গল্প
নীল দুঃসময়
মনিজা রহমান২১ জুন, ২০১৭ ইং
নীল দুঃসময়
ভদ্রলোকের একটা অভ্যাস আছে। কোথায় কোন নামকরা মানুষ বা টাকার কুমিরের সঙ্গে পরিচয় আছে সেটা উনি হঠাত্ করে বলা শুরু করেন।

মালিহা প্রথম দিন অবাক হয়েছে। ও বুঝতে পারছিল না, অপ্রাসঙ্গিকভাবে এই নিয়ে আলোচনা কেন? পরে বুঝেছে এসব আসলে ভদ্রলোকের নিজেকে জাহির করা। লোকটা পরোপকারী বলেই জানে ও। অন্য কোনো দোষও নেই। কেবল চাপাবাজিটা ছাড়া। কী আর করা? দোষেগুণে মানুষ! মালিহা ভাবে।

মোজাম্মেল সাহেবের বাসায় আর ওর এই নিয়ে দ্বিতীয় দিন আসা। মালিহা ভাই বলে সম্বোধন করে উনাকে। দেশের বাইরের মাটিতেও বাঙালি পারতপক্ষে কাউকে মিস্টার মোজাম্মেল ধরনের সম্বোধন করে না। মোজাম্মেল সাহেব সোফায় হেলান দিয়ে বসে কাঠের মেঝেতে পা’টা বেশ লম্বা করে রেখেছেন। বসার মধ্যে এক ধরনের আয়েশী ভাব আছে। মানে হচ্ছে, দীর্ঘ কাহিনি বলার মেজাজে আছেন।

মালিহার অত সময় নেই। ওকে প্রতিটি ডলারের মতো প্রতিটি মিনিট হিসাব করে চলতে হয়। ছেলের স্কুল ছুটি হবে দুপুর দুইটা চল্লিশে। তার আগে বাজার করা আর এক বাসায় যাবার পরিকল্পনা আছে। পরিচিত এক আপা ঢাকায় যাবে, তার বাসায় যেতে হবে। স্বামী স্বপনের ব্যবহূত কিছু জিনিস ঢাকায় ওর বাবা-মায়ের কাছে পাঠাতে চাইছে মালিহা। হাতে করে ব্যাগে ভরে নিয়েও এসেছে। এখান থেকে বের হয়ে ওই বাসায় যাবে। কিন্তু মোজাম্মেল সাহেবের বসে থাকার ভঙ্গি বলে দিচ্ছে, ছেলের স্কুল ছুটির কথা বলা ছাড়া ওঠা যাবে না।

‘চা খাইছেন বৌদি?’ মোজাম্মেল প্রশ্ন করে।

‘হ্যাঁ। সেই কখন। আপনি যখন ঘুমিয়ে ছিলেন ভাবি তখন বানিয়ে খাইয়েছে।’

মোজাম্মেল সাহেবের স্ত্রীর মুখে হাসি। সরল ধরনের মহিলা। মুখে একটা বোকা হাসি লেগেই থাকে।

মোজাম্মেল সাহেবও কি এতটা সরল? ভেবে কুল পায় না মালিহা। তাহলে তো নিউইয়র্ক শহরে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা করতে পারত না।

‘আপনার ছেলে কত বড় হইল?’

‘এই তো সেকেন্ড গ্রেডে যাচ্ছে।’ মালিহা ভদ্রতার অংশ হিসেবে পাল্টা প্রশ্ন করে, ‘আপনাদের ছেলে এখন কোন গ্রেডে যেন?’

‘সেভেন গ্রেডে।’ উত্তর দেন মোজাম্মেল সাহেবের স্ত্রী। মালিহা ভদ্রমহিলার নাম জানে না।

‘মোজাম্মেল ভাবি’ পরিচয়ে উনি বেশ সুখী। ভদ্রমহিলা এরপর ছেলের স্কুল, কোচিং, বাস্কেটবল খেলা ইত্যাদি বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন। বোঝা গেল এটা তার প্রিয় আলোচনার বিষয়।

মালিহা চাইছে কোনো আলোচনাকে লম্বা করতে। সে খুব দ্রুত মূল আলোচনায় আসতে চাইছে। কিন্তু সেটা কোনোভাবে হচ্ছে না।

‘মেয়র ডি ব্ল্যাজিওর নতুন ভাষণটা শুনছেন বৌদি? এই যে কিছুদিন আগে জ্যাকসন হাইটসে হইছিল। ওই দিন আমি অনুষ্ঠানে ছিলাম।’

আদার ব্যাপারী হয়ে মালিহার মেয়রের খোঁজ নিয়ে লাভ কী? বিশেষ করে জীবনের সবচেয়ে সংকটকাল যখন পার করছে ও।  কোনো মন্তব্য করে না মালিহা। চেহারায় আগ্রহভাব ফুটিয়ে তুলতে

আপ্রাণ চেষ্টা করে। এই লোকের সদয় মনোভাবের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।

‘ওনার সেকেন্ড ম্যান মানে ডেপুটি মেয়র তো আমার অনেক দিনের পুরোনো ঘনিষ্ঠ লোক। ম্যানহাটানে ওনার অফিসে বহুদিন গিয়েছি। আমাকে অনুষ্ঠানে দেখে ছুটে এসে জড়িয়ে ধরল। কি

বলব বৌদি! সবার তো চোখ ছানাবড়া।’

‘মেয়র তো তোমাকে দেখে হাই বলছে।’ মোজাম্মেল সাহেবের স্ত্রী ধরিয়ে দেন স্বামীকে। কোনো পয়েন্ট যেন বাদ না যায়।

মালিহার খুব ক্লান্তি লাগে। ওর স্বামী স্বপন পৃথিবীতে নেই বলে এভাবে সবার দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে। স্বামীর অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে এখানকার স্থানীয় পত্রিকায় নানাভাবে খবর লেখা হয়েছে।

তাতে আর কিছু হয়নি, মালিহার রেস্টুরেন্টের ওয়েট্রেসের চাকরিটা গেছে।

এখন একটা নতুন চাকরি খুঁজতেই এ বাসায় আসা। মালিহা বুঝতে পারছে না কতক্ষণ এই প্যাঁচাল শুনতে হবে।

দেয়ালে মোজাম্মেল সাহেবের ছেলের বিভিন্ন বয়সের ছবি দিয়ে একটা ফ্রেম ঝোলানো। একটা ছবির সঙ্গে মালিহা ধ্রুবের মিল খুঁজে পায়। সামনে দুটো দাঁত নেই। তাতে হাসির বিরাম নেই।

মালিহার হঠাত্ মনে হলো ধ্রুব কিছুদিন ধরে একদম হাসে না। বাবার অস্বাভাবিক মৃত্যু কেমন যেন ছাপ ফেলে গেছে ওর চেহারায়।

 

২.

মুস্তাফিজ নবীর বেশ মজা লাগে রোহান যখন তাকে বাবা বলে ডাকে। বায়ান্ন বছর বয়সে এসে ২৭ বছর বয়সী এক ছেলের বাবা হবার মধ্যে একটা আলাদা অনুভূতি আছে।

‘বাবা, আপনি কি শুনছেন?’ অপর প্রান্ত থেকে রোহান প্রশ্ন করে। একটু চমকে ওঠে মুস্তাফিজ নবী। হঠাত্ অন্যমনস্ক হয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

‘হ্যাঁ বল, পার্কিং পেয়েছ?’ যথাসম্ভব কোমল কণ্ঠে বলার চেষ্টা করেন মুস্তাফিজ নবী। ছেলেটা ওর মায়ের ধরন পেয়েছে। খুব আস্তে করে কথা বলে। মুস্তাফিজ নবীর জোরে জোরে চেঁচিয়ে কথা বলা স্বভাব। জীবনে আর কোনো গুণ না থাকুক, এক নাগাড়ে কথা বলায় জুড়ি নেই তার। অসম্ভব বাকপটু মানুষটি রোহানের সামনে এসে কেমন যেন লাজুক হয়ে যান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই সহপাঠী নাসরিনকে প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন মুস্তাফিজ নবী। পড়াশোনার পাট না চুকাতেই কন্যা সন্তানের বাবা হয়ে যান। তারপর ২৬ বছর না হতেই দ্বিতীয়

সন্তানের বাবা হলেন, সেটাও মেয়ে।

মেয়েদের জন্ম বাংলাদেশে হলেও বেড়ে উঠেছে আমেরিকায়। দুই দেশের সংস্কৃতির মিশ্রণ যেন ওদের মধ্যে।

দুই মেয়ে এখন বড় হয়ে গেছে। ভালো চাকরি করছে। বড় মেয়ের বিয়েও দিয়েছেন। মেয়ে জামাই বাবা বলে ডাকে। কিন্তু সেই ডাকটা রোহানের মতো শোনায় না। এটা একটা তাজ্জব ব্যাপার মনে হয় মুস্তাফিজ নবীর।

সাংসারিক জীবনে বনিবনা না হওয়ায় তিন বছর আগে নাসরিনের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে তার। মেয়েরা বাবার সঙ্গে আছে। ছয় মাস হলো আবার বিয়ে করেছেন। দ্বিতীয় স্ত্রী দিলারা এক ছেলে নিয়ে বিধবা

হন প্রায় বিশ বছর আগে।

সেই ছেলেও এত বছর পরে বাবা পেয়েছে।

মেয়েরা বলে, ‘বাবা তোমার জীবনে হয়তো এই একটাই অপূর্ণতা ছিল। সৃষ্টিকর্তা সেটা পূরণ করে দিল।’

দুই মেয়ের বাবা হওয়ায় কোনো আক্ষেপ ছিল না মুস্তাফিজ নবীর মনে। কিন্তু আসলেই কি সেটা সত্যি? নয়তো রোহানের বাবা ডাক এতটা আলোড়িত করে কেন তাকে?

‘জি পেয়েছি। ইউ আর সো লাকি বাবা। তোমার অফিসের সামনেই পার্কিং পেয়েছি।’ বয়স ২৭ বছর হলেও রোহানের কথাবার্তায় পরিপক্বতা আসেনি। মুস্তাফিজ নবী মনে মনে হাসেন।

‘ওকে ঠিক আছে। তুমি তাহলে অফিসে চলে যাও। থ্যাংকস অ্যা লট।’ ফোন কেটে দিয়ে ল্যাপটপের সামনে বসেন মুস্তাফিজ নবী। নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক তিনি।

এখানে সম্পাদক মানেই সব। সাংবাদিক, আলোকচিত্রী, বিজ্ঞাপন সংগ্রহ, সার্কুলেশন ম্যানেজার, পিয়ন—সব কাজই একজনকে করতে হয়। বাংলাদেশের শীর্ষ একটি টিভি চ্যানেলের নিউইয়র্ক

প্রতিনিধি তিনি।

প্রতিদিন অফিসে এসে বাংলাদেশ ও নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত শীর্ষ কয়েকটি পত্রিকার হেডলাইনগুলো দেখা মুস্তাফিজ নবীর দীর্ঘদিনের অভ্যাস। তারপর প্রয়োজনীয় কাজ শুরু করেন।

এর আগেই ফোন এলো। দিলারা ফোন করেছে। মালিহার আজ আসার কথা ছিল। কিন্তু ও একটু আগে ফোন করে জানিয়েছে আসতে পারবে না।

দিলারা বলেন, ‘কেন আসবে না কিছু বলেছে?’

‘মোজাম্মেল ভাইয়ের বাসায় চাকরির জন্য গিয়েছে। তাই আসতে পারছে না।’

‘তাহলে ওকে স্কুলছুটির পরে ছেলেকে নিয়ে আসতে বল। ছেলের বেড়ানো হবে। মালিহার কাজও হবে।’

‘ঠিক আছে মালিহাকে ফোন করে তাই বলি। মেয়েটার জন্য খুব মায়া হয়। এই বয়সে বিধবা হলো। তাও আবার এই দেশে! কেউ নেই যে দেখবে!’

‘আত্মীয় না হয়েও আমরা কি কিছু করছি না! এটা কম কী?’ মুস্তাফিজ নবী ফোন কেটে দেন। কাজের সময় এত কথা কি ভালো লাগে! এদেশে আত্মীয়স্বজন নেই তো কি হয়েছে? তারও তো কেউ ছিল না। তবু কি তিনি প্রতিষ্ঠিত হননি। তার সমস্ত রাগ হয় স্বপনের ওপর। চাকরি হচ্ছিল না। তাই বলে আত্মহত্যা করতে হবে!

এটা কোনো সমাধান হলো! এখন তোর বউ-ছেলে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। নিজেও মরলি। ওদেরও মেরে রেখে গেলি। এখানে সব পত্রিকায় আটতলার ফ্লাটের জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ে স্বপনের আত্মহত্যার ঘটনার রিপোর্ট হয়েছে। এমনকি এদেশের মূলধারার পত্রিকাতেও হয়েছে। মুস্তাফিজ নবীকে খুব খাটতে হয়েছে রিপোর্টে কোথাও মালিহার যেন নাম না থাকে সেজন্য!

তবু বিপর্যয় থামানো যায়নি। রেস্টুরেন্ট থেকে মালিহার চাকরিটা গেছে। তবে সেটা স্বামীর আত্মহত্যার জন্য না। দীর্ঘদিন কাজের জায়গায় অনুপস্থিত থাকার কারণে ভারতীয় মালিক অন্য আরেকজনকে নিয়োগ দিয়েছে।

মুস্তাফিজ নবী ভাবতে ভাবতে চেয়ারে সোজা হয়ে বসেন। টেবিলের ড্রয়ার থেকে প্যাকেট বের করে সিগারেট ধরান। ডেস্কটপে চোখ রেখে কি-বোর্ডে হাত রাখেন। অভিবাসী জীবনের সংগ্রাম নিয়ে নিজের পত্রিকায় একটা লিড নিউজ লেখার ইচ্ছা মুস্তাফিজ নবীর অনেকদিনের। কেস স্টাডি হিসেবে কয়েকজনের সঙ্গে এ নিয়ে কথাও বলেছেন। আসলে মাথার মধ্যে এত চিন্তা নিয়ে সৃষ্টিশীল কাজ করা যায় না। মোবাইল ফোন বেজে ওঠে। বিজ্ঞাপনদাতার ফোন। না ধরে উপায় নেই। ছয়টার দিকে এক জায়গায় যেতে হবে বক্তৃতা দিতে। স্থির হয়ে কিছু যে লিখবেন, তার কোনো উপায় নেই।

 

৩.

