আগামী বছর থেকে গ্যাসে শুল্ক নয়
উচ্চমূল্যের এলএনজি আমদানির পর দাম নিয়ন্ত্রণে
মাহবুব রনি২১ জুন, ২০১৭ ইং
আগামী বছর থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি শুরুর পর প্রাকৃতিক গ্যাসের উপর বিদ্যমান ৯৩ দশমিক ২৪ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে দেশে উত্পাদিত এবং আমদানিকৃত এলএনজি- দুই ধরনের গ্যাসের উপর বিদ্যমান ২৮ দশমিক ৯৮৬ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক-ভ্যাট) বহাল থাকবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গত ১২ জুন এক চিঠিতে বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়কে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়। জ্বালানি বিভাগের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

বর্তমানে গ্যাস ব্যবহারকারী গ্রাহক সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট মিলিয়ে মোট ১২২ দশমিক ২২ শতাংশ কর-শুল্ক দেন। উচ্চমূল্যের এলএনজি আমদানির পর দেশে গ্যাসের দাম বেড়ে যাবে। শুল্ক অব্যাহতি দেয়া হলে   দেশীয় গ্যাস মিশিয়ে অপেক্ষাকৃত কমমূল্যে গ্যাস সরবরাহ করা যাবে। এ জন্যই শুল্ক অব্যাহতি দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশে বর্তমানে গ্রাহকরা গড়ে প্রতি মিটার গ্যাস কিনছেন প্রায় সাড়ে ৬ টাকায়। শুল্ক প্রত্যাহার করা না হলে ২০১৮ সালে যখন এলএনজি বাজারজাত করা হবে তখন এর দাম বেড়ে ৩২ টাকা ৫৩ পয়সায় দাঁড়াতে পারে। অর্থাত্ গ্রাহকদেরকে বর্তমানের চেয়ে ৪২৫ শতাংশ বেশি দামে গ্যাস কিনতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে শুল্ক অব্যাহতি দেয়ায় ভবিষ্যতে গ্যাসের দাম কিছুটা কমানো যাবে। তবে হ্রাসকৃত ওই গ্যাসের দাম নিশ্চিতভাবেই বর্তমান মূল্যের চেয়ে বেশিই হবে।

বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, এলএনজি আমদানিতে বিদ্যুত্ ও শিল্প উত্পাদন খরচ বেড়ে যাবে। সার্বিকভাবে গ্যাসের দামও বাড়বে। তবে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের কারণে শিল্প উত্পাদন সহজ ও দ্রুততর হবে। উত্পাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে খরচ করার ক্ষমতাও বাড়বে।

বর্তমানে দেশের ২০টি গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করে পেট্রোবাংলা। চাহিদার চেয়ে দৈনিক ৮৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ করা হচ্ছে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, গ্যাস সংকট মোকাবিলায় বর্তমানে সরকার এলএনজি আমদানির প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। বার্ষিক ৩ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন টন এলএনজি আমদানিতে কাতারের রাসগ্যাসের সঙ্গে আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জি মহেশখালীতে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করছে। এটি থেকে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস রিগ্যাসিফিকেশন করা যাবে। ২০১৮ সালের শেষ অক্টোবর-ডিসেম্বরের যেকোনো সময় এ টার্মিনাল ব্যবহার করে গ্যাস সরবরাহ করা যাবে। দেশীয় কোম্পানি সামিট এবং বেক্সিমকোও এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের অনুমোদন পেয়েছে।

গত ১ জুন থেকে কার্যকর বর্ধিত মূল্যহার অনুযায়ী বর্তমানে গৃহস্থালিতে এক ও দুই চুলার গ্যাসের মাসিক দাম যথাক্রমে ৯০০ ও ৯৫০ টাকা। আবাসিকের মিটারভিত্তিক প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ১১ টাকা ২০ পয়সা।

গাড়িতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহূত রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস বা সিএনজির দাম প্রতি ঘনমিটার ৪০ টাকা। ক্যাপটিভ পাওয়ারে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৯ টাকা ৬২ পয়সা। শিল্প খাতে প্রতি ঘনমিটার গ্যাস ৭ টাকা ৭৬ পয়সা। বাণিজ্যিক খাতে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ১৭ টাকা ৪ পয়সা এবং চা বাগানে প্রতি মিটার গ্যাসের দাম ৭ টাকা ৪২ পয়সা। গ্যাসের মূল দামের সাথে ১২২ দশমিক ২২ শতাংশ কর-শুল্কসহ এ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২১ জুন, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পড়ুন