আলাপ
‘নিঃস্ব’ হবার গানেই সমৃদ্ধ হলেন চন্দন সিনহা
তানভীর তারেক১৪ মার্চ, ২০১৫ ইং
‘নিঃস্ব’ হবার গানেই সমৃদ্ধ হলেন চন্দন সিনহা
 

‘আমি নিঃস্ব হয়ে যাবো’ গানটি চলচ্চিত্র থেকেও জনপ্রিয়তা পেয়েছিল রিলিজের সময়ই, এটা বলা যায় অনায়াসেই। ‘এটি অমুক চলচ্চিত্রের গান’ এটা না বলে ‘এই গানটি অমুক চলচ্চিত্রে রয়েছে’ এমনটিই শোনা গিয়েছিল বেশিরভাগ সময়। এছাড়া এর আগে একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যখন যোগ্য হয়েও গানটি সম্মাননা পেল না তখন তা নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছিল বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে। সেই অনুষ্ঠানের পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী আসিফ নিজেও বলেছিলেন, ‘পুরস্কারটি আমার না চন্দন সিনহার প্রাপ্য।’ তাই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে যে গানটির সত্যিকার মূল্যায়নই করলো তাই প্রমাণিত হলো। তবে সৌভাগ্যদেবীও যে চন্দন সিনহার হাত ধরেই হাঁটে তা বলাই যায়। কারণ এবারের জাতীয় সম্মাননায় সঙ্গীতে তার পাশাপাশি পুরস্কার পেয়েছেন দেশের দুই কিংবদন্তী শিল্পী রুনা লায়লা ও সাবিনা ইয়াসমিন। এটা অবশ্যই যেকোনো অনুজ শিল্পীর জন্য বাড়তি পাওনা। নিজের পুরস্কার প্রাপ্তি প্রসঙ্গে চন্দন সিনহা বলেন, ‘আমি খুব স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েছিলাম খবরটি শুনে। একই সাথে নার্ভাসও ছিলাম। কারণ আজ থেকে এক যুগেরও বেশি সময় আগে ২০০৪ সালে আমি নিউইয়র্কে একটি স্টেজে পারফর্ম করি, রুনাজিও গান গেয়েছিলেন সেই মঞ্চে। সেই সময় আমার কাজের অন্যান্য পরিচয়ের পাশাপাশি আমার গান শুনেও মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন ‘চন্দন তুমি গানও গাও দেখছি?’ আজ আমার পুরস্কার প্রাপ্তির খবর শোনা মাত্রই রুনা আপাও আমাকে শুভেচ্ছা জানালেন। এই আনন্দ কোথায় রাখি।’

যেকোনো শিল্পীর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য ধরা হয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। সেদিক দিয়ে সমসাময়িক একাধিক আধুনিক শিল্পীর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে জাতীয় সম্মাননা মেলেনি। অথচ একাধিক শিল্পীর ঘরের সেই অপ্রাপ্তির অগণিত শোকেসে শিল্পী চন্দনের ঘরের আসবাবে সাজবে দেশের সবচেয়ে বড় পুরস্কার। এটা অন্য এক মাত্রা তৈরি করেই বটে! কারণ সারাজীবনে মাত্র দু’তিনটি প্লে-ব্যাক করেই চন্দন সিনহা পেয়েছেন জনপ্রিয়তা, পাশাপাশি সেরা সম্মাননা। তাই নিজের কৃতজ্ঞতা সূত্রেই স্মরণ করলেন তার গুরুতূল্য মানুষ বরেণ্য নির্মাতা আব্দুল্লাহ আল মামুনকে। চন্দন সিনহা বলেন, ‘আমি খুব লাকী যে মামুন ভাই তার নাটক কিংবা চলচ্চিত্রের একমাত্র পুরুষ কণ্ঠশিল্পী হিসেবে শুধু আমাকে নিয়েই কাজ করেছেন। এমনকি এদেশের প্রথম কোনো নাটকের শীর্ষ গানে কণ্ঠ দিয়েই আমি শিল্পী খ্যাতি পেয়েছি, পাশাপাশি অনন্য রেকর্ডেও নাম লেখাতে পেরেছি। মামুন ভাই আমার প্রতি সেই ভালোবাসা আর আস্থা ছিল বলেই তা সম্ভব হয়েছে। আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই। আজকের এই প্রাপ্তির খবর শুনতে পেলে তিনিই সবচেয়ে খুশি হতেন।’

উল্লেখ্য, ‘পূর্ণদৈর্ঘ প্রেমকাহিনি’ চলচ্চিত্রের ‘আমি নিঃস্ব হয়ে যাবো’ গানটির সঙ্গীতায়োজন করেছেন কৌশিক হোসেন তাপস। লিখেছেন কবির বকুল। মজা করেই শিল্পী বললেন, ‘এই গানটি গাইবার পর আমি অনেক সময় ফান করেই নিঃস্ব হবার ভয় করেছি বা বন্ধুদের বলেছি। কিন্তু সেই নিঃস্ব হবার গানই যে আমায় সব থেকে বেশি সমৃদ্ধ করবে তা কখনও ভাবিনি। কৃতজ্ঞতা আমার স্রষ্টা ও শ্রোতাদের প্রতি।’

 

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৪ মার্চ, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৫৪
যোহর১২:০৮
আসর৪:২৭
মাগরিব৬:১০
এশা৭:২২
সূর্যোদয় - ৬:০৯সূর্যাস্ত - ০৬:০৫
পড়ুন