আমি কি কাউকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি। এটা কি দোষ? একটা মানুষের সব কথার সঙ্গে তাল মেলানো সহজ নয়। মানুষ এত জটিল হয় কেন? এত নৈরাশ্যবাদী। খালি শুধু হতাশার কথা। মৃত্যুর কথা। বুড়ো হয়ে গেছি। মরে যাব। বেশিদিন বাঁচব না। এসব কী ধরনের কথা! এভাবে কি কারো সহানুভূতি পাওয়া যায়? নাকি বন্ধুত্ব করা যায়?

পলির ভাবনাটা বেশিদূর এগোয় না। এখন ওর পক্ষে ফিরে আসা কঠিন। কেমন যেন মায়া পড়ে গেছে। আর এটাই সমস্যা। আগুনে পুড়ে যাবে জেনেও ঝাঁপ দেওয়া। পলির মতো ঘরপোড়া গরুর পক্ষে কি এমন হূদয়ঘটিত ব্যাপারে জড়ানো উচিত হয়েছে? কোনো কিছুতেই যেন শিক্ষা হয় না ওর।

‘এত মায়া কেন আমার? কেন? আজ কাজ নেই পলির।’ আমেরিকার সেরা সুপারস্টোর মেসির সেলসে কাজ করে ও। ম্যানহাটান ৩৪ নম্বরে যেতে হয় সোমবার বাদে প্রতিদিন। আজ সেই সোমবার। ছুটির দিনে অনেকগুলো কাজের মধ্যে লন্ড্রিটা ওকে অবশ্যই করতে হয়। তাছাড়া দুই-তিনটা পদ বেশি করে রান্না করে রাখে। যাতে অন্যান্য দিন রান্নার চাপ কম থাকে।

কিন্তু সকালে উঠে ওই বেটার মেসেজ সব এলোমেলো করে দিল পলির। শুরুটা হয়েছিল ফেসবুকে হাই-হ্যালো দিয়ে। প্রতিদিন যেভাবে হয়। পলি ঘুম থেকে উঠে আটটায়। ওর কাজ বারোটা থেকে। এগারটায় বের হলেও হয়। সকালে উঠে ট্রেডমিলে কিছুক্ষণ দৌড়ায়। তারপর শাওয়ার নিয়ে গোসল করে বের হয়। ট্রেডমিলে স্টার্ট বাটনে টিপ দিয়েই ইমরানকে মেসেজ পাঠায় ও।

ইমরান ট্যাক্সি চালায়। নিজের ট্যাক্সি নাই। থাকবে কী করে? তার এখনও কাগজপত্র কিছু হয়নি। অথচ এই দেশে এসেছে আট বছরের বেশি সময় হলো। নিজেকে বলে বন্দী মানুষ। কী যে মজা পায় এভাবে বলে?

পলি তাকে বলেছে এভাবে না বলতে? আর কথায় কথায় নিজেকে বুড়ো বলা ইমরানের এক বাজে স্বভাব। পলি বয়সে ইমরানের চেয়ে খুব বেশি ছোট নয়। দুই বছরেরও কম হবে। ও নিজেকে বুড়ো বলা মানে ঘুরিয়ে পলিকেও বুড়ি বলা হয়। এজন্য পলি অনুরোধ করেছিল ইমরানকে, ভবিষ্যতে কোনোদিন নিজেকে বুড়ো না বলতে। ইমরান কোনো কথা দেয়নি। ও বলেছে, ‘আমি তো আপনাকে বুড়ি বলিনি। নিজেকে বলেছি।’

