রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতির অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য প্রত্যাহার দাবি
১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

বিশেষ প্রতিনিধি

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ অগণতান্ত্রিক শক্তিকে ক্ষমতায় আনার পথ সুগম করবে বলে মনে করে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ। এ কারণে রায়ে যে সব ‘আপত্তিকর, অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক, অপ্রাসঙ্গিক’ পর্যবেক্ষণ রয়েছে, সেগুলো স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এ দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আজ রবিবার আগামী বুধ ও বৃহস্পতি (১৩, ১৬ ও ১৭ আগস্ট) দুপুরে সারা দেশের আইনজীবী সমিতিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা এবং আগামীতে কঠোর কর্মসূচি পালনের হুমকি দিয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের একমাত্র এই সংগঠনটি।

গতকাল শনিবার সকালে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন সংগঠনের নেতারা। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। উপস্থিত ছিলেন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য কাজী নজিবুল্লাহ হিরু।

আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে প্রধান বিচারপতি যেসব অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য এবং পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, তা দেশের আইনজীবী সমাজকে সংক্ষুব্ধ এবং ব্যথিত করেছে। রায়ে অপ্রাসঙ্গিকভাবে বঙ্গবন্ধু, জাতীয় সংসদ এবং অধস্তন আদালতের প্রতি রাষ্ট্রপতির নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচন কমিশন নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন তিনি।’

ফজলে নূর তাপসে বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে একটি দল ও মহল বিচারাঙ্গনকে ‘বিতর্কিত করার পাঁয়তারা’ করছে। আমরা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে দেশবাসী দায়িত্বশীল আচরণ আশা করেন। বঙ্গবন্ধুকে ইঙ্গিত করে তিনি যে বক্তব্য লিখেছেন তাতে আইনজীবীসহ সারাদেশের মানুষ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। বিষয়টি আমাদের পবিত্র সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত ও মীমাংসিত। তিনি জাতীয় সংসদ সম্পর্কে কটূক্তি করেছেন এবং এই প্রতিষ্ঠানকে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন। আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, এমন পর্যবেক্ষণ অসাংবিধানিক ব্যক্তিদের ক্ষমতায় আসার পথ সুগম করে। ফলে এসব মতামত-পর্যবেক্ষণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা অবশ্যই প্রত্যাহার করতে হবে।

রায় নিয়ে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের প্রতিক্রিয়াকে সমর্থনও জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ। ‘দেশের রাজনৈতিক অপশক্তিকে ইস্যু তৈরি করে দিতে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি করার অপচেষ্টা চলছে।

ফজলে নূর তাপস বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। আইনমন্ত্রী, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিয়েছেন। এতে আমরা মনে করেছি, এ রায় নিয়ে কোনো মহল বিচারাঙ্গনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে কোনো বক্তব্য দেবে না। প্রধান বিচারপতির প্রতি দেশবাসী দায়িত্বশীল আচারণ আশা করে। বঙ্গবন্ধুকে ইঙ্গিত করে তিনি যে বক্তব্য লিখেছেন তাতে আইনজীবীসহ সারাদেশের মানুষ ক্ষুব্ধ।

এক প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, আমাদের এ বক্তব্য আদালতের বিরুদ্ধে নয়। রায়ে কিছু অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য এসেছে। যা দেশবাসীর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। রায়ে যে বলা হয় ‘এ দেশ একক নেতৃত্বে স্বাধীন হয়নি’ এটা অসত্য ও বেদনাদায়ক। আদালতের বিরুদ্ধে নয়, আমরা অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের বিরুদ্ধে কর্মসূচি দিয়েছি।

বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার বলেন, রায়ের পর্যবেক্ষণে অপ্রাসঙ্গিক, অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক কিছু মন্তব্য করা হয়েছে। সেগুলোর বিরুদ্ধে আমাদের কর্মসূচি। সূচনা বক্তব্যে আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ষড়োশ সংশোধনী নিয়ে আদালতের এ ধরনের পর্যবেক্ষণ অনাকাঙ্ক্ষিত, অনভিপ্রেত ও অপ্রাসঙ্গিক। আদালতের অনাকাঙ্ক্ষিত পর্যবেক্ষণের সুযোগ নিয়ে এবং রায়ের বিকৃত ব্যাখ্যা দিয়ে বিএনপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা সারাদেশে আইনজীবীদের নিয়ে কর্মসূচি দিয়েছে। এ পর্যবেক্ষণ আমাদের ব্যথিত করেছে। স্বাধীনতায় বিশ্বাসী আইনজীবীরাও আজকে কর্মসূচি ঘোষণা করবে, সে কারণেই সাংবাদিকদের ডাকা হয়েছে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
ফজর৪:১৩
যোহর১২:০৪
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৩৭
এশা৭:৫৪
সূর্যোদয় - ৫:৩৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩২
পড়ুন