ঢাকা শনিবার, ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ৬ মাঘ ১৪২৫
২২ °সে

চট্টগ্রাম বিএনপিতে নির্বাচনী বিপর্যয়ের হতাশা কাটেনি

চট্টগ্রাম বিএনপিতে নির্বাচনী বিপর্যয়ের হতাশা কাটেনি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর হতাশা নেমে এসেছে চট্টগ্রাম বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে। একসময় দেশের রাজনীতিতে চট্টগ্রামের পরিচিতি ছিল বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনটি নির্বাচনে চট্টগ্রামের অধিকাংশ সংসদীয় আসনই ছিল এই দলটির দখলে। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির এই দুর্গে হানা দেয় আওয়ামী লীগ। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জেলা ও নগরীর ১০টি আসনে জয় লাভ করে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৬টি আসনের মধ্যে একটিও পায়নি বিএনপি। ১৩টি আসনেই জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। ৩টি আসনে জিতেছেন মহাজোটের শরিক দলের প্রার্থীরা।

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, একাদশ সংসদ নির্বাচনে চরম বিপর্যয়ের আঘাত এখনো তারা সামলে উঠতে পারেননি। তারা মনে করেন, প্রশাসনের ‘নগ্ন’ হস্তক্ষেপের জন্যই সারাদেশের মতো শক্ত ঘাঁটি চট্টগ্রামেও বিএনপির ভরাডুবি হয়েছে। নির্বাচনের আগে চট্টগ্রামের তিন সাংগঠনিক জেলা উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর কার্যালয় নেতাকর্মীদের আনাগোনায় সরগরম থাকলেও বর্তমানে তা স্থবির হয়ে পড়েছে। দলীয় কর্মসূচি না থাকায় নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। একসময় বিএনপি অফিসের সামনে সার্বক্ষণিক পুলিশ থাকত। বর্তমানে সেখানে পুলিশও দেখা যায় না। তবে আগামী ১৯ জানুয়ারি দলের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে কর্মসূচি দেয়া হতে পারে বলে বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন।

তবে সাংগঠনিকভাবে থিতিয়ে পড়ার পেছনে নির্বাচনে ভরাডুবিকে একমাত্র কারণ হিসেবে মনে করছেন না চট্টগ্রাম বিএনপির নেতারা। তাদের মধ্যে এখনো মামলা ও গ্রেফতার আতঙ্ক কাজ করছে। মামলার কারণে কয়েকশত নেতাকর্মী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। গত কয়েকদিনে তিন শতাধিক নেতাকর্মী জামিনে মুক্তি লাভ করলেও মহানগর সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা এখনও কারাগারে আছেন। শাহাদাতের বিরুদ্ধে মামলা আছে ৪৩টি। সম্প্রতি তাকে নগরীর কোতোয়ালী থানায় দায়ের হওয়া নাশকতার আরেকটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর ও কেন্দ যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী ও ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীও কারাগারে। এছাড়া নগরীর ৬টি থানা ও ১৫টি ওয়ার্ডের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েক’শ নেতা-কর্মী এখনও জেলে আছেন।

নগর বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক ইদ্রিস আলী ইত্তেফাককে বলেন, হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়া নেতা-কর্মীরা নিম্ন আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তাদেরকে পুনরায় কারাগারে পাঠিয়ে দিচ্ছে আদালত। গত বৃহস্পতিবার নগর বিএনপির ১৩ নেতা-কর্মীকে বাকলিয়া থানার একটি পুরনো মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ওই নেতা-কর্মীরা তাদের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে দায়ের হওয়া চারটি মামলায় জামিনে ছিলেন।

নগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম দুলাল বলেন, নির্বাচনে তথাকথিত বিশাল জয়ের পরও ক্ষমতাসীন দলের বিএনপি ভীতি কাটেনি। আমাদেরকে মামলায় জড়িয়ে হয়রানির কাজ অব্যাহত রয়েছে। আদালত জামিন দেয়াও আবার বন্ধ। এরপরও আমাদের সিনিয়র নেতারা তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে দলকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ জানুয়ারি, ২০১৯
আর্কাইভ
 
বেটা
ভার্সন