এখানে কথা দেবার কী আছে? আরে, যুক্তি থাকলেও পলিকে খুশি করার জন্যে মিথ্যা একটা কথা বলতে পারত ইমরান। কিন্তু সেটা ও করবে না। এমন চাঁছাছোলা মানুষও হয়। বিরক্ত মন নিয়ে পলি তৈরি হয় বাইরে বের হবার জন্য। বাসায় নাস্তা খাবার মতো কিছু নেই। হয় বাইরে গিয়ে খেতে হবে। নয়তো কিনে নিয়ে আসতে হবে। মোটা হবার ভয়ে আজকাল বাড়িতে বাড়তি কোনো খাবার রাখা বন্ধ করে দিয়েছে পলি। কেডসের ফিতা বাঁধতেই দেখে ইমরানের মেসেজ। মোবাইলের ইনবক্সে না, রেগুলার নম্বরে পাঠিয়েছে। আজ আমার কোনো কাজ নেই। এই একটা বাক্য পলির মনটা আবার কেমন দ্রবীভূত করে ফেলে। কাজ নেই কেন? তবে কি গাড়ির মালিকের সঙ্গে কোনো সমস্যা হল? আমি বের হচ্ছি। ৮২ স্ট্রিটের দিকে যাচ্ছি।

জ্যাকেটের পকেটে মোবাইল ঢুকিয়ে কেডসের ফিতা লাগায় পলি। ওর মধ্যে কোনো দ্বিধা কাজ করে না। আসলে ইমরানের সামনাসামনি হওয়া উচিত। ফোনের চ্যাটিংয়ে কিংবা মোবাইলে কথা বলায় অনেক কিছু স্পষ্ট করা যায় না। সরাসরি কথা বলা দরকার।

ইমরানের সঙ্গে ওর ডেঅফে মিল নেই। রাত আটটায় যখন পলির কাজ শেষ হয়, তখন দুঃখবিলাসী মানুষটার ঘুমের প্রস্তুতি শুরু হয়। কারণ ইমরানকে উঠতে হয় ভোর চারটায়। না, আজ কিছু এসপার-ওসপার করতেই হবে। ভাবতে ভাবতে পথ চলে পলি।

 

৪.

ধ্রুবর দিকে তাকালেই চোখটা ভিজে ওঠে মালিহার। সকাল আটটায় স্কুলে যায়। এখন বাজে প্রায় তিনটা। এমনিতে ছোটবেলা থেকে ক্ষীণকায় ও। বাবার মতো হয়েছে। এখন গলা হাড় সব বের গেছে। স্বপনের হঠাত্ মৃত্যুতে হতবিহ্বল মালিহা এ ক’দিন তাকাতে পারেনি ছেলেটার দিকে। খুব অন্যায় হয়েছে। মনটা খুব খারাপ হয়ে যায় মালিহার। ছেলেকে ডোনাট কিনে দিয়ে নিজে একটা কফি নিয়েছে মালিহা। ডানকিনে টানা পাঁচ বছর কাজ করেছে ও। এক জায়গায় বেশিদিন কাজ করলে সেখানকার খাবারে রুচি উঠে যায়। মালিহারও সেটা হয়েছে। ধ্রুব খুব আগ্রহ নিয়ে ডোনাট খাচ্ছে। মালিহার ভালো লাগে। ও যত্ন করে ন্যাপকিন দিয়ে ওর ঠোঁটের কোনায় লেগে থাকা চকলেট ক্রিম মুছে দেয়।

‘মা আমরা কি কোথাও যাচ্ছি?’ স্কুল ফ্ল্যাস্কটা ব্যাগ থেকে বের করে পানি খায় ধ্রুব।

‘হ্যাঁ। আমরা দিলারা আন্টির বাসায় যাচ্ছি।’

‘ট্রেনে যাব। কোন ট্রেনে? ওপরের নাকি নিচের?’

‘নিচের বাবা। জ্যামাইকাতে তো ওপরের ট্রেন যায় না।’

‘ও আচ্ছা।’ ধ্রুব খাবারে মন দেয়। সবকিছু দ্রুত মেনে নেবার একটা অসাধারণ গুণ আছে ধ্রুবের। ওর মতো সাত বছর বয়সী শিশুদের সেটা থাকে না। কোথা থেকে এই গুণটা পেল ও? স্বপনের কাছ থেকে তো অবশ্যই নয়। জীবন নিয়ে অভিযোগের শেষ ছিল না তার। পৃথিবীর সবাই নাকি শুধু তাকে ঠকাতে চাইত। ওর নিজের কাছ থেকে পেয়েছে? আমার কি সবকিছু মেনে নেবার ক্ষমতা আছে? নিজেকে প্রশ্ন করে মালিহা। কি জানি? মানুষ সবচেয়ে কম জানে নিজেকে।

হঠাত্ সিগনাল পার হয়ে রাস্তা পার হতে পলির সঙ্গে দেখা। চারবছর আগে এস্টোরিয়ায় এক ডানকিনে একসঙ্গে কাজ করত ওরা। তারপর ম্যানহাটানে ৩৪ নম্বর স্ট্রিটের মেসিতে কাজের সুযোগ পেয়ে চলে যায় পলি। দিলারা আপার সঙ্গে মালিহার পরিচয়ও সেখানে। দিলারা আপা এখন ডানকিনের ম্যানেজার হয়েছেন।

