ঢাকা বুধবার, ২০ মার্চ ২০১৯, ৬ চৈত্র ১৪২৫
৩১ °সে

ওরশ শরীফ মজলিসের দ্বারা ইসলাম জাগ্রত হয়

ওরশ শরীফ মজলিসের  দ্বারা ইসলাম জাগ্রত হয়

আলহাজ হযরত মাওলানা সৈয়দ জাকির শাহ্

নকশবন্দি মোজাদ্দেদি কুতুববাগী

ইত্তেফাক : মুহতারাম কেমন আছেন?

সৈয়দ জাকির শাহ্ নকশবন্দি মোজাদ্দেদি কুতুববাগী: আল্লাহ তায়ালার দয়ায় ও রহমতে ভালো আছি।

ইত্তেফাক : ইসলাম প্রচারে আজ ঐক্যের গুরুত্ব কতটুকু?

সৈয়দ জাকির শাহ্ নকশবন্দি মোজাদ্দেদি কুতুববাগী : রাসুল (স) বলেছেন যে, বনী ইসরাইলের সময় নবীদের উম্মতরা ছিল ৭২ দলে বিভক্ত। আমার উম্মতরা হবে ৭৩ দলে বিভক্ত। এর মধ্যে একদল হবে জান্নাতি যারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অন্তর্ভুক্ত। যারা আহলে বায়াত ও পাক-পাঞ্জাতন মেনে চলেন। আহলে বায়াতের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত চারজন খলিফা- সিদ্দিকে আকবর হজরত আবু বকর (রা), ওমর ফারুক (রা), হজরত ওসমান (রা), হজরত আলী (রা) এবং মা ফাতিমা ও ইমাম হাসান-হুসাইন (রা)সহ আসহাবে সুফফাগণ। সূরা আশ-শূরার ২৩ নং আয়াতে বলা হয়েছে, কুল লা-আসআলুকুম আলাইহি আজরান ইল্লাল মাওয়াদ্দাতা ফিল কুরবা... অর্থাত্ হে আল্লার রাসুল আপনি বলে দিন আমি তোমাদের নিকট (রিসালাতের বিনিময়ে) কোনো পারিশ্রমিক চাই না। তবে আত্মীয়তার সূত্রে যে সৌহার্দ্য আছে তা আলাদা। এখান থেকে আমরা বুঝতে পারি, আমাদেরকে আহলে বায়াতকে ভালোবাসতে হবে। যারা আহলে বায়াতকে ভালোবাসলো, তারা যেন হযরত নূহ (আ)-এর কিস্তিতে উঠল। পরিত্রাণ পেল।

ইত্তেফাক : আমরা জানি, আপনার দরবারের আয়োজনে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ ২০১৯ পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী নারায়ণগঞ্জে মহাপবিত্র ওরশ শরীফ ও বিশ্বজাকের ইজতেমা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই ওরশ শরীফ ও বিশ্বজাকের ইজতেমা বলতে আমরা কী বুঝি? এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কী?

সৈয়দ জাকির শাহ্ নকশবন্দি মোজাদ্দেদি কুতুববাগী:ওরশ আরবি শব্দ। ওরশ শরীফ হলো জামে আম্বিয়া, নবী-রাসূল ও জামে আউলিয়াদের মহামিলন। মহান আত্মাদের একত্রিত হওয়াকে ওরশ বোঝায়। এসব বুজুর্গানে দীন ও ওলি-আউলিয়াগণ যখন ওফাত হন, তখন তাদের রুহের তথা আত্মার সোয়াব রেশনির জন্য ওরশ শরীফ মজলিস করা হয়। এই মজলিসের দ্বারা ইসলাম জাগ্রত হয়। মানুষের মধ্যে আল্লাহ-রাসূলের প্রেম-মহব্বত পয়দা হয়। কলবের মধ্যে জিকির পয়দা হয়। এই মজলিসের দ্বারা মানুষ নামাজি হয়, জিকিরকারী হয়। মানবসেবায় নিয়োজিত হয়, বিনয়ী ও নম্র-ভদ্র হয়। তাদের পরস্পরের মধ্যে মিল-মহব্বত বাড়ে। মুসলমানগণ ভাই ভাই হয়ে যান। মানুষ অশান্তি, মারামারি-কাটাকাটি থেকে বেঁচে থাকতে পারেন। এতে কলবের সালিম হয়, তাশকিয়ায়ে নাফস হাসিল হয়। আল্লাহ তায়ালার রেজাবন্দি হাসিল হয়। আত্মা প্রশান্তি লাভ করে।

অন্যদিকে, জাকের অর্থ জিকিরকারী। যারা আল্লাহর জিকির করেন, তাদেরকে জাকের বলে। ইজতেমাও আরবি শব্দ। অর্থ সমবেত হওয়া। এখানে জিকিরকারীদের একত্রিত হওয়াকে ইজতেমা বলে। বিভিন্ন দেশ থেকে এসে তারা শামিল হন। দীনের আহ্বান তো বিশ্ব মানবজাতির জন্য।

ইত্তেফাক : আধুনিককালে কিভাবে দ্বীন প্রচার করলে তা অধিক ফলপ্রসূ হবে?

সৈয়দ জাকির শাহ্ নকশবন্দি মোজাদ্দেদি কুতুববাগী:বর্তমানে আগে প্রতিটি মানুষকে নামাজের দিকে আসার ব্যাপারে জোর দিতে হবে। নামাজ হলো সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত। নামাজের মাধ্যমে দ্বীনের কাজ এগিয়ে যাবে। এর প্রচার-প্রসার বাড়বে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ইন্নাস্সলাতা তানহা আনিল ফাহশা-য়ি ওয়াল মুনকার’ অর্থ- নিশ্চয়ই নামাজ মানুষকে অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে (সূরা আনকাবুত, ৪৫ নং আয়াত)। এরপরই জিকিরের গুরুত্ব বেশি। কেননা জিকিরেই আছে প্রশান্তি।

ইত্তেফাক : আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

সৈয়দ জাকির শাহ্ নকশবন্দি মোজাদ্দেদি কুতুববাগী:ইত্তেফাক পরিবার ও পাঠকদের প্রতি রইল আমার আন্তরিক দোয়া ও মহব্বত। এই পত্রিকা পড়ে তারা যেন দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ লাভ করতে পারেন। বিশ্বজাকের ইজতেমায় সবাইকে আমন্ত্রণ জানাই।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ মার্চ, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন