ঈদের তাপ ঈদের চাপ: মাসুদ সেজান
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ইং
ঈদের তাপ ঈদের চাপ: মাসুদ সেজান
নাট্যকার ও নির্মাতা

রোজার ঈদের পর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম কোরবানির ঈদে বেশি কাজ করব না। আরটিভির জন্য ছয় পর্বের সিক্যুয়াল ‘ফরমাল-ইন রি-অ্যাকশন’ ও বাংলাভিশনের জন্য একটি টেলিফিল্ম ‘লাইফ সাপোর্ট’, এর বাইরে কিছু না। এক ঘণ্টা দৈর্ঘ্যের ধারাবাহিক ‘চলিতেছে সার্কাস’-এর অনএয়ার ঠিক রেখে, প্রিয় ঘুম, প্রিয় আলস্য পরিত্যাগ করে এর চাইতে বেশি কাজ করা আমার পক্ষে সম্ভব না। কিন্তু ভালোবাসার এক অদ্ভুত টান আমার দিনের ঘুম তো বটেই, রাতের ঘুমও হারাম করে দিয়েছে। তিন-চারটি চ্যানেলের আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দিলেও প্রিয় আহসান কবীরকে না করতে পারিনি, তিনি বৈশাখীর হেড অব প্রোগ্রাম। তার চ্যানেলের জন্য একটি ছয় পর্বের নাটক নাকি বানিয়ে দিতেই হবে। ছোট ছোট বাক্যের মিষ্টভাষী, জোঁক স্বভাবের এই মানুষটির জন্য কেবলমাত্র (১৯ সেপ্টেম্বর) শুরু করলাম ‘সিনেমাটিক’ নাটকের শুটিং। জানি না ঈদের আগে এর কাজ শেষ করতে পারব কিনা। প্রধান সহকারী ছোট ভাই আসাদ রহমানকে বলে দিয়েছি ঈদের পরদিনও আর্টিস্টদের সিডিউল নিতে। গতকাল শেষ করেছি চিয়ার আপ নিবেদিত বিরতিহীন নাটক ‘সেলিব্রেটি’র শুটিং। আমি এর আগে কখনো ব্র্যান্ডিং নাটক বা এজেন্সির শর্তসাপেক্ষ কোনো নাটক নির্মাণ করিনি। প্রাণের মাসুদুজ্জামানের সাথে আমার সম্পর্কটা পারিবারিক। ১৯৯৩ সালে আমি যখন পথে পথে ঘুরি, রাতে ঘুমানোর জায়গা খুঁজে বেড়াই, তখন মাঝে মধ্যেই মাসুদ ভাইয়ের সাথে জাফরাবাদে তার বোনের বাসায় চলে যেতাম। হয়তো আপা ততক্ষণে ঘুমিয়ে পড়েছেন, আমরা দু’জন রান্নাঘরে ঢুকে হাঁড়ি-পাতিল খোঁজাখুঁজি করে, ভাত যেটুকু আছে ভাগাভাগি করে খেতাম। সেই মাসুদ ভাইয়ের পাশাপাশি প্রিয় বালক নাজমুল হুদা শাপলার যোগসাজসে প্রাণের সাথে একটি মিটিং করতেই হলো। ব্র্যান্ড ম্যানেজার ভদ্রলোককে তারা আমার সম্পর্কে কি ধারণা দিয়েছিলেন জানি না, ভদ্রলোক একেবারে শর্তহীনভাবে একটি ভালো কাজ উপহার দেওয়ার আমন্ত্রণ জানালেন। আত্মিক সম্পর্কের টানে এই কাজটিও ফিরিয়ে দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। অতএব, এবারের ঈদেও আমার নাটকের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ালো চারটিতে। দুইটি ছয় পর্বের ধারাবাহিক, একটি টেলিফিল্ম ও একটি এক ঘণ্টার নাটক।  আরটিভির জন্য নির্মিত ছয় পর্বের ‘ফরমাল-ইন রি-অ্যাকশন’ নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। তবে এটুকু বলতে পারি, ফরমাল-ইন সিরিজের এটি শেষ কাজ।  চিয়ার আপ নিবেদিত বিরতিহীন নাটক ‘সেলিব্রেটি’ মূলত আমার চিচিংফাঁক, সেলফি ও লাইক অ্যান্ড কমেন্টসের সিক্যুয়াল। মাহফুজ আহমেদের সাথে গত ঈদে কাজ করলেও হাসিনের সাথে এই প্রথমবার কাজটি করলাম। মেয়েটার ভালো কাজ করবার প্রতি আগ্রহ আছে। বাংলাভিশনের জন্য নির্মিত টেলিফিল্ম লাইফ সাপোর্টের একটি অংশবিশেষের শুটিং করতে গিয়েছিলাম নেত্রকোনার বিরিশিরিতে। ভারত সীমান্তের পাহাড়ঘেরা সোমেশ্বরী নদী পার হয়ে যেইমাত্র লোকেশনে পৌঁছেছি, হঠাত্ সেনাবাহিনীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ল বৃষ্টি। একটি স্কুলে আশ্রয় নিয়ে, কিছুক্ষণ পর বৃষ্টির চোখ ফাঁকি দিয়ে রিয়াজ ভাই ও তারিক স্বপনকে যেই না ক্যামেরার সামনে পাঠিয়েছি অমনি আবারও বৃষ্টির অতর্কিত হামলা। আমরা থ হয়ে গেলাম, নিজেদের মাথা বাঁচিয়ে সন্ধ্যায় পালিয়ে এলাম ঢাকায়। শুরুতেই বলেছি কেবলমাত্র বৈশাখীর জন্য ছয় পর্বের ধারাবাহিক ‘সিনেমাটিক’ নাটকের কাজ শুরু করেছি। মোশাররফ করিম নিপুণের গাড়ির সামনে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেছে, প্রেমও হয়ে গেছে, বাসর ঘরের দৃশ্যটিও শুট করে ফেলেছি। শেষটা কী হবে এখনো জানি না। তবে এটুকু বলতে পারি, নাটকটি অলরেডি জমে গেছে। প্রিয় দর্শক আপনারা নির্ভাবনায় এটি দেখতে পারেন।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৪
মাগরিব৫:৫৮
এশা৭:১১
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫৩
পড়ুন