চার বছরে কোনো পরিবর্তন নেই পলির। বরং যেন আরও সুন্দর হয়েছে। ছেলেমেয়ে যতদিন না থাকে, ততক্ষণই মানুষ স্বাধীন। তারপরই শুরু হয় বন্দীত্বের পালা।

‘পলি, কেমন আছ?’ মালিহা জানতে চায়। মেয়েটাকে কেমন যেন অস্থির দেখাচ্ছে।

‘ও মাই গড। মালিহা দিদি। তুমি কেমন আছ?’ চিত্কার করে মালিহাকে জড়িয়ে ধরে পলি।

লোকজনের হাঁটা চলার জন্য সরে দাঁড়ায় মালিহা।

‘তুমি তো দেখি অনেক সুন্দর হয়ে গেছ? ঘটনাটা কী?’ মালিহা স্বাভাবিক আচরণের চেষ্টা করে।

স্বামী মারা গেছে বলে সারাক্ষণ চোখেমুখে দুঃখী ভাব নিয়ে ঘুরতে হবে এমন কথা নেই।

‘চুলে কালার করেছি তো। সবাই বলছে কালারটা আমার চুলে দারুণ মানিয়েছে।’ চুল ঠিক করতে করতে বলে পলি।

‘মনে হচ্ছে যেন কোনো ঘোরের মধ্যে আছ?’ মালিহা মজা করে।

‘কী যে বল!’ পলি সত্যিই লজ্জা পায়।

পলির সঙ্গে দেখা হবার পরে মনটা বেশ ভালো হয়ে যায় মালিহার। মেয়েটার মধ্যে অন্যরকম জীবনশক্তি আছে। কখনও কারো বদনাম করে না। প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী।

আত্মবিশ্বাস নেই শুধু আমার! মাথার ওপরের ট্রেন লাইনে তুষার জমে শক্ত হয়ে আছে। সেটা এখন গলতে আরম্ভ করেছে। টুপটুপ করে পানি পড়ছে।

অসহায়ত্বের একটা ভাবনা হঠাত্ এলোমেলো করে দেয় মালিহাকে।

 

৫.

পলি ওর ওজন এক ছটাক বাড়াতে দিতে নারাজ। যে কারণে ৩৪ বছর বয়সেও কলেজপড়ুয়া তরুণীদের মতো দেখায় ওকে। রেস্টুরেন্টে ঢুকে শসার একটা জুস দিতে বলে ও।

ইচ্ছে করে মেক্সিকান রেস্টুরেন্টে বসেছে ওরা। বাঙালি কেউ নেই আশপাশে। ওয়েটার এসে ইমরানের জন্য টাকোজ দিয়ে যায়। মেক্সিকান এই খাবারটা পলির একদম অপছন্দ। কেমন কাঁচা কাঁচা লাগে। আর অ্যাবাকাডো ওর কাছে একদম অসহ্য একটা খাবার। ইমরান খুব আগ্রহ নিয়ে খাবারটা খায়। মনে হয় সকাল থেকে কিছু খায়নি।

খাওয়া শেষ করে মুখ মুছে ইমরান। পলির দিকে তাকিয়ে হাসে। পলি বুঝতে পারে না, ওর চেহারায় কি খুব মায়া প্রকাশ পাচ্ছে? ‘আমি আসলে গতকাল রাত থেকে কিছু খাইনি। এত ক্লান্ত ছিলাম যে কিছু বানানোর শক্তি ছিল না।’

পলির চোখে পানি চলে আসতে চায়। বাথরুমের যাওয়ার অজুহাতে উঠে গিয়ে চোখের পানি মোছে।

বাথরুমটা খুব ছোট। তবে পরিষ্কার আছে। আয়নাটা খুব ঝকঝকে। সেদিকে তাকিয়ে নিজেকে অনেকক্ষণ দেখে পলি। ইমরানের প্রতি ওর অনুভূতিকে কোনোভাবে ভালোবাসা আখ্যা দিতে পারে না। ভালোবাসায় এক ধরনের মুগ্ধতা থাকে। ঘোর লাগা আকাঙ্ক্ষা থাকে। ইমরানের প্রতি ও কোনো ধরনের মুগ্ধতা বোধ করে না। এত বেশি সাদামাটা ও। কথাজুড়ে থাকে কেবল হা-হুতাশ।

ভিজিট ভিসায় এসে আর দেশে ফেরত যায়নি ইমরান। টিকে থাকার জন্য এমন কাজ নেই যেটা করেনি। কাগজপত্র নেই বলে সব মালিকরা ঠকিয়েছে।

ইদানীং অবশ্য আয় বেড়েছে। ওয়ার্ক পারমিট কার্ড হবার পরে এখন ট্যাক্সি চালায়। ইমরানের আগের চেয়ে আত্মবিশ্বাস কিছুটা বাড়লেও অনিশ্চিত মনোভাব কাটেনি। নিজেকে কারো কাছে ভালোভাবে উপস্থাপন করতে পারে না। তেমন কোনো বন্ধুও নেই। পলির সঙ্গে বন্ধুত্ব আচমকা হয়েছে। ইমরানের নিস্তরঙ্গ জীবনে এইটুকুই যেন সামান্য ঢেউ।

পলি এসে চেয়ারে বসে। ওর মুখের ফোলা ভাব ইমরানের দৃষ্টি এড়ায় না। সে চুপচাপ তাকিয়ে থাকে পলির দিকে। ইমরানকে কেমন প্রাণহীন মনে হয় পলির কাছে। বয়সে সে পলির চেয়ে দেড়-দুই বছরের ছোট হবে। কিন্তু চেহারায় এরমধ্যে একটা বয়স্ক ছাপ পড়ে গেছে। অবৈধভাবে একটা দেশে থাকার গ্লানি মনে হয় ইমরানের ভিতরের সবটুকু আলো শুষে নিয়েছে।

দুজনেই বুঝতে পারে না কী নিয়ে আলাপ করবে। পলি গতকাল সারাবেলা ভেবে একটা গল্প বানিয়েছিল। সকালে কিছু বাদ দিল। দুপুরে আবার কিছু যোগ করল। রাতে সেটা মসৃণ করল। আজ সকালে উঠে আবার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনে মনে আউড়ে নিয়েছিল।

ইমরানের নিষ্প্রাণ চেহারা দেখে গল্পটা কেমন যেন পানসে মনে হতে লাগল।

 

৬.

দিলারা আপার পরিবর্তে দরজা খুলে দেয় কম বয়সী এক শ্যামলা মেয়ে। মালিহা অবাক হয় মেয়েটি দেখে। দিলারা আপা বাসায় নেই? মেয়েটি ভিতরের দিকে ইশারা করে বলল, ‘শি ইজ ইন ওয়াশরুম।’

‘ওহ! সরি!’ মালিহা বিড়বিড় করে বলল। চেহারা দেখে ভেবেছিল মেয়েটা বাঙালি। কিন্তু মনে হয় সে ইন্ডিয়ান। রেস্টুরেন্ট দীর্ঘদিন কাজ করার কারণে মালিহার ইংরেজিতে কথা চালাতে এখন আর কোনো সমস্যা হয় না।

‘আর ইউ ইন্ডিয়ান? হোয়াটস ইউর নেম প্লিজ?’

‘নো, আয়্যাম গায়ানিজ। মাই নেম ইজ চন্দ্রা।’

শ্যামলা বর্ণের ডাগর চোখের একটা মেয়ে। ছিপছিপে একহারা গড়ন। মেয়েটার ্লিগ্ধ উপস্থিতি মুগ্ধ করে মালিহাকে। দিলারা গোসল সেরে বের হন। ফর্সা গালের ওপর ভেজা চুল এসে পড়েছে। মালিহা সেদিকে তাকিয়ে বলে, ‘আপু, তুমি সাজলেও সুন্দর। না সাজলেও সুন্দর।’

তুই আমাকে বেশি ভালোবাসিস তো তাই এমন মনে হয়। দ্রুত হাতে খাবার টেবিল সাজাতে সাজাতে বলেন দিলারা।

ওরা সবাই একসঙ্গে খায়। মালিহাকে কষ্ট করে ধ্রুবকে খাওয়াতে হয় না। চন্দ্রা খাইয়ে দেয়।

ও নিজেই  প্রস্তাব দেয়, ‘আমি তোমার ছেলেকে খাইয়ে দিই?’ মালিহা খুশি হয়। স্বপনের মৃত্যুর পরে ছেলেকে খাওয়ানো, গোসল করানো, ঘুম পাড়ানো, স্কুলে আনা-নেয়া সব কাজ একা করতে

হয়। কেউ নেই ভাগ নেবার। একা একা সন্তান বড় করার যন্ত্রণা এই ক’দিনেই সে বুঝতে পারছে!

স্বপনের আত্মহত্যা মালিহার মনে শোকের বদলে অভিমানের জন্ম দেয়! কাজ না করলেও বাসায় থেকে ছেলের দেখাশোনা করার জন্যও তো বেঁচে থাকতে পারত ও। একবারও সে ভাবল না,

এত বড় পৃথিবীতে ছোট্ট শিশুটি কাকে বাবা বলে ডাকবে?

খাওয়ার সময় চোখের পানি ফেলা ঠিক নয়। মালিহা ভাবনার লাগাম ধরে। চন্দ্রা মেয়েটা করলা ভাজি আর ডাল দিয়ে ধ্রুবকে ভাত খাওয়াচ্ছে। আর ধ্রুব সেটা আগ্রহ নিয়ে খাচ্ছে। মালিহা সত্যি অবাক হয়। অল্প সময়ে ছেলেটাকে বশ করেছে মেয়েটা। বাসায় কখনও ধ্রুবকে করলা ভাজি খাওয়ানো যায় না।

দিলারা আপার মায়ের হোম অ্যাটেন্ডডেন্ট চন্দ্রা। খালাম্মা এখন ঘুমাচ্ছেন। তাই মেয়েটার এখন কাজ নেই। যদিও অনেক বাঙালি পরিবারে হোম অ্যাটেন্ডডেন্টকে দিয়ে এমন কোনো কাজ নেই যেটা করায় না।

দিলারা আপা তেমন নন। ডানকিনে সপ্তাহে আটচল্লিশ ঘণ্টা কাজ করার পরেও রান্নাবান্না থেকে শুরু করে ঘর পরিষ্কার সব কাজ উনি একাই করেন। অসম্ভব বড় মনের মানুষ। মালিহাকে এই দুঃসময়ে উনার মতো কেউ সাহায্য করেননি। দিলারা আপা ভালোমানুষ বলে স্বামীর আগের ঘরের মেয়েরা আপন মায়ের সঙ্গে না থেকে সত্ মায়ের সঙ্গে থাকে!

খেতে খেতে সবাই মিলে গল্প করে। চন্দ্রা এত দ্রুত ধ্রুবর সঙ্গে খাতির করতে পেরেছে দেখে মালিহা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।

ওর তো ধ্রুবের বয়সী একটা ছেলে আছে। এক বছর আগে নিউইয়র্কে এসেছে চন্দ্রা ছেলেকে গায়ানায় এক আন্টির কাছে রেখে। দিলারা জানায়।

‘এত ছোট ছেলেকে রেখে কেন এসেছ এখানে!?’ মালিহা প্রচণ্ড বিস্মিত হয়।

চন্দ্রার শ্যামলা মুখটা অন্ধকার হয়ে যায়। ‘আমার স্বামী রোড এক্সিডেন্টে মারা গেছে দেড় বছর আগে। তারপর ছেলেকে নিয়ে কী করব বুঝতে পারছিলাম না। আমার এক আন্টি নিউইয়র্কে থাকেন। উনি আমাকে আর আমার মাকে স্পন্সর করতে রাজি হলেন। তারপর দুজনে চলে এলাম। এখন আমার ছেলে আমার আরেক আন্টির কাছে আছে।’ কথা বলতে বলতে মেয়েটার ডাগর কালো চোখ দুটি জলে ভরে যায়।

স্বামী মারা গেছে দুর্ঘটনায়। ছেলে অনেক দূরে। অচেনা একটা মেয়ের জন্য বুকের মধ্যে মোচড় দিয়ে ওঠে মালিহার। ধ্রুবকে অকারণে বুকের কাছে টেনে নেয় ও।

 

৭.

মুস্তাফিজ নবীর মেজাজ এখন দারুণ ফুরফুরে। শিস বাজাতে বাজাতে গাড়ির দরজা খোলেন।

মোজাম্মেল সাহেব রাজি হয়েছেন মালিহাকে উনার রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের চাকরি দিতে। খুব চালু রেস্টুরেন্ট। বেতন আর টিপস মিলে মালিহার আয় খারাপ হবে না। মেয়েটাকে বলবেন, তাদের কাছাকাছি কোথাও বাসা নিতে।  ধ্রুবকে দিলারা দরকার হলে দেখে রাখতে পারবে।

মুস্তাফিজ নবীর মন ভালো থাকার আরেকটা কারণ, পত্রিকার লিড রিপোর্টটা লেখা শুরু করে দিয়েছেন। বেশ ভালো একটা ভূমিকা দিয়েছেন। অনেকগুলো কেস স্টাডিও আছে তারপর। লেখাটা মোটামুটি দাঁড়িয়ে গেছে। এখন ওই সেমিনার থেকে ফিরে কিছুটা ঘষামাজা করলেই চলবে।

লেখার শিরোনাম দিয়েছেন, প্রিয় কবির কবিতার লাইন দিয়ে—যদি  নির্বাসন দাও। মুস্তাফিজ নবী নিজেও ঢাকায় থাকতে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে কবিতা লিখতেন নিয়মিত। এখন আর লেখেন না। d

 

 

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২১ জুন, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পড়ুন