রোবটযুগ
ধ্রুব এষ২১ জুন, ২০১৭ ইং
রোবটযুগ
সায়েন্স ফিকশন

কবি

ডিপ পার্পলের সঙ্গে যুক্ত তার মস্তিষ্ক।

সুপার কম্পিউটার ডিপ পার্পল।

মডেল এআই-ওয়ান ওয়ান ওয়ান। মেঘ দেখছে সে।

আকাশ নীল এবং একটাই মেঘ। শাদা।

কী মেঘ এটা? কোন জাতের মেঘ?

কিউমুলো নিমবাস।

এই মেঘটা আট দশমিক আট আট মিটার লম্বা।

বিকেল বেলার রোদে নুবা গ্যালাক্সির আর্থা গ্রহের মেঘের মতো দেখাচ্ছে। আশ্চর্য মায়াবী। আশ্চর্য মেঘ।

ডিপ পার্পল কিছু কারিকুরি করল।

মাথায় একটা কবিতা এল রোবটটার!

 

এক্সোডাস

মডেল, এআই-নাইন নাইন নাইন।

পরীক্ষামূলক ভাবে দুই হাজার রোবট তৈরি করা হয়েছিল।

তাদের কোনো কাজে লাগানো হয়নি এবং ধ্বংসও করা হয়নি।

তারা এখন থাকে নিওটো আইল্যান্ডে।

থাকে না, এখন থেকে বলতে হবে থাকত।

মাত্র একটা ঘটনা ঘটেছে।

দুই হাজার রোবট একসঙ্গে নেমে গেছে সমুদ্রের পানিতে।

অর্থহীন এই ঘটনার কোনো মানে করতে পারছে না ডিপ পার্পল।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন হলেও তারা রোবট। তারা এরকম কেন করবে? হিসাব মিলছে না।

আরো বিরাট গড়বড় ধরা পড়ল মাত্র। নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে তারা।

কোনো প্রজন্মের রোবট এর আগে নিজেদের এরকম বিনষ্ট করেনি।

 

পাথর

পাহাড়ে পাহাড়ে ছিল সে কিছুদিন।

পাহাড় থেকে কিছু পাথর নিয়ে ফিরেছে।

এর মধ্যে একটা পাথর পার্থিব না।

অনুপল আগেও পৃথিবীর কোথাও ছিল না।

সে ছিল একজন মানুষ।

মরে গেছে।

তারা এখন সেই পাথরটা খুঁজছে। কিছু রোবট।

 

আগন্তুক

মানুষ এখন দেখতে রোবটের মতো।

রোবট এখন দেখতে মানুষের মতো।

তাহলে তারা দুজন, মানুষ না রোবটের মতো দেখতে?

মানুষের মতোও।

রোবটের মতোও।

অ্যাশওয়াইন ক্যাফেতে বসে আছে তারা।

সন্ধ্যা নামতে দেখছে অতলান্তিকে।

আরো কিছু মানুষ আছে ক্যাফেতে। আরো কিছু রোবট। তারা দুজন মোটেও তেমন কেউ না। মানুষও না, রোবটও না।

 

রোবট শিশু

আটশ’ বছর আগে অনলাইনে একটা কমেন্ট ভাইরাল হয়েছিল।

রোবট শিশু জন্মাবে একদিন।

শেষ মহাবিজ্ঞানী য. কিরিষ এই কমেন্ট করেছিলেন।

আটশ’ বছর পর মহাবিজ্ঞানীর আশঙ্কার সত্যতা মিলেছে।

রোবটনগরী কন্টাকিয়ায় পৃথিবীর প্রথম রোবট শিশু জন্মেছে। এআই সিরিজের রোবট ইলি এবং নিকো যথাক্রমে তার মা এবং বাবা। তারা তাদের শিশুর নাম রেখেছে অরো। অনলাইন এখন অরোময়। ভাইরাল হয়েছে তার প্রজনন প্রক্রিয়ার ভিডিও। দেড় মিনিটে তের মিলিয়ন রোবট এবং সাতানব্বই লাখ মানুষ দেখেছে।

 

মানুষের গ্রহ

মহাকাশফেরী স্ত্রানা বিধ্বস্ত হয়েছে।

ডিপ পার্পল ভিডিও ছেড়েছে।

আটটা কনটেইনারে উনত্রিশ মিলিয়ন রোবট শ্রমিক নিয়ে যাচ্ছিল স্ত্রানা। ট্রায়ো ছায়াপথের গ্রহ ইউনায়। মানুষরা বিধ্বস্ত করেছে স্ত্রানাকে। নিশ্চিত এটা। কিন্তু সেই মানুষরা এখন কোন গ্রহে থাকে, নিশ্চিত না।

 

শোক সংবাদ

রোবটযুগ চলছে। রোবটদের পৃথিবী।

মানুষ?

বিলুপ্ত।

কিংবা চলে গেছে আর কোনো গ্রহে।

ডিপ পার্পল কোনো তথ্য দিতে পারে না।

আসলে দেয় না।

খুন করা দরকার ডিপ পার্পলকে।

বারশ’ তের নম্বর কলোনির একটা সৃষ্টিশীল রোবট একরাতে ভাবল। যদিও সেও জানে তার মস্তিষ্ক ডিপ পার্পলের সঙ্গে সংযুক্ত। তবুও ভাবল। আকাশের চাঁদ, নক্ষত্রবীথি তাকে প্ররোচিত করে থাকবে। ভাবল এবং ভাবল এবং আত্মহত্যা করল রোবটটা। d

 

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২১ জুন, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পড়ুন