ঘুরে বেড়াচ্ছে দণ্ডপ্রাপ্ত ১৪ আসামি
বিশ্বজিত হত্যা মামলার পেপারবুক প্রস্তুত
ইত্তেফাক রিপোর্ট২০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
ঘুরে বেড়াচ্ছে দণ্ডপ্রাপ্ত ১৪ আসামি
পুরান ঢাকার দর্জি দোকানি বিশ্বজিত্ দাস হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিসহ যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ১৪ জন সাজা পরোয়ানা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কেউ আছেন দেশে, কেউবা বিদেশে। বিচার ও রায় ঘোষণার সময় থেকে পলাতক থাকায় নিন্ম আদালত এসব আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করে। ওই সাজা পরোয়ানা মাথায় নিয়ে আসামিদের প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগ থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। নিন্ম আদালতের রায় ঘোষণার পর তিন বছর অতিবাহিত হলেও দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিশ্বজিতের পরিবারের সদস্যরা।

এদিকে এই হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের শুনানি হবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে। এই লক্ষ্যে মামলার সকল পেপার বুক প্রস্তুত করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নির্দেশের পরেই হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে এ মামলার পেপার বুক প্রস্তুতের জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। এরপরই বিজি প্রেস পেপার বুক প্রস্তুত করে দেয়। এ প্রসঙ্গে হাইকোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো. সাব্বির ফয়েজ ইত্তেফাককে বলেন, প্রধান বিচারপতির অনুমোদনের পরেই চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার পেপার বুক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন দ্রুত শুনানির জন্য নথি প্রধান বিচারপতির কাছে উপস্থাপন করা হবে। প্রধান বিচারপতি ডেথ রেফারেন্স মামলার শুনানির এখতিয়ার আছে এমন হাইকোর্ট বেঞ্চে পাঠালে সেখানেই এর শুনানি হবে।

আসামি গ্রেপ্তার না হওয়া প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া ইত্তেফাককে বলেন, বিশ্বজিত হত্যা মামলার আসামিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে এই অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা তাদেরকে পাওয়া মাত্রই গ্রেপ্তার করব।

গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মিজানুর রহমান জানান, এই হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি কারাগারে রয়েছেন। এর মধ্যে ৫ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও ২ জন যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম আমিনুল ইসলাম বলেন, পলাতক কোন আসামির দণ্ড হলে বিচারিক আদালত সাজা পরোয়ানা জারি করে থাকে। মামলার নথিতে আসামির যে ঠিকানা দেওয়া থাকে সংশ্লিষ্ট ঠিকানা ও থানা বরাবর সাজা পরোয়ানা যায়। পরোয়ানার একটি কপি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর পাঠানো হয়। এরপরই সংশ্লিষ্ট থানা আসামি গ্রেপ্তারে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে থাকে।

২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর বিএনপির ডাকা সকাল-সন্ধ্যা অবরোধের সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ভেবে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের সামনে ছাত্রলীগের একদল কর্মী বিশ্বজিেক পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। নিরীহ ওই যুবককে দিন-দুপুরে নৃশংসভাবে হত্যার দৃশ্য টেলিভিশনে দেখে আঁঁতকে উঠেছিল দেশের মানুষ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০১৩ সালের মার্চ মাসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ২১ নেতা-কর্মীকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ওই বছরের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক নিজামুল হক ৮ জনকে ফাঁসি ও ১৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন রফিকুল ইসলাম ওরফে চাপাতি শাকিল, মাহফুজুর রহমান নাহিদ, ইমদাদুল হক এমদাদ, জিএম রাশেদুজ্জামান শাওন, সাইফুল ইসলাম, কাইয়ুম মিয়া টিপু, রাজন তালুকদার (পলাতক) ও মীর মো. নূরে আলম লিমন (পলাতক)। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে এএইচএম কিবরিয়া ও গোলাম মোস্তফা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। পলাতকরা হলেন, খন্দকার ইউনুছ আলী, তারিক বিন জোহর ওরফে তমাল, আলাউদ্দিন, ওবায়দুল কাদের তাহসিন, ইমরান হোসেন, আজিজুর রহমান, আল আমিন, রফিকুল ইসলাম, মনিরুল হক পাভেল, কামরুল হাসান ও মোশারফ হোসেন। রায়ের পর বিচারিক আদালতের ফাঁসির রায় অনুমোদনের জন্য নথি ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত কারাবন্দি আসামিরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। এরপর রই মামলার পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। বিজি প্রেস পেপারবুক প্রস্তুত করে তা সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
ফজর৫:১২
যোহর১২:১৩
আসর৪:২০
মাগরিব৬:০০
এশা৭:১৩
সূর্যোদয় - ৬:২৮সূর্যাস্ত - ০৫:৫৫
পড়ুন