মুক্তামনির প্রথম দফার অপারেশন সফল
চিকিত্সকদের ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী
ইত্তেফাক রিপোর্ট১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
মুক্তামনির প্রথম দফার অপারেশন সফল
শেষ পর্যন্ত দেশের চিকিত্সকরাই অপারেশন করলেন বিরল রোগে আক্রান্ত শিশু মুক্তামনির। অপারেশন শেষে পুরো চিকিত্সা প্রক্রিয়ার সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘আমরা সফল হয়েছি। তার হাতটি রেখেই অপারেশন করা হয়েছে।  তবে এখানেই শেষ নয়, আরো ৪/৫টি অপারেশন করতে হবে। ২০ জন চিকিত্সকের একটি দল অপারেশন করেছে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের ধন্যবাদ দিয়েছেন। আমরা সবাই খুশি, ভালো আছে মুক্তামনি।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক ডা. আবুল কালামের নেতৃত্বে বিভিন্ন বিভাগের চিকিত্সকরা অপারেশনে অংশ নেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মুক্তামনির চিকিত্সা সংক্রান্ত সব কাগজপত্র সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। সেখানকার চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, এই ধরনের রোগ তারা আগে দেখেননি। এই অপারেশন করতেও অপারগতা প্রকাশ করেন তারা। এরপরই প্রধানমন্ত্রী দেশের চিকিত্সকদের অপারেশনের প্রস্তুতি নিতে বলেন। গত ৫ আগস্ট থেকে চিকিত্সকরা অপারেশনের প্রস্তুতি শুরু করেন। কাল হল চূড়ান্ত অপারেশন। 

এতোদিন মুক্তামনির রোগটিকে বিরল রোগ বলা হলেও গত ৫ আগস্ট তার বায়োপসি করার পর জানা গেছে মুক্তামনির রক্তনালীতে টিউমার হয়েছে যেটাকে চিকিত্সা বিজ্ঞানে হেমানজিওমা বলা হয়ে থাকে। এরপর অপারেশনের প্রস্তুতি নেন চিকিত্সকরা। 

গতকাল শনিবার সকাল ৮টার দিকে মুক্তামনিকে অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) নেওয়া হয়। সকাল পৌনে ৯টার দিকে চিকিত্সকরা ওটিতে প্রবেশ করেন। সকাল ৯টার দিকে মুক্তামনির অস্ত্রোপচার শুরু হয়। অস্ত্রোপচার করে তার হাত থেকে তিন কেজি মাংসপিণ্ড ফেলে দেওয়া হয়েছে। এগুলো পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। অপারেশনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. সামন্ত লাল বলেন, অপারেশন সফল হয়েছে। মুক্তামনি ভালো আছে। তার হাতের ডিজিজ পোরশন (রোগাক্রান্ত অংশ) কেটে ফেলতে আমরা সক্ষম হয়েছি। তবে এক অপারেশনেই এটা শেষ হবে না। আরো অন্তত ৪/৫টি অপারেশন করা লাগবে। তার জ্ঞান ফিরেছে, কথা বলেছে। এ সাফল্য আমাদের একার না। বার্ন ইউনিটসহ সবার। অপারেশনের সময় জাতীয় হূদরোগ ইন্সটিটিউটের দুইজন ভার্সকুলার সার্জন উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ধীরে ধীরে তার হাত স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

ঝুঁকি ও রক্তক্ষরণের আশঙ্কা আছে কিনা জানতে চাইলে ডা. আবুল কালাম বলেন, ‘ঝুঁকিমুক্ত কখনোই বলা যাবে না। তবে ডেফিনেটলি ঝুঁকি কমে এসেছে।’ মুক্তামনির আবারও এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা তার হাতের বেশিরভাগ অংশটুকু ফেলে দিয়েছি। আপনারাও জানেন ওর শরীরের বেশ কিছু অংশে রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। সেগুলো আমরা রিমুভ করবো। আমরা এটুকু বলতে পারি, হাতের রোগাক্রান্ত যেটুকু অংশ ফেলে দিয়েছি সেখানে আর এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’ মুক্তামনি কেমন আছে জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা যতটা প্রত্যাশা করেছিলাম মুক্তামনি তার থেকেও ভালো আছে।’

মুক্তামনির বাবা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ‘অপারেশনের পর আমরা মেয়ের পাশেই আছি। সে কথা বলছে। আমরা খুবই খুশি। আমি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই, দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানাই। আমি সবার কাছে দোয়া চাই যেন সুস্থ করে মেয়েকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারি। এখন পর্যন্ত সবার কাছ থেকে যে সহযোগিতা পেয়েছি তার জন্য আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ। মেয়ে ভালো হবে এমন কিছু আমি কখনই প্রত্যাশা করিনি।’

অপারেশনের পর আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পরিচালক ডা. জুলফিকার লেনিন বলেন, ‘মুক্তামনির ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী সব সময় খোঁজখবর রেখেছেন। তিনি আজকের বিষয়ও সবকিছু জানেন। আমাদের দিক থেকে যতদিন প্রয়োজন হবে ততদিন সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।’ এরপর চিকিত্সকদের সঙ্গে কথা বলে মুক্তামনির সফল অপারেশনের জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত খুশি হয়েছেন। অস্ত্রোপচারের সঙ্গে যুক্ত সব চিকিত্সকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী মুক্তামনির সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন। সফল অস্ত্রোপচার হওয়ায় তিনি খুব খুশি হয়েছেন।’

সাতক্ষীরায় জন্মের দেড় বছর বয়স থেকে মুক্তামনির ডান হাতের সমস্যার শুরু। প্রথমে হাতে টিউমারের মতো হয়। ছয় বছর বয়স পর্যন্ত টিউমারটি তেমন বড় হয়নি। কিন্তু পরে তার ডান হাতটি ফুলে অনেকটা কোলবালিশের মতো হয়ে যায়। সে বিছানাবন্দী হয়ে পড়ে।

মুক্তামনির রোগ নিয়ে সমপ্রতি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা শুরু হয়। গত ১১ জুলাই মুক্তামনিকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। এরপরই প্রধানমন্ত্রী তার চিকিত্সার দায়িত্ব দেন। সবাই এগিয়ে আসেন।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
ফজর৪:১৩
যোহর১২:০৪
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৩৭
এশা৭:৫৪
সূর্যোদয় - ৫:৩৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩২
পড়ুন