সরকার হাত বাড়ালেই বাড়বে মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র
নুরুল করিম১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
সরকার হাত বাড়ালেই বাড়বে মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র
বিজয়ের ৪৬ বছর পূর্ণ করছে বাংলাদেশ। এই ৪৬ বছরে মাত্র ৫৪টি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৫ সালে মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত ‘অনিল বাগচীর একদিন’ বেশ সাড়া ফেলে। কিন্তু এরপর গত দু-বছরে আর কোনো মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক চলচ্চিত্র নির্মিত হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য গল্পের কি এতই সঙ্কট? যারা নিয়মিতভাবে দেশের গল্পে চলচ্চিত্র নির্মাণ করে এসেছেন তারাও এখন থমকে গেছেন! বর্তমানে তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যেও এ নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই। তবে কেন? এ প্রসঙ্গে নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হলে অনেক বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়। রাজনৈতিক বিধি-নিষেধ, পুঁজি স্বল্পতা এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবসহ অনেককিছু। বিশেষ করে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা নেই খুব একটা। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসটি উপস্থাপন করতে বড় বাজেটের প্রয়োজন, সেটা নির্মাতারা পাচ্ছে না। তাই সিনিয়রদের পাশাপাশি নতুনরাও এ বিষয়টি নিয়ে ছবি বানাতে উত্সাহ পাচ্ছেন না।’

পেছনে ফিরে তাকালে দেখা যাবে, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় বেশকিছু প্রামাণ্যচিত্র নির্মিত হয়। ১৯৭৪ সালের পর প্রায় ২ বছর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোনো চলচ্চিত্র নির্মিত হয়নি। ১৯৭৬ সালে মুক্তি পায় হারুন-অর-রশীদের ‘মেঘের অনেক রং’। ১৯৮১ সালে মুক্তি পায় শহীদুল হক পরিচালিত ‘কলমীলতা’। কলমীলতার পর প্রায় ১৩ বছর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোনো চলচ্চিত্র নির্মিত হয়নি। এ সময়ে বেশকিছু চলচ্চিত্র মুক্তি পায়, কিন্তু সেখানে মুক্তিযুদ্ধ একেবারেই অনুপস্থিত ছিল। দীর্ঘ একযুগ পর ১৯৯৪ সালে সরকারি অনুদানে কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ নির্মাণ করেন ‘আগুনের পরশমনি’। এরপর আরোকিছু চলচ্চিত্র নির্মিত হলেও বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র থমকে গিয়ে ৫৪-র কৌটায় পড়ে আছে বলা চলে। চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, ‘একটি মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রের জন্য যত টাকা লগ্নি করতে হয় সেটা পুরোপুরিভাবে উঠে আসে না। তাই বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহী হচ্ছে না কেউ। তবে সরকার বা বড় কোনো প্রতিষ্ঠান যদি বিনালাভের আশায় লগ্নি করে তাহলে সম্ভব।’

নির্মাতা অভিতাভ রেজা বলেন, ‘একাত্তরের দিনগুলি কিংবা ক্র্যাক প্লাটুন নিয়ে ছবি নির্মাণের ইচ্ছেটা অনেক আগেই তৈরি হয়েছে, এখনও আছে। তবে আমি মনে করি তার জন্য যথেষ্ট প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন আছে। চাই ভালো একটি স্ক্রিপ্ট। নির্মাতা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধকে পর্দায় তুলে ধরার আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে কতটা সময় লাগবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারবো না।’

তবে অনেক নির্মাতা জানালেন, চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকার যে অনুদান দেয় তাতে একটি মুক্তিযুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র নির্মাণ সম্ভব হয় না। ফলে দেশাত্মবোধক চলচ্চিত্র নির্মাণে নির্মাতাদের আগ্রহ দিনদিন শূন্যের কোঠায় নেমে আসছে। তবে সরকার হাত বাড়ালেই বাড়বে মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র-এমনটাই অভিমত চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৫:১২
যোহর১১:৫৪
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৫
সূর্যোদয় - ৬:৩৩সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পড়ুন