ঢাকা শনিবার, ২৩ মার্চ ২০১৯, ৯ চৈত্র ১৪২৫
২৪ °সে

অচেনা আলিসের চমকে জিতলো ঢাকা

কুমিল্লার সহজ জয়
অচেনা আলিসের চমকে জিতলো ঢাকা
অভিষেকেই হ্যাটট্রিক। বিশ্বরেকর্ড গড়ে সতীর্থ রুবেল হোসেনের সঙ্গে আলিস আল ইসলামের উল্লাস —মোশারফ হোসেন

ছুটির দিনে শেরেবাংলায় নেমেছিল দর্শকের ঢল। অসম্পূর্ণ ডিআরএস প্রযুক্তি পরিপূর্ণ হয়েছে আল্ট্রাএজ যুক্ত হওয়ায়। আতশবাজির ঝলকানিও ফিরেছে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ষষ্ঠ আসরের পঞ্চম দিনটি ছিল ক্রিকেটীয় বিনোদনে ভরপুর। গতকাল ঢাকা ডায়নামাইটস-রংপুর রাইডার্সের আগুনে লড়াই বিপিএলে ফিরিয়েছে কাঙ্ক্ষিত প্রাণের জোয়ার।

তবে দিনের সব আলো কেড়ে নিয়েছেন এক অচেনা তরুণ। দিন শেষে সব আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতেও সাভারের বলিয়ারপুরে বেড়ে উঠা আলিস আল ইসলাম। নেট বোলার থেকে ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে বিপিএল খেলতে নেমেই ইতিহাস গড়েছেন ২৩ বছর বয়সী এ অফস্পিনার। প্রথম বোলার হিসেবে বিপিএল অভিষেকে হ্যাটট্রিক করেছেন। গুঁড়িয়ে দিয়েছেন রংপুর রাইডার্সের ব্যাটিং লাইন। ম্যাচের শেষ ওভারে ২ রানের শ্বাসরোধী জয় এনে দিয়েছেন ঢাকাকে। ২৬ রানে চার উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরাও কয়েক মাস আগে ঢাকা প্রথম বিভাগ ক্রিকেট খেলা আলিস।

যেখানে ওল্ড ডিওএইচএসের হয়ে খেলা এ বোলারের বোলিং অ্যাকশন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল। ম্যাচ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আলিসের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রংপুর। যদিও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের দাবি, পরীক্ষা দিয়ে বৈধতা পেয়েছিল তার বোলিং অ্যাকশন।

ঢাকা-রংপুরের তীব্র উত্তেজনার ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ দেখতেই শেরেবাংলার গ্যালারিতে ভিড় করেছিলেন দর্শকরা। এ ম্যাচের পর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স-রাজশাহী কিংস ম্যাচে আবারও ফাঁকা হয়ে যায় গ্যালারি। অবশ্য ঢাকা-রংপুর ম্যাচেই ছিল বিনোদনের সব আয়োজন। টি-২০’র বিস্ফোরক ব্যাটিং করেছেন কাইরন পোলার্ড ও রাইলি রুশো। কিন্তু বল হাতে আলিস একাই বদলে দিয়েছেন পুরো চিত্রনাট্য। দুদলের সেয়ানে সেয়ানে লড়াইয়ে ঢাকার জয়ের নায়ক তিনি।

ঢাকার দেয়া ১৮৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করছিল রংপুর। ২৫ রানে দুই উইকেট পতনের পর তৃতীয় উইকেটে রুশো-মিঠুন ১২১ রানের জুটি গড়েন। ইনিংসের সপ্তম ওভারে দুবার মিঠুনের ক্যাচ ফেলেছিলেন বিপিএল অভিষিক্ত আলিস। পরে বোলার হিসেবেও একটি রিটার্ন ক্যাচ ফেলেছেন। ১৬তম ওভারে রুশোকে ফিরিয়ে ব্রেক থ্রু দেন আলিস। রুশো ৪৪ বলে ৮৩ রান (৮ চার, ৪ ছয়) করেন। নিজের পরের ওভারে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন আলিস। অভিষেকেই হ্যাটট্রিকের অনন্য রেকর্ড গড়েন। তার শিকার হন মিঠুন, মাশরাফি, ফরহাদ রেজা। শেষ ৬ বলে ১৪ রান দরকার ছিল রংপুরের। বিষম চাপের শেষ ওভারে আলিসের হাতেই বল তুলে দেন অধিনায়ক সাকিব।

প্রথম দুই বলে দুটি চার মারেন শফিউল। পরের চার বলে বিস্ময় উপহার দেন আলিস। স্পিন মায়াজালে ৩ রান দিয়ে ঢাকাকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দেন এ তরুণ। মিঠুন ৪৯ রান করেন। ৯ উইকেটে ১৮১ রানে থামে রংপুরের ইনিংস।

এর আগে পোলার্ডের ২৬ বলে ৬২ রান (৫ চার, ৪ ছয়), সাকিবের ৩৬, আন্দ্রে রাসেলের ২৩, রনি তালুকদারের ১৮ রানে ভর করে ৯ উইকেটে ১৮৩ রান তুলে ঢাকা। শফিউল তিনটি, সোহাগ গাজী, বেনি হাওয়েল দুটি করে উইকেট নেন।

কুমিল্লা-রাজশাহীর দিনের দ্বিতীয় ম্যাচটি ছিল নিরুত্তাপ। গতকাল রাজশাহীকে ৫ উইকেটে পরাজিত করেছে কুমিল্লা। প্রথমে ব্যাট করে ১৮.৫ ওভারে ১২৪ রানে অলআউট হয় রাজশাহী। উদানা ৩২, মিরাজ ৩০, জাকির হাসান ২৭ রান করেন। আফ্রিদি তিনটি, সাইফউদ্দিন, আবু হায়দার রনি ও লিয়াম ডসন দুটি করে উইকেট নেন। জবাবে ১৮.৪ ওভারে ৫ উইকেটে ১৩০ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় কুমিল্লা। এনামুল হক বিজয় ৪০, এভিন লুইস ২৮, তামিম ইকবাল ২১, লিয়াম ডসন অপরাজিত ১২, আফ্রিদি অপরাজিত ৯ রান করেন।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ মার্চ, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন