সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ইসিকে সহযোগিতা করবে সরকার
সংসদে প্রধানমন্ত্রী
বিশেষ প্রতিনিধি১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ইসিকে সহযোগিতা করবে সরকার
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারে। নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনায় দেশের জনগণ সুষ্ঠুভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন তাদের অর্পিত সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের সকল           কার্যক্রম গ্রহণ করবে বলে সরকার প্রত্যাশা করে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে সরকার।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ৩০ মিনিটের প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুষ্ঠুভাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুসারে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার জন্য জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পূর্বে ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে অনেক তথ্য আছে

সংসদ সদস্য মোঃ আবদুল্লাহ’র প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ পর পর দুবার সরকার গঠন করার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পূর্বে ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে অনেক তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। এতে দেখা যায় যে, পরোক্ষভাবে দেশি ও বিদেশি কিছু লোক ও সংস্থা বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। তাই জাতির পিতা হত্যার ব্যাপারে অন্যান্য পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করার জন্য একটি কমিশন গঠনের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর যেসব খুনি বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছে এবং আশ্রয় গ্রহণ করেছে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। এ সংক্রান্ত একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটিতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্মিলিতভাবে কাজ করছে। এখনো যে সব খুনি বিভিন্ন দেশে পালিয়ে বা আশ্রয় গ্রহণ করে আছে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন। তিনি জানান, পলাতক আসামি নূর চৌধুরী কিভাবে কানাডায় বসবাস করছেন সে সম্পর্কে তথ্য দিতে ফেডারেল কোর্ট অব জাস্টিসের আদালতে আবেদন করা হয়েছে। পলাতক আসামি রাশেদ চৌধুরীকে আমেরিকা থেকে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক ও আইনি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য পলাতক আসামি ফিরিয়ে আনতে টাস্কফোর্স কাজ করছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়তে সরকার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে বর্তমান সরকার রূপকল্প-২০২১, দিনবদলের সনদ, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে, দেশের জনগণের সার্বিক মুক্তি-অর্জন এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা নিশ্চিতকরণে আওয়ামী লীগ সরকার নানাবিধ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

নির্বাচনী ইশতেহার ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’। এর আলোকে আগামী তিন বছরের মধ্যে রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের শেষপর্যায়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ‘রূপকল্প-২০৪১’ প্রণয়ন করে জাতির সামনে উপস্থাপন করবো। এ পরিকল্পনার লক্ষ্য হচ্ছে, আগামী ২৩ বছরের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশের কাতারে দেশকে নিয়ে যাওয়া। রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৪১ সালের বাংলাদেশ হবে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তুলনীয় এক শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ, সুখী এবং উন্নত জনপদ। রূপকল্প-৪১ বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরো বাড়ানো হবে। বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বহির্বিশ্বের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক স্থাপনের উপর জোর দেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপদ সড়ক সংক্রান্ত ৯ দফা দাবির অধিকাংশই বাস্তবায়ন করা হয়েছে

জাতীয় পার্টির (এ) সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য বেগম নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক সংক্রান্ত ৯ দফা দাবির অধিকাংশই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’র খসড়া বিলটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে। যা সংসদের চলতি অধিবেশনে উপস্থাপিত ও বিবেচিত হবে। এ আইনে অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া ঘাতক বাস দুটি চালক, হেলপার, মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনের আওতায় কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

মানুষের মানসিকতা পরিবর্তন না হলে কিছুই হবে না

ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, নিরাপদ সড়কের জন্য যতই ব্যবস্থা নেওয়া হোক না কেন, দেশের মানুষের মানসিকতা পরিবর্তন না হলে কিছুই হবে না। অনেকেই ফুটওভার ব্রিজ কিংবা আন্ডারপাস ব্যবহার না করে ছোট শিশুকে নিয়ে চলন্ত গাড়ির মধ্য দিয়েই রাস্তা পারাপার হতে দেখা যায়। এ সময় দ্রুত যানবাহন কিভাবে হঠাত্ করে থামবে? সে বিষয়টিও দেখতে হবে। এ কারণেই দুর্ঘটনা হয়। এখানে ড্রাইভারের দোষ কতটুকু আর ট্রাফিক আইন না মেনে যিনি ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হচ্ছেন তার দোষ কতটুকু- তাও বিবেচনায় আনা দরকার।

কোথাও দুর্ঘটনা হলে আইন নিজের হাতে না নিয়ে ড্রাইভারকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করার আহ্বান

কোথাও দুর্ঘটনা হলে আইন নিজের হাতে না নিয়ে ড্রাইভারকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় ড্রাইভার প্রাণের ভয়ে গাড়ি না থামিয়ে দ্রুত গাড়ি টেনে চলে যান। এতে অনেকের প্রাণে বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও এ ঘটনায় থাকে না। কারণ ড্রাইভারকে অনেক সময় মারতে মারতে মেরেই ফেলা হয়। তাই আইন কারোর হাতে তুলে নেয়া উচিত নয়। আর অনেকেরই রাস্তা পারাপারে জনসচেতনার বড়ই অভাব দেখা যায়। তাই সবার প্রতি অনুরোধ ট্রাফিক আইন মেনে চলুন। আমরা জড়িত ড্রাইভারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। কিন্তু যারা যত্রতত্রভাবে রাস্তা পার হচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা না নিলে তো সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধ হবে না।

যানজট নিরসনে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও গোটা ঢাকাকে ঘিরে রিং রোড নির্মাণের পরিকল্পনা

ঢাকার যানজট নিরসন সম্পর্কে স্বতন্ত্র দলীয় সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যানজট নিরসনে রাজধানীতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও গোটা ঢাকাকে ঘিরে রিং রোড নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছি। তিনি বলেন, পৃথিবীর বহু দেশের রাজধানীতেই যানজট হয়। দেশ দ্রুত উন্নত হচ্ছে, দেশের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হচ্ছে ও আর্থিক সচ্ছলতা বাড়ছে বলেই তারা গাড়ি কিনছে। গাড়ি রাস্তায় বেশি ব্যবহার হচ্ছে বলেই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:২৮
যোহর১১:৫৫
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০৮
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৩
পড়ুন