ঢাকা সোমবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৬ ফাল্গুন ১৪২৫
১৬ °সে

মাদকবিরোধী অভিযান চলবে, সমাজে ফেরার সুযোগও দিতে হবে

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রী
মাদকবিরোধী অভিযান চলবে, সমাজে ফেরার সুযোগও দিতে হবে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে এসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন —ফোকাস বাংলা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশব্যাপী চলমান মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে যারা সুস্থভাবে সমাজে ফিরতে চাইবে, তাদের সুযোগ করে দিতে হবে। মাদকাসক্তদের নিরাময়েরও উদ্যোগ নিতে হবে। দুর্নীতি, মাদক এবং জঙ্গিবাদ উচ্ছেদ করে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি শান্তিপূর্ণ সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যেতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

কক্সবাজারে পুলিশের তালিকাভুক্ত একদল মাদক চোরাকারবারির আত্মসমর্পণে সম্মত হওয়ার খবরের মধ্যেই গতকাল রবিবার সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কারা মাদক দেশে নিয়ে আসছে, কারা ব্যবসা করছে এবং কারা সেবন করছে— এদের সবার বিরুদ্ধেই বহুমুখী ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি সরকারের পক্ষ থেকে মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপন এবং মাদকের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় দুর্নীতি একটি কালো ব্যাধির মতো ছেয়ে গেছে। কারণ যে দেশে সামরিক সরকার ক্ষমতায় আসে তারা প্রথমে সমাজটাকে ধ্বংস করে দেয়। দুর্নীতিটাকেই তারা নীতি হিসেবে নেয় এবং দুর্নীতির সুযোগও সৃষ্টি করে দেয়।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশে ঋণখেলাপি থেকে দুর্নীতিবাজ যাদের আমরা দেখি, তাদের সৃষ্টি হয় ’৭৫-এর পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল তাদের কাছ থেকে। এই কালো ব্যাধি থেকে সমাজকে মুক্ত করার লক্ষ্যে যা যা করণীয় তার সরকার তা করে যাবে বলে ঘোষণা দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘একটি দেশকে যদি আমরা উন্নত করতে যাই তাহলে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এবং দুর্নীতির হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, অতীতে দেশে জঙ্গিবাদ তথা বাংলাভাই সৃষ্টিতে সে সময়কার সরকারের (বিএনপি-জামায়াত) একটি প্রচ্ছন্ন মদদ ছিল। তারা (জঙ্গিরা) মিছিল করছে আর পুলিশ তাদের পাহারা দিচ্ছে। এরকম দুঃখজনক ঘটনাও আমরা বাংলাদেশে দেখেছি। আর মাদক তো ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সমাজে অপরাধপ্রবণতার হার কমিয়ে আনার জন্য অপরাধ দমনের পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনের কারণ খুঁজে বের করা এবং তার প্রতিকারের প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার জন্যও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের শাস্তি দিলেই যে অপরাধ দমন হয়ে যাবে তা নয় বরং তাদের সমাজে সুস্থ জীবন দিয়ে ফিরিয়ে আনতে পারাটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’ এ সময় জলদস্যু এবং বনদস্যুদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করানোর পর তাদের সমজে পুনর্বাসনে তার সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এদের পুনর্বাসন করা না গেলে তারা আবারও ঐ পথে ফিরে যেতে পারে।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একটি বিশাল মন্ত্রণালয় উল্লেখ করে অতীতে এর পর্যাপ্ত লোকবল না থাকার বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এজন্যই তার সরকার এ মন্ত্রণালয়কে দুটি ভাগে ভাগ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস কেবল আমাদের দেশেরই সমস্যা নয়, এটি বিশ্বব্যাপী একটি সমস্যা। কাজেই একে আমাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতেই হবে।’ এ সময় দেশের কারাগারগুলোকে সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তোলায় তার সরকারের উদ্যোগসমূহ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাজার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তারা যেন কিছু পুঁজি নিয়ে যেতে পারে এবং পরবর্তী জীবনে তাদের যেন সেটা কাজে লাগে, সেজন্য কয়েদিদেরও নানা প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।’ তিনি জঙ্গিবাদ এবং জলদস্যু মোকাবিলায় র্যাব এবং গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকার প্রশংসা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অপরাধ দমনে আরও প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন হবার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রতি উপজেলাতে একটি করে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন করা হবে বলে জানান। প্রধানমন্ত্রী ১২৩ ভাগ বেতন বৃদ্ধি এবং সরকারি কর্মচারীদের আবাসন সমস্যা নিরসনে সরকারের উদ্যোগসমূহ তুলে ধরে বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছি উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত আমাদের সরকারি কর্মচারীদের আবাসন ব্যবস্থা করে দেওয়ার।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে এবং এ ব্যাপারেও যথেষ্ট সচেতন হতে হবে। অর্থাত্ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করাই এ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব।’ তিনি বলেন, ‘তার সরকার বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।’ এ সময় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জনবল বৃদ্ধি, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং প্রয়োজনীয় যানবাহনের ব্যবস্থা করাকে একটি চলমান প্রক্রিয়া উল্লেখ করে তিনি প্রতি বছর প্রয়োজনীয় জনবলের বিপরীতে কী পরিমাণ যানবাহন এবং জলযান লাগতে পারে তার একটি তালিকা প্রণয়নের পরামর্শ দেন। প্রধানমন্ত্রী দুর্ঘটনা রোধে জনগণকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার এবং রাস্তা পারাপারে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

শেখ হাসিনা টানা তৃতীয় বার এবং মোট চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন উপলক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। এ সময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন সংস্থা ও দপ্তরের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন