মামলা জট কমাতে না পারলে আমাদের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠবে--------- প্রধান বিচারপতি
ইত্তেফাক রিপোর্ট১২ এপ্রিল, ২০১৫ ইং
মামলা জট কমাতে না পারলে আমাদের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠবে--------- প্রধান বিচারপতি
 

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, দেশের আদালতসমূহে ৩০ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আমরা সব মামলা নিষ্পত্তি করতে পারব না, তবে নিষ্পত্তির হার সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। যদি এটি করতে না পারি তাহলে আমার-আপনার অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন উত্থাপিত হবে।

 

জেলা জজ ও সমপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের উদ্দেশে শনিবার দিক-নির্দেশনামূলক অভিভাষণে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি অস্তিত্বের প্রশ্ন বলছি এই কারণে যে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো আস্তে আস্তে ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। মানুষের মূল্যবোধ কমে যাচ্ছে। আমরা যদি পাল্লা দিয়ে সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চলি, তাহলে একদিন দেখা যাবে আমরাও সেইভাবে বিলীন হয়ে যাচ্ছি। আমার আবেদন, আপনারা সচেতন হন। এই মামলাগুলো নিষ্পত্তি করতেই হবে। কিভাবে নিষ্পত্তি করবেন সেটা আপনাদের দায়িত্ব।

 

সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে এই অভিভাষণ প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার সৈয়দ আমিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে দেশের নিম্ন আদালতে কর্মরত জেলা জজ ও সমপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা অংশ গ্রহণ করেন।

 

প্রধান বিচারপতি বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঠিকমতো অফিসে আসেন না। পার্লামেন্টে এমপিরা কোরাম পূরণ করেন না। তাদের সঙ্গে আপনারা যদি নিজেদের তুলনা করেন তাহলে সাংঘাতিক ভুল করবেন। আপনাদের বিশেষত্ব থাকবে না। কারণ আপনারা জেনে শুনেই এই পেশায় এসেছেন। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের চেয়ে আপনাদের আলাদা সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, আপনারা বিচারক, শুধু আদালতের কার্যদিবসে নয়, ২৪ ঘণ্টার বিচারক। কারণ কোর্ট থেকে আসার সময় একটা ফাইল (মামলার নথি) বাসায় নিয়ে এসেছেন। রাতে বাসায় বসে নথি পর্যালোচনা করে ভাবছেন মামলার আসামিকে খালাস দেবেন, নাকি ফাঁসি দেবেন? ২৪ ঘণ্টা আপনারা কাজ করছেন। এজন্য কোনমতেই প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করবেন না। আর যদি এটা করেন তাহলে আপনার জায়গা কিন্তু অন্য কেউ দখল করবে। তখন আর কিছু বলার থাকবে না।

 

জেলা জজদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি আরো বলেন, জুডিশিয়ারির মধ্যে আপনারা সর্বোচ্চ টায়ারে আছেন। আপনারা একটা লোককে ফাঁসি, আবার খালাসও দিতে পারেন। তাহলে সুপ্রিম কোর্ট থেকে কেন বারবার দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির জন্য নির্দেশনা জারি করতে হবে।

 

তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর মামলার জট নিরসনে অব্যাহতভাবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। সুপ্রিমকোর্টের অবকাশকালীন ছুটি অর্ধেক করার জন্য প্রচেষ্টা নিয়েছি। আমরা বছরে ৮০ থেকে ৮৬ দিন ছুটি নিয়ে বিলাসিতা করতে পারি না। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য একজন বিচারপতি ছাড়া কেউ আমাকে ছুটি কমানোর বিষয়ে সমর্থন করেননি। আমরা যদি নিজেরা ঠিক না হই তাহলে তো অধঃস্তনদের বলতে পারি না। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনও ‘ফাইট’ করে যাচ্ছি।

 

বিচার বিভাগ থেকে যারা প্রেষণে সরকারের বিভিন্ন সংস্থায় নিয়োজিত রয়েছেন তাদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনারা প্রথমে হলেন বিচারক। আপনার মর্যাদা, সততা, নিরপেক্ষতা অবশ্যই আপনাকে বজায় রাখতে হবে। আমি চিন্তা-ভাবনা করছি, এমন কিছু প্রতিষ্ঠান আছে, যেখানে আদৌ বিচারকদের প্রেষণে পাঠানো যুক্তিসঙ্গত কিনা? এত মামলা অনিষ্পন্ন অবস্থায় রেখে বিচারকদের প্রেষণে দিতে পারি কিনা? আমি সরকারি সংস্থাগুলোকে বলে দিয়েছি, ৬ মাসের মধ্যে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে।

 

প্রধান বিচারপতি বলেন, আমাদের বিচারক স্বল্পতা রয়েছে এটা ঠিক। বিচারক নিয়োগ দেয়ার জন্য কাজ করছি। তবে এটাও তো ঠিক যে, আমাদের ‘লজিস্টিক সাপোর্টে’র অভাব রয়েছে। এখন যদি একসঙ্গে ৫শ জন বিচারক নিয়োগ দেয়া হয় তাহলে তাদেরকে বসার জায়গা দেয়াটা কঠিন হয়ে পড়বে। তবে যেসব জেলায় ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট বিল্ডিং নেই, আশা করি আগামী ছয় মাসের মধ্যে সেগুলো তৈরির কাজ শুরু হয়ে যাবে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১২ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
ফজর৪:২৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৩১
মাগরিব৬:২২
এশা৭:৩৬
সূর্যোদয় - ৫:৪০সূর্যাস্ত - ০৬:১৭
পড়ুন