৪২ আসামির বিরুদ্ধে সিআইডির চার্জশিট
রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি
ইত্তেফাক রিপোর্ট০২ জুন, ২০১৫ ইং
৪২ আসামির বিরুদ্ধে সিআইডির চার্জশিট
সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ।

 

৩০২ ধারায় মামলার সুপারিশ।

 

সাভারের সাবেক ইউএনওকে অব্যাহতি

সাভারের রানা প্লাজা ধসে পড়ার দুই বছর পর ওই ঘটনায় হত্যা ও ইমারত নির্মাণ আইনে ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে পৃথক দুটি মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দিয়েছে পুলিশের তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি। গতকাল সোমবার সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার বিজয় কৃষ্ণ কর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে দুইটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তবে সাভারের তত্কালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কবির উদ্দিন সরদারকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।

হত্যা ও ইমারত নির্মাণ আইনে করা দুই মামলায় রানা প্লাজা ভবনের মালিক সোহেল রানা, তার বাবা আব্দুল খালেক ওরফে খালেক কুলু, সাভার পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ, বর্তমান কমিশনার মোহাম্মদ আলী খানসহ ৫৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে একই আসামি দুই মামলায় থাকায় আসামির সংখ্যা ৪২ জন হিসেবে গণনা করা হয়েছে। মাহাবুবুল আলম নামে এ গার্মেন্টস ব্যবসায়ীকে দণ্ডবিধির মামলায় আসামি করা না হলেও ইমারত আইনের মামলায় আসামি করা হয়। তাই দুইটি মামলা মিলিয়ে আসামি হয়েছেন ৪২ জন।

এর মধ্যে হত্যা মামলায় ভবন মালিক সোহেল রানাসহ আসামি করা হয়েছে ৪১ জনকে ও সাক্ষী করা হয়েছে ৫৯৪ জনকে। ইমারত নির্মাণ আইনে করা মামলায় ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে ১৩০ জনকে। হত্যা মামলার ৪১ আসামির মধ্যে পলাতক ২৫ জন। ইমারত নির্মাণ আইনে করা মামলার ১৮ আসামির মধ্যে পলাতক আছেন ৭ জন।

হত্যা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন সোহেল রানা, তার পিতা আবদুল খালেক, সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র আলহাজ্ব রেফাতউল্লাহ, পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আলী খান, পৌরসভার সাবেক প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী রকিবুল হাসান রাসেল, নিউ ওয়েভ বটম লিমিটেডের চেয়ারম্যান বজলুস সামাদ আদনান, এমডি মাহমুদুর রহমান তাপস, ইথার ইলেকট্রনিক্সের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান ওরফে আনিসুজ্জামান, সাইট ইঞ্জিনিয়ার সারোয়ার কামাল, আমিনুল ইসলাম, আবু বকুর সিদ্দিক, মো. মধু, অনিল দাস, মো. শাহআলম মিঠু এবং মো. আবুল হাসান।

পলাতক আছেন, সোহেল রানার মা মর্জিনা বেগম, সাভার পৌরসভার সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপ-প্রধান প্রকৌশলী মিরাজ হোসেন, নগর পরিকল্পনাবিদ ফারজানা ইসলাম, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠার পরিদর্শন অধিদফতরের সাবেক উপ-প্রধান পরিদর্শক আবদুস সামাদ, উপ-প্রধান পরিদর্শক, (কলকারখানা) মো. জামশেদুর রহমান, শিল্প-সম্পর্ক শিক্ষায়তনের প্রকল্প পরিচালক বেলায়েত হোসেন, ইথার টেক্সটাইল লিমিটেডের এমডি জান্নাতুল ফেরদৌস, শফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া, মনোয়ার হোসেন বিপ্লব, আতাউর রহমান, আবদুস সালাম, বিদ্যুত্ মিয়া, সৈয়দ শফিকুল ইসলাম  ভুঁইয়া, রেজাউল ইসলাম, নান্টু, আবদুল হামিদ, আবদুল মজিদ, নয়ন মিয়া, ইউসুফ আলী এবং তসলিম।

হত্যা মামলায় স্প্যানিশ নাগরিক ডেভিড মেয়র রিকো, প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুর রাজ্জাক, নির্বাহী প্রকৌশলী এমতেমাম হোসেন, সহকারী প্রকৌশলী আলম মিয়া, আবদুল মান্নান, রাসেল আহমেদ, আলমগীর হোসেন এবং কাজী সাইফুল ইসলামকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। ইমারত নির্মাণ আইনের মামলার চার্জশিটে নির্বাহী প্রকৌশলী এমতেমাম হোসেন এবং সহকারী প্রকৌশলী আলম মিয়াকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

সিআইডি সূত্র জানায়, দুটি মামলায় ৬ শতাধিক পোশাক শ্রমিকসহ দেড় হাজারেরও বেশি লোককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। দেশের ইতিহাসে তো বটেই, সারাবিশ্বে একটি ঘটনায় এত বিপুলসংখ্যক ব্যক্তির সাক্ষ্যগ্রহণের নজির আর আছে কিনা সন্দেহ। তবে জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, উদ্ধারকর্মী, আহত শ্রমিক, নিহতদের স্বজন ও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার গঠিত তদন্ত কমিটি থেকে একজন করে ৬ শতাধিক ব্যক্তিকে চূড়ান্ত সাক্ষী করা হয়েছে। তাছাড়া এই একটি ঘটনার তদন্ত সম্পন্ন শেষে আদালতে দাখিল করতে ২ হাজারেরও বেশি পৃষ্ঠার কেস ডায়েরি (সিডি) তৈরি করা হয়েছে। এ ঘটনার তদন্ত কাজে সিআইডির ৪টি টিম ২৫ মাস ধরে কাজ করেছে।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাস স্ট্যান্ডের কাছে ‘রানা প্লাজা’ নামে একটি বহুতল ভবনটি আকস্মিকভাবে ধসে পড়ে। এতে ওই ভবনে থাকা পাঁচটি পোশাক কারখানার ১১৩৩ জন শ্রমিক নিহত ও প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিককে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়েছেন ৭৭ শ্রমিক। উদ্ধার হওয়া লাশের মধ্যে ৩২২টি বেওয়ারিশ হিসেবে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। নিখোঁজ অনেক শ্রমিকেরই সন্ধান মেলেনি বলে স্বজনদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে।

রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় ঐ রাতেই সাভার থানায় দুটি মামলা করে স্থানীয় পুলিশ ও রাজউক কর্তৃপক্ষ। এরপর নিহত পোশাক শ্রমিক জাহাঙ্গীরের স্ত্রী শিউলী আক্তার আদালতে আরও একটি মামলা দায়ের করেন। একই ঘটনায় দুইটি হত্যা মামলা দায়ের হওয়ায়, শিউলী আক্তারের মামলাটি পুলিশের বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। অন্যদিকে, রানার ইটভাটা থেকে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার তদন্ত শেষে আগেই চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দিয়েছে ঢাকা জেলার গোয়েন্দা পুলিশ।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২ জুন, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৪
যোহর১১:৫৭
আসর৪:৩৬
মাগরিব৬:৪৫
এশা৮:০৮
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪০
পড়ুন