভিযোগটি হইল, প্রতি বত্সর ইজারা বাবদ প্রাপ্ত ২-৩ লাখ টাকারও কোনো হিসাব নাই। বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরাইয়া আনা এবং শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাইয়াছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা। ভুক্তভোগীরা বলিতেছেন, বিষয়টি প্রশাসনের সব স্তরে জানানো হইলেও অদ্যাবধি কোনো প্রতিকার পাওয়া যায় নাই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অবশ্য আশ্বস্ত করিয়াছেন যে, ইতোমধ্যে হাটবাজার ইজারা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে। প্রশ্ন হইল, স্কুলমাঠে হাটবাজার বসিবেই-বা কেন?

নানা কারণে নগর-গ্রাম নির্বিশেষে খেলার মাঠ যে দিনদিন উধাও হইয়া যাইতেছে— তাহা কাহারও অজানা নহে। মাঠের অভাবে শুধু যে খেলাধুলা বন্ধ হইবার উপক্রম হইয়াছে তাহাই নহে, গৃহবন্দি হইয়া পড়িয়াছে শিশু-কিশোর-তরুণদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। তাহাদের শরীর ও মনের উপর ইহার মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাবও দিনদিন স্পষ্ট হইয়া উঠিতেছে। অনেকেই বিপজ্জনকভাবে আসক্ত হইয়া পড়িতেছে স্মার্টফোন ও ভিডিও গেমের প্রতি। বাড়িতেছে শিশু-কিশোরদের মাদকাসক্তি ও অপরাধে জড়াইয়া পড়িবার ঘটনাও। এই প্রেক্ষাপটে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার স্বার্থে বিদ্যমান মাঠগুলির সুরক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় নূতন মাঠ নির্মাণের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করিয়াছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা সত্ত্বেও বাস্তব পরিস্থিতি কত করুণ তাহা বুঝিবার জন্য কাউনিয়ার দৃষ্টান্তই যথেষ্ট বলিয়া বিবেচিত হইতে পারে। রাজধানীসহ নগরগুলির অবস্থা নিঃসন্দেহে আরো শোচনীয়। বেশিরভাগ পাড়া-মহল্লা ও বিদ্যালয়েই খেলার মাঠ নাই। আগ্রাসী নগরায়নের মধ্যেও যেই কয়টি খেলার মাঠ এখনো কোনোমতে টিকিয়া আছে সেইগুলির বড় অংশ হয় বেদখল হইয়া গিয়াছে, অথবা ব্যবহারের অনুপযোগী হইয়া পড়িয়াছে। ইহা লইয়া সংবাদমাধ্যমে বিস্তর লেখালেখি হইতেছে। প্রকাশিত হইতেছে সচিত্র প্রতিবেদনও। কিন্তু নিদ্রাভঙ্গ হইতেছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। আমাদের আন্তরিক প্রত্যাশা, নীতিনির্ধারক মহল এইদিকে সুদৃষ্টি দিবেন এবং বিদ্যমান খেলার মাঠগুলির সুরক্ষার ব্যাপারে কঠোর মনোভাব গ্রহণ করিবেন।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১২ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৪০
যোহর১১:৪৬
আসর৩:৫৭
মাগরিব৫:৩৯
এশা৬:৫০
সূর্যোদয় - ৫:৫৫সূর্যাস্ত - ০৫:৩৪
পড়ুন