এবার রাজশাহীতে প্রসূতির পেটে গজ রেখে সেলাই
১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী

এবার রাজশাহীতে স্বাধীনা আকতার শিলা (২২) নামের এক প্রসূতির সিজারের সময় পেটে গজ রেখে সেলাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে সুস্থ না হওয়ায় আরো দুই দফা অস্ত্রোপচারে যেতে হয় তাকে। তবে শেষ দফা অস্ত্রোপচারে অপসারণ করা হয়েছে পেটের গজ। এই ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি করেছেন সিভিল সার্জন। স্বাধীনা আকতার শিলা জেলার চারঘাট উপজেলার নন্দনগাছি ফকিরপাড়া এলাকার হাফিজুর রহমানের স্ত্রী। সংকটাপন্ন অবস্থায় বর্তমানে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ওই গৃহবধূ। তবে জন্মের তিনদিনের মাথায় মারা গেছে নবজাতক।

স্বাধীনার বাবা ইদ্রিস আলী জানান, ১৭ অক্টোবর প্রসব বেদনা নিয়ে শিলাকে ভর্তি করানো হয় নগরীর নওদাপাড়ার ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ওইদিন সন্ধ্যায় সিজার করার সিদ্ধান্ত জানান আবাসিক সার্জন ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সুলতানা নাজনীন রিতা। সেদিনই সিজার করে ছেলে সন্তান প্রসব করান চিকিত্সক। তবে তিনদিনের মাথায় ২০ অক্টোবর দুপুরে হাসপাতালেই মৃত্যু হয় নবজাতকের। ওইদিন সন্ধ্যার আগেই শিলাকে ছাড়পত্র দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে অসুস্থ বোধ করায় রামেক হাসপাতালের স্ত্রীরোগ কনসালট্যান্ট ডা. মনোয়ারা বেগমের পরামর্শে নগরীর লক্ষ্মীপুর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে আরেকবার আলট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। ওই রিপোর্টে প্রসূতির ডিম্বাশয়ে সংক্রামণের কথা জানানো হয়। ৩০ অক্টোবর সকালে রামেক হাসপাতালে দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিলার ডিম্বাশয় থেকে পুঁজ অপসারণ করেন ডা. মনোয়ারা বেগম। এরপর ৭ নভেম্বর রোগী সুস্থ বলে ছাড়পত্র দেন চিকিত্সক।

শিলার স্বামী হাফিজুর রহমানের ভাষ্য: চিকিত্সকের ব্যবস্থাপত্র মেনে ওষুধ চলছিল। তারপরও দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার শেষে বাড়িতে ফিরে আবারও প্রচণ্ড জ্বরসহ তলপেটে তীব্র ব্যথা অনুভব শুরু হয় শিলার। এছাড়া প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে পুঁজ ও রক্ত যাওয়া শুরু হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে ২৮ নভেম্বর শিলাকে ফের রামেক হাসপাতালে নেয়া হয়। রামেকের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নাজমুন নাহার তারা আবারও আলট্রাসনোগ্রামের পরামর্শ দেন। আলট্রাসনোগ্রামের রিপোর্টে রোগীর ডিম্বাশয়ে গজ এবং সংক্রামণের কথা জানানো হয়।

সর্বশেষ গত ৩ ডিসেম্বর রামেক হাসপাতালে তৃতীয় দফা অস্ত্রোপচার হয় শিলার। এবার ডা. নাজমুন নাহার তারা অস্ত্রোপচার করে রয়ে যাওয়া গজ ও পুঁজ অপসারণ করেন। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে উন্নতি হতে শুরু করে শিলার শারীরিক অবস্থা। এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সুলতানা নাজনীন রিতা বিষয়টি এড়িয়ে যান। সর্বশেষ অস্ত্রোপচারকারী চিকিত্সক নাজমুন নাহার তারা বলেন, স্বাধীনার পেটে গজ ব্যান্ডেজ ছিল। সেটাই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছে।

সমপ্রতি পটুয়াখালীর বাউফলের একটি ক্লিনিকে মাকসুদা বেগম নামে এক প্রসূতির পেটে গজ রেখে সেলাই দেন এক চিকিত্সক। ওই ঘটনায় গত বুধবার ভুল অস্ত্রোপচারের শিকার ওই গৃহবধূকে ৯ লাখ টাকা দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

 

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৫:১২
যোহর১১:৫৪
আসর৩:৩৯
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৫
সূর্যোদয় - ৬:৩৩সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পড়